০৩:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সন্দ্বীপে ১৩ লাখ টাকার সেচ প্রকল্প তিন বছরেও চালু হয়নি, হয়নি এক ফোঁটা পানিও সরবরাহ!

শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির তীব্র সংকটে সন্দ্বীপজুড়ে প্রতিবছর হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে থাকলেও, সরকারি উদ্যোগে নির্মিত একটি সেচ প্রকল্প তিন বছর ধরে সম্পূর্ণ অচল পড়ে আছে। সরকারের ও জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্প থেকে উদ্বোধনের পর থেকে আজ পর্যন্ত এক দিনের জন্যও সেচের পানি সরবরাহ করা হয়নি। ফলে প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।

জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে সন্দ্বীপ উপজেলার কালাপানিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য কালাপানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় ‘কৃষি সেচের জন্য শাখানালাসহ গভীর নলকূপ স্থাপন’ প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের (ইউজিডিপি) আওতায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে প্রায় ১৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হলেও, সন্দ্বীপ উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইডির তদারকির অভাবে এটি কোনো কাজেই আসেনি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং উপজেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে গড়া এই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছিল বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)।

মাঠে নেই পানি, নালার ভেতর আগাছা: সরেজমিনে দেখা গেছে, গভীর নলকূপের পাম্পকে ঘিরে প্রায় ১০ একর এলাকাজুড়ে পাকা শাখা নালা নির্মাণ করা হলেও কোথাও পানিপ্রবাহের চিহ্ন নেই। অযত্নে ও অবহেলায় নালাগুলোতে আগাছা জন্মে ভরাট হয়ে গেছে। পাম্পঘরটি ব্যবহারহীন পড়ে থাকায় ইতোমধ্যে পাম্পের বৈদ্যুতিক সংযোগের তারও চুরি হয়ে গেছে। দীর্ঘদিনের অব্যবহারের কারণে পাম্পের লোহার পাইপেও জং ধরতে শুরু করেছে।

কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও ক্ষোভ:স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর এটি চালু বা নিয়মিত তদারকি করার মতো কাউকে দেখা যায়নি। কৃষকদের প্রশ্ন, সেচসংকটে থাকা একটি অঞ্চলে সরকারি এত বড় অর্থ ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্প কীভাবে বছরের পর বছর অচল পড়ে থাকে?

এ বিষয়ে সন্দ্বীপ উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, প্রকল্পটির বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মারুফ হোসেন জানিয়েছেন, প্রকল্পটি কৃষি বিভাগের অধীন না হলেও সন্দ্বীপে সেচের পানির তীব্র সংকটের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে অন্তত ২২ হাজার হেক্টর কৃষিজমি পতিত থাকায় বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নজরে আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

পাহাড়ি ঝরনার টানে সীতাকুণ্ডে পর্যটকদের ভিড়, চাঙা স্থানীয় অর্থনীতি

সন্দ্বীপে ১৩ লাখ টাকার সেচ প্রকল্প তিন বছরেও চালু হয়নি, হয়নি এক ফোঁটা পানিও সরবরাহ!

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৪৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির তীব্র সংকটে সন্দ্বীপজুড়ে প্রতিবছর হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে থাকলেও, সরকারি উদ্যোগে নির্মিত একটি সেচ প্রকল্প তিন বছর ধরে সম্পূর্ণ অচল পড়ে আছে। সরকারের ও জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্প থেকে উদ্বোধনের পর থেকে আজ পর্যন্ত এক দিনের জন্যও সেচের পানি সরবরাহ করা হয়নি। ফলে প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।

জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে সন্দ্বীপ উপজেলার কালাপানিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য কালাপানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় ‘কৃষি সেচের জন্য শাখানালাসহ গভীর নলকূপ স্থাপন’ প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের (ইউজিডিপি) আওতায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে প্রায় ১৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হলেও, সন্দ্বীপ উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইডির তদারকির অভাবে এটি কোনো কাজেই আসেনি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং উপজেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে গড়া এই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছিল বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)।

মাঠে নেই পানি, নালার ভেতর আগাছা: সরেজমিনে দেখা গেছে, গভীর নলকূপের পাম্পকে ঘিরে প্রায় ১০ একর এলাকাজুড়ে পাকা শাখা নালা নির্মাণ করা হলেও কোথাও পানিপ্রবাহের চিহ্ন নেই। অযত্নে ও অবহেলায় নালাগুলোতে আগাছা জন্মে ভরাট হয়ে গেছে। পাম্পঘরটি ব্যবহারহীন পড়ে থাকায় ইতোমধ্যে পাম্পের বৈদ্যুতিক সংযোগের তারও চুরি হয়ে গেছে। দীর্ঘদিনের অব্যবহারের কারণে পাম্পের লোহার পাইপেও জং ধরতে শুরু করেছে।

কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও ক্ষোভ:স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর এটি চালু বা নিয়মিত তদারকি করার মতো কাউকে দেখা যায়নি। কৃষকদের প্রশ্ন, সেচসংকটে থাকা একটি অঞ্চলে সরকারি এত বড় অর্থ ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্প কীভাবে বছরের পর বছর অচল পড়ে থাকে?

এ বিষয়ে সন্দ্বীপ উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, প্রকল্পটির বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মারুফ হোসেন জানিয়েছেন, প্রকল্পটি কৃষি বিভাগের অধীন না হলেও সন্দ্বীপে সেচের পানির তীব্র সংকটের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে অন্তত ২২ হাজার হেক্টর কৃষিজমি পতিত থাকায় বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নজরে আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;