১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগে তদন্ত, জানেননা সীতাকুণ্ড শিক্ষা কর্মকর্তা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের টেরিয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং বেআইনি প্রাইভেট কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক মোহাম্মদ শাহ এমদাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে তদারকি বিভাগ।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক মোহাম্মদ শাহ এমদাদ কয়েকজন নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনভিপ্রেত ও অশালীন আচরণ করেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে কোচিং চালানো এবং নিজের কাছে প্রাইভেট পড়া শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খাতায় অন্যায্যভাবে অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মারাত্মকভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছিল।

বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক মনিটরিং ও ইভালুয়েশন উইংয়ের এক নির্দেশের (অভিযোগ নং-৬৭/এ-১১) পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে জরুরি সভা ডাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ব্যবহার করে প্রাইভেট টিউশন ও কোচিং পরিচালনা অবিলম্বে বন্ধের তাগিদ দেওয়া হয়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাপ্ত জবাব সন্তোষজনক না হলে অভিযুক্ত শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ব্যক্তিগত শুনানির জন্য ডাকা হবে। সত্যতা প্রমাণিত হলে এমপিও (MPO) স্থগিতসহ কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মোহাম্মদ শাহ এমদাদ বলেন, “আমার আচরণে হয়তো কোনো শিক্ষার্থী মনঃক্ষুণ্ন হতে পারে। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে কর্তৃপক্ষ যে শাস্তি দেবে, আমি তা মেনে নেব।”

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রবিউল জানান, মন্ত্রণালয়ের চিঠির আলোকে তদন্ত শেষে ইতিমধ্যে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তবে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় সীতাকুণ্ড উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসমত আরা সম্পূর্ণ অজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাঠানো হলেও তা জানেন না বলে তাঁর দাবি। একজন দায়িত্বশীল শিক্ষা কর্মকর্তার এমন উদাসীনতায় স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

সীতাকুণ্ডের আল বারাকা শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত ও ক্ষতিপূরণের দাবি

নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগে তদন্ত, জানেননা সীতাকুণ্ড শিক্ষা কর্মকর্তা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:২৩:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের টেরিয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং বেআইনি প্রাইভেট কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক মোহাম্মদ শাহ এমদাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে তদারকি বিভাগ।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক মোহাম্মদ শাহ এমদাদ কয়েকজন নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনভিপ্রেত ও অশালীন আচরণ করেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে কোচিং চালানো এবং নিজের কাছে প্রাইভেট পড়া শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খাতায় অন্যায্যভাবে অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মারাত্মকভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছিল।

বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক মনিটরিং ও ইভালুয়েশন উইংয়ের এক নির্দেশের (অভিযোগ নং-৬৭/এ-১১) পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে জরুরি সভা ডাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ব্যবহার করে প্রাইভেট টিউশন ও কোচিং পরিচালনা অবিলম্বে বন্ধের তাগিদ দেওয়া হয়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাপ্ত জবাব সন্তোষজনক না হলে অভিযুক্ত শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ব্যক্তিগত শুনানির জন্য ডাকা হবে। সত্যতা প্রমাণিত হলে এমপিও (MPO) স্থগিতসহ কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মোহাম্মদ শাহ এমদাদ বলেন, “আমার আচরণে হয়তো কোনো শিক্ষার্থী মনঃক্ষুণ্ন হতে পারে। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে কর্তৃপক্ষ যে শাস্তি দেবে, আমি তা মেনে নেব।”

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রবিউল জানান, মন্ত্রণালয়ের চিঠির আলোকে তদন্ত শেষে ইতিমধ্যে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তবে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় সীতাকুণ্ড উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসমত আরা সম্পূর্ণ অজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাঠানো হলেও তা জানেন না বলে তাঁর দাবি। একজন দায়িত্বশীল শিক্ষা কর্মকর্তার এমন উদাসীনতায় স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;