১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীতাকুণ্ডের সলিমপুর ফকিরহাটে ব্যস্ত মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড়, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনসাধারণ

দেশের অন্যতম ব্যস্ত ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের পশ্চিম পাশে সীতাকুণ্ড উপজেলার ১০ নম্বর ছলিমপুর ইউনিয়নের ফকিরহাট এলাকায় গড়ে উঠেছে বিশাল ময়লার ভাগাড়।

ফকিরহাটের ফুটওভারব্রিজের নিচে এবং সরকারি পোস্ট অফিস জাফরাবাদের দক্ষিণ পাশজুড়ে প্রতিদিন জমছে বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা। এতে পুরো এলাকা দুর্গন্ধময় ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরিণত হয়েছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, গাড়িচালক, চাকরিজীবী, ম্যাক্সি চালক ও পথচারীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফুটওভারব্রিজের নিচে ও আশপাশের বিস্তীর্ণ জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে পলিথিন, প্লাস্টিক, খাবারের উচ্ছিষ্ট, বিভিন্ন ধরনের বস্তা ও গৃহস্থালি বর্জ্যসহ নানা ধরনের আবর্জনা। কোথাও কোথাও পচা বর্জ্যের সঙ্গে নোংরা পানি জমে থাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র দুর্গন্ধ। প্রতিদিন বিভিন্ন ব্যক্তি এখানে ময়লা ফেলায় ধীরে ধীরে বড় আকার ধারণ করছে ময়লার স্তূপ।

এলাকাটি ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে হওয়ায় প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করে। পাশাপাশি ফকিরহাট এলাকার অসংখ্য মানুষ নিরাপদে মহাসড়ক পারাপারের জন্য ফুটওভারব্রিজটি ব্যবহার করেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনার নিচে ময়লার ভাগাড় গড়ে ওঠায় পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।

ফৌজদারহাট কে এম হাইস্কুলের ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আরিয়ানা মাহিন বলেন, প্রতিদিন স্কুল-কলেজে যাওয়া-আসার সময় এই ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু নিচে জমে থাকা ময়লার দুর্গন্ধে চলাচল করা কষ্টকর হয়ে যায়। গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে এমন পরিবেশ খুবই দুঃখজনক। দ্রুত ময়লা অপসারণ করা উচিত।

হযরত কালুশাহ ফাজিল মাদ্রাসা শিক্ষক মোহাম্মদ মনির উদ্দীন বলেন, এই পথ দিয়ে শিক্ষার্থীসহ নানা বয়সী মানুষ চলাচল করেন। দীর্ঘদিন ধরে আবর্জনা পড়ে থাকায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের স্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনা করে এখানে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন বলেন, প্রতিদিন দোকানে বসে দুর্গন্ধ সহ্য করতে হয়। বাইরে থেকে ক্রেতারা এলে এলাকার পরিবেশ দেখে বিরূপ মন্তব্য করেন। এতে ব্যবসার পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ট্রাকচালক মহিউদ্দিন জানান, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। মহাসড়কের পাশেই এমন ময়লার স্তূপ দেখতে খারাপ লাগে। দ্রুত জায়গাটি পরিষ্কার করা দরকার।

ম্যাক্সি চালক সালাউদ্দিন বলেন, ফকিরহাট এলাকায় প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী ওঠানামা করেন। যাত্রীরা ময়লার দুর্গন্ধ নিয়ে প্রায়ই অভিযোগ করেন। মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে এভাবে ময়লা পড়ে থাকা এলাকার ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। আমরা চাই দ্রুত ময়লা সরিয়ে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।

পথচারী নুরুল আলম বলেন, নিরাপদে মহাসড়ক পারাপারের জন্য আমরা এই ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করি। অথচ এর নিচেই ময়লার ভাগাড়। দুর্গন্ধে অনেক সময় নাক চেপে চলতে হয়। যারা প্রতিদিন এখানে ময়লা ফেলছেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

মোহাম্মদ কায়সারুল আলম নামের এক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের উচ্চ প্রদস্থ কর্মকর্তা বলেন, প্রতিদিন কর্মস্থলে যাওয়া-আসার পথে এই জায়গা পার হতে হয়। ময়লার কারণে পুরো এলাকা দুর্গন্ধময় হয়ে থাকে। বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদারকি করলে এমন অবস্থা তৈরি হতো না।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি নির্বিচারে এই স্থানে ময়লা ফেললেও তা বন্ধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ ও নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে আবর্জনার স্তূপ।

তিনি আরও বলেন, বর্ষাকালে এসব আবর্জনা বৃষ্টির পানিতে ভেসে আশপাশের নিচু এলাকা ও পানি চলাচলের পথে ছড়িয়ে পড়ে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়া, মশা-মাছির উপদ্রব বৃদ্ধি এবং জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে এভাবে ময়লার ভাগাড় গড়ে ওঠা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত জমে থাকা আবর্জনা অপসারণের পাশাপাশি সেখানে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট ডাস্টবিন বা বর্জ্য সংগ্রহের স্থান স্থাপন, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলার বিরুদ্ধে কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি—ফকিরহাট ফুটওভারব্রিজের নিচে ও সরকারি পোস্ট অফিস জাফরাবাদের দক্ষিণ পাশের এই ময়লার ভাগাড় দ্রুত অপসারণ করে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এ এলাকায় একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও জনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিক।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

সীতাকুণ্ডের আল বারাকা শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত ও ক্ষতিপূরণের দাবি

