০৩:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সবুজ সীতাকুণ্ড গড়তে ১৭০ সংগঠনের হাতে ৩০ হাজার চারা

লায়ন মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সীতাকুণ্ডে ১৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী, সমবায়, যুব উন্নয়ন ও নারী কল্যাণ প্রতিষ্ঠানের হাতে ৩০ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির চারা তুলে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে সীতাকুণ্ড উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশন ও মহসিন ফাতেমা সিদ্দিকী সমাজকল্যাণ সংস্থার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব চারা বিতরণ করা হয়।

এর আগে গত ২৫ জুলাই উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে ১৩০টি সামাজিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০ হাজার চারা বিতরণ করা হয়েছিল। দ্বিতীয় ধাপে শনিবার আরও ৩০ হাজার চারা বিতরণের মধ্য দিয়ে চলতি বছরে মোট ৫০ হাজার চারা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে দেশের প্রতিটি উপজেলা, ইউনিয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, মাটির ক্ষয়রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শুধু চারা বিতরণ করলেই হবে না, প্রতিটি চারাকে পরিচর্যার মাধ্যমে বড় বৃক্ষে পরিণত করতে হবে।

তিনি বলেন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের জাতীয় কর্মসূচি সফল করতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের ৫০ হাজার চারা বিতরণ ও রোপণের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন অ্যাডভোকেট মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু বলেন, ৫০ হাজার চারা রোপণ ও বিতরণের উদ্যোগের মাধ্যমে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সীতাকুণ্ডের সামাজিক শক্তিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে এ ধরনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে মহসিন ফাতেমা সিদ্দিকী সমাজকল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন বলেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষের। বেশি বেশি গাছ লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণ ও পরিচর্যার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি লায়ন মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, সীতাকুণ্ডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা হবে।

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক পলাশ চৌধুরী বলেন, একটি গাছ লাগানোর চেয়ে গাছটি বাঁচিয়ে রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই চারা গ্রহণকারী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণের দায়িত্ব নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে মহসিন ফাতেমা সিদ্দিকী সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি কাউছার আহমেদ সরোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক তাইছির উদ্দীন, সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আলহাজ খোরশেদ আলম, মো. মনজুর মোরশেদ চৌধুরী, আলহাজ এ কে এম মসিউদদৌলা, এমওএইচ কাইয়ুম, জেসমিন আকতার, সাংবাদিক কামরুল ইসলাম দুলু, মো. সোহেল, লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মো. কামরুদ্দোজা, আলহাজ মো. শাহনেওয়াজ, আলহাজ অধ্যাপক নুরুল গনি চৌধুরী, আবু জাফর মোহাম্মদ ছাদেক, মো. ওমর ফারুক, মো. আবু তাহের, নুর খান ও বখতেয়ার উদ্দিনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ১৭০টি সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং তিন শতাধিক সমাজকর্মী অংশ নেন। বিতরণ করা ফলজ, বনজ ও ঔষধি প্রজাতির চারা সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রোপণ করা হবে।

বক্তারা বলেন, বৃক্ষরোপণকে শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না রেখে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। প্রতিটি চারা একটি ভবিষ্যৎ বৃক্ষ, আর প্রতিটি বৃক্ষ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবীর প্রতীক।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

পাহাড়ি ঝরনার টানে সীতাকুণ্ডে পর্যটকদের ভিড়, চাঙা স্থানীয় অর্থনীতি

সবুজ সীতাকুণ্ড গড়তে ১৭০ সংগঠনের হাতে ৩০ হাজার চারা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

লায়ন মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সীতাকুণ্ডে ১৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী, সমবায়, যুব উন্নয়ন ও নারী কল্যাণ প্রতিষ্ঠানের হাতে ৩০ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির চারা তুলে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে সীতাকুণ্ড উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশন ও মহসিন ফাতেমা সিদ্দিকী সমাজকল্যাণ সংস্থার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব চারা বিতরণ করা হয়।

এর আগে গত ২৫ জুলাই উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে ১৩০টি সামাজিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০ হাজার চারা বিতরণ করা হয়েছিল। দ্বিতীয় ধাপে শনিবার আরও ৩০ হাজার চারা বিতরণের মধ্য দিয়ে চলতি বছরে মোট ৫০ হাজার চারা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে দেশের প্রতিটি উপজেলা, ইউনিয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, মাটির ক্ষয়রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শুধু চারা বিতরণ করলেই হবে না, প্রতিটি চারাকে পরিচর্যার মাধ্যমে বড় বৃক্ষে পরিণত করতে হবে।

তিনি বলেন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের জাতীয় কর্মসূচি সফল করতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের ৫০ হাজার চারা বিতরণ ও রোপণের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন অ্যাডভোকেট মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু বলেন, ৫০ হাজার চারা রোপণ ও বিতরণের উদ্যোগের মাধ্যমে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সীতাকুণ্ডের সামাজিক শক্তিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে এ ধরনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে মহসিন ফাতেমা সিদ্দিকী সমাজকল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন বলেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষের। বেশি বেশি গাছ লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণ ও পরিচর্যার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি লায়ন মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, সীতাকুণ্ডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা হবে।

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক পলাশ চৌধুরী বলেন, একটি গাছ লাগানোর চেয়ে গাছটি বাঁচিয়ে রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই চারা গ্রহণকারী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণের দায়িত্ব নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে মহসিন ফাতেমা সিদ্দিকী সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি কাউছার আহমেদ সরোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক তাইছির উদ্দীন, সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আলহাজ খোরশেদ আলম, মো. মনজুর মোরশেদ চৌধুরী, আলহাজ এ কে এম মসিউদদৌলা, এমওএইচ কাইয়ুম, জেসমিন আকতার, সাংবাদিক কামরুল ইসলাম দুলু, মো. সোহেল, লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মো. কামরুদ্দোজা, আলহাজ মো. শাহনেওয়াজ, আলহাজ অধ্যাপক নুরুল গনি চৌধুরী, আবু জাফর মোহাম্মদ ছাদেক, মো. ওমর ফারুক, মো. আবু তাহের, নুর খান ও বখতেয়ার উদ্দিনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ১৭০টি সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং তিন শতাধিক সমাজকর্মী অংশ নেন। বিতরণ করা ফলজ, বনজ ও ঔষধি প্রজাতির চারা সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রোপণ করা হবে।

বক্তারা বলেন, বৃক্ষরোপণকে শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না রেখে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। প্রতিটি চারা একটি ভবিষ্যৎ বৃক্ষ, আর প্রতিটি বৃক্ষ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবীর প্রতীক।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;