Dhaka ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম – সন্দ্বীপ ফেরি উদ্ভোধন , কপোতাক্ষ নিয়ে সাগর পাড়ি দিলেন ৬ উপদেষ্টা

সন্দ্বীপের সঙ্গে ফেরি যোগাযোগ উদ্ভোধন , দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান

দীর্ঘ প্রতিক্ষা শেষে ট্রলার ও স্পিডবোটের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার অবসান ঘটিয়ে চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ ফেরি সার্ভিস চালু হয়েছে। এতেসূচনা হলো দ্বীপবাসীর জীবনযাত্রায় নতুন দিগন্তের ।

আজ সোমবার (২৪ মার্চ) সকালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম ফেরি ছেড়ে যায় সন্দ্বীপের গুপ্তছড়ার উদ্দেশে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চালু হওয়া এ সেবার উদ্বোধন করেন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। পরে সকাল ৯টার দিকে বাঁশবাড়িয়া থেকে ৬ উপদেষ্টাসহ অন্যদের নিয়ে ফেরি সন্দ্বীপের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। সকাল ১০টার দিকে সন্দ্বীপে পৌঁছায় ফেরিটি।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান; মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তাদের সঙ্গে ছিলেন প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার প্রধান উপদেষ্টার দু’জন বিশেষ সহকারী খোদা বক্স চৌধুরী ও অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান।

দীর্ঘদিন ধরে সন্দ্বীপের মানুষকে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজের জন্য দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বৈরী আবহাওয়ায় দ্বীপটি প্রায়ই মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত, যার ফলে অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য নেওয়াটা হয়ে উঠত দুঃসাধ্য। এখন ফেরি সার্ভিস চালুর মাধ্যমে সেই কষ্টের দিন শেষ হলো।

বিআইডব্লিউটিএ চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রতিটি ফেরিতে একসঙ্গে ৩৫টি যানবাহন এবং ৬০০ যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। প্রতিদিন চারবার জোয়ার-ভাটার সময় অনুযায়ী চলাচল করবে ফেরি। চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ যেতে সময় লাগবে মাত্র এক ঘণ্টা ১০ মিনিট।

এই সার্ভিস চালুর পাশাপাশি ঢাকা-সন্দ্বীপ রুটে বিআরটিসির বাস সার্ভিসও চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট-সি বিচ-নিমতলা-বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট-সন্দ্বীপ এনাম নাহার মোড় রুটে এসি বাস পরিষেবা শুরু হয়েছে। ফলে সন্দ্বীপের মানুষ সহজেই রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারবে।

ফেরিতে যাতায়াতের ভাড়া হলো – :