সীতাকুণ্ডের সলিমপুর ফকিরহাটে ব্যস্ত মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড়, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনসাধারণ

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:২৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

দেশের অন্যতম ব্যস্ত ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের পশ্চিম পাশে সীতাকুণ্ড উপজেলার ১০ নম্বর ছলিমপুর ইউনিয়নের ফকিরহাট এলাকায় গড়ে উঠেছে বিশাল ময়লার ভাগাড়।

ফকিরহাটের ফুটওভারব্রিজের নিচে এবং সরকারি পোস্ট অফিস জাফরাবাদের দক্ষিণ পাশজুড়ে প্রতিদিন জমছে বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা। এতে পুরো এলাকা দুর্গন্ধময় ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরিণত হয়েছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, গাড়িচালক, চাকরিজীবী, ম্যাক্সি চালক ও পথচারীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফুটওভারব্রিজের নিচে ও আশপাশের বিস্তীর্ণ জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে পলিথিন, প্লাস্টিক, খাবারের উচ্ছিষ্ট, বিভিন্ন ধরনের বস্তা ও গৃহস্থালি বর্জ্যসহ নানা ধরনের আবর্জনা। কোথাও কোথাও পচা বর্জ্যের সঙ্গে নোংরা পানি জমে থাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র দুর্গন্ধ। প্রতিদিন বিভিন্ন ব্যক্তি এখানে ময়লা ফেলায় ধীরে ধীরে বড় আকার ধারণ করছে ময়লার স্তূপ।

এলাকাটি ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে হওয়ায় প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করে। পাশাপাশি ফকিরহাট এলাকার অসংখ্য মানুষ নিরাপদে মহাসড়ক পারাপারের জন্য ফুটওভারব্রিজটি ব্যবহার করেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনার নিচে ময়লার ভাগাড় গড়ে ওঠায় পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।

ফৌজদারহাট কে এম হাইস্কুলের ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আরিয়ানা মাহিন বলেন, প্রতিদিন স্কুল-কলেজে যাওয়া-আসার সময় এই ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু নিচে জমে থাকা ময়লার দুর্গন্ধে চলাচল করা কষ্টকর হয়ে যায়। গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে এমন পরিবেশ খুবই দুঃখজনক। দ্রুত ময়লা অপসারণ করা উচিত।

হযরত কালুশাহ ফাজিল মাদ্রাসা শিক্ষক মোহাম্মদ মনির উদ্দীন বলেন, এই পথ দিয়ে শিক্ষার্থীসহ নানা বয়সী মানুষ চলাচল করেন। দীর্ঘদিন ধরে আবর্জনা পড়ে থাকায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের স্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনা করে এখানে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন বলেন, প্রতিদিন দোকানে বসে দুর্গন্ধ সহ্য করতে হয়। বাইরে থেকে ক্রেতারা এলে এলাকার পরিবেশ দেখে বিরূপ মন্তব্য করেন। এতে ব্যবসার পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ট্রাকচালক মহিউদ্দিন জানান, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। মহাসড়কের পাশেই এমন ময়লার স্তূপ দেখতে খারাপ লাগে। দ্রুত জায়গাটি পরিষ্কার করা দরকার।

ম্যাক্সি চালক সালাউদ্দিন বলেন, ফকিরহাট এলাকায় প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী ওঠানামা করেন। যাত্রীরা ময়লার দুর্গন্ধ নিয়ে প্রায়ই অভিযোগ করেন। মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে এভাবে ময়লা পড়ে থাকা এলাকার ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। আমরা চাই দ্রুত ময়লা সরিয়ে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।

পথচারী নুরুল আলম বলেন, নিরাপদে মহাসড়ক পারাপারের জন্য আমরা এই ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করি। অথচ এর নিচেই ময়লার ভাগাড়। দুর্গন্ধে অনেক সময় নাক চেপে চলতে হয়। যারা প্রতিদিন এখানে ময়লা ফেলছেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

মোহাম্মদ কায়সারুল আলম নামের এক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের উচ্চ প্রদস্থ কর্মকর্তা বলেন, প্রতিদিন কর্মস্থলে যাওয়া-আসার পথে এই জায়গা পার হতে হয়। ময়লার কারণে পুরো এলাকা দুর্গন্ধময় হয়ে থাকে। বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদারকি করলে এমন অবস্থা তৈরি হতো না।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি নির্বিচারে এই স্থানে ময়লা ফেললেও তা বন্ধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ ও নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে আবর্জনার স্তূপ।

তিনি আরও বলেন, বর্ষাকালে এসব আবর্জনা বৃষ্টির পানিতে ভেসে আশপাশের নিচু এলাকা ও পানি চলাচলের পথে ছড়িয়ে পড়ে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়া, মশা-মাছির উপদ্রব বৃদ্ধি এবং জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে এভাবে ময়লার ভাগাড় গড়ে ওঠা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত জমে থাকা আবর্জনা অপসারণের পাশাপাশি সেখানে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট ডাস্টবিন বা বর্জ্য সংগ্রহের স্থান স্থাপন, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলার বিরুদ্ধে কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি—ফকিরহাট ফুটওভারব্রিজের নিচে ও সরকারি পোস্ট অফিস জাফরাবাদের দক্ষিণ পাশের এই ময়লার ভাগাড় দ্রুত অপসারণ করে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এ এলাকায় একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও জনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিক।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;