এক টন পর্যন্ত পণ্যবাহী যানবাহন বড় ট্রাক/ট্যাঙ্ক লরি কাভার্ডভ্যান (৮ টনের অধিক ১১ টন পর্যন্ত) ১৩০০ টাকা, ছোট ট্রাক/কাভার্ডভ্যান/লরি (১ টনের অধিক ৩ টন পর্যন্ত) ১৫০০ টাকা,  ট্রাক/ট্যাঙ্ক লরি/ কাভার্ডভ্যান (৩ টনের অধিক ৫ পর্যন্ত) ১৬০০ টাকা, ৫ টনের অধিক ৮ টন পর্যন্ত ২০০০ টাকা, ৮ টনের অধিক ১১ টন পর্যন্ত ২৭০০ টাকা, দশ চাকা বিশিষ্ট সাধারণ পণ্যবাহী যানবাহনের ক্ষেত্রে (গ্যাস, বিস্ফোরক দ্রব্য, বাহিত ও নন স্ট্যান্ডার্ড যানবাহন ব্যতীত) গাড়ির বডির ওজন সহ ৩০ (ত্রিশ) টন পর্যন্ত হলে নির্দেশিত হারে ভাড়া আদায়যোগ্য হবে ৫৭০০ টাকা। এ ছাড়া যেসব ট্রাক/কাভার্ড ভ্যান/ট্যাঙ্ক লরির ধারণক্ষমতা ৩-৮ টন অথচ সাইজে বড় বাস/কোচের সমান ২৭০০ টাকা,  মিনিবাস/কোস্টার (২৫ ফুটের ঊর্ধ্বে নহে) ১৭৫০ টাকা, মাঝারি মাপের বাস/কোচ (৩৫ ফুটের ঊর্ধ্বে নহে) ২৪৫০ টাকা, বড় বাস/কোচ (৩৫ ফুটের ঊর্ধ্বে) ২৬৫০ টাকা, মাইক্রো বাস / অ্যাম্বুলেন্স/ বড় টেম্পু/ হিউম্যান হলারজাতীয় যানবাহন ১৪০০ টাকা, স্টেশন ওয়াগন/ল্যান্ডক্রুজার/স্কাউটজাতীয় গাড়ি/বড় জিপ/প্রাডো/ নিশান/পাজেরো/ প্যাট্রলজাতীয় লাক্রারি জিপ জাতীয় যানবাহন ১৩০০ টাকা, কার/টেম্পু ট্রেইলার পৃথকভাবে অথবা ট্রাকের সাথে এ ধরনের যানবাহন ৭৫০ টাকা, মোটরসাইকেল ১৫০০ টাকা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা/ ভ্যান/রিকশা ৪০০ টাকা, বাইসাইকেল ৭৫ টাকা,  ডিলাক্স/উচ্চ শ্রেণির যাত্রী টিকিট (জনপ্রতি) ১০০ টাকা ও সুলভ শ্রেণীর যাত্রী টিকিট (জনপ্রতি) ৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে, ফেরির পাশাপাশি সোমবার থেকে ঢাকা-সন্দ্বীপ রুটে বিআরটিসির বাস চলাচলও উদ্বোধন করেন উপদেষ্টারা। এছাড়া চট্টগ্রামের এয়ারপোর্ট-সি বিচ-নিমতলা-নয়াবাজার-কুমিরা-বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট-সন্দ্বীপ এনাম নাহার মোড় রুটেও এসি বাস সেবা চালু করেছে বিআরটিসি।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;
আপনার সামাজিক প্ল্যাটফর্ম এই পোস্ট শেয়ার করুন
ট্যাগ:
লেখক তথ্য সম্পর্কে

চট্টগ্রামের মহাসড়কে বিআরটিএর অভিযান, মামলা ও জরিমানা

চট্টগ্রাম – সন্দ্বীপ ফেরি উদ্ভোধন , কপোতাক্ষ নিয়ে সাগর পাড়ি দিলেন ৬ উপদেষ্টা

আপডেটের সময় : ০৬:৩৭:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫

দীর্ঘ প্রতিক্ষা শেষে ট্রলার ও স্পিডবোটের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার অবসান ঘটিয়ে চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ ফেরি সার্ভিস চালু হয়েছে। এতেসূচনা হলো দ্বীপবাসীর জীবনযাত্রায় নতুন দিগন্তের ।

আজ সোমবার (২৪ মার্চ) সকালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম ফেরি ছেড়ে যায় সন্দ্বীপের গুপ্তছড়ার উদ্দেশে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চালু হওয়া এ সেবার উদ্বোধন করেন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। পরে সকাল ৯টার দিকে বাঁশবাড়িয়া থেকে ৬ উপদেষ্টাসহ অন্যদের নিয়ে ফেরি সন্দ্বীপের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। সকাল ১০টার দিকে সন্দ্বীপে পৌঁছায় ফেরিটি।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান; মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তাদের সঙ্গে ছিলেন প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার প্রধান উপদেষ্টার দু’জন বিশেষ সহকারী খোদা বক্স চৌধুরী ও অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান।

দীর্ঘদিন ধরে সন্দ্বীপের মানুষকে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজের জন্য দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বৈরী আবহাওয়ায় দ্বীপটি প্রায়ই মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত, যার ফলে অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য নেওয়াটা হয়ে উঠত দুঃসাধ্য। এখন ফেরি সার্ভিস চালুর মাধ্যমে সেই কষ্টের দিন শেষ হলো।

বিআইডব্লিউটিএ চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রতিটি ফেরিতে একসঙ্গে ৩৫টি যানবাহন এবং ৬০০ যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। প্রতিদিন চারবার জোয়ার-ভাটার সময় অনুযায়ী চলাচল করবে ফেরি। চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ যেতে সময় লাগবে মাত্র এক ঘণ্টা ১০ মিনিট।

এই সার্ভিস চালুর পাশাপাশি ঢাকা-সন্দ্বীপ রুটে বিআরটিসির বাস সার্ভিসও চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট-সি বিচ-নিমতলা-বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট-সন্দ্বীপ এনাম নাহার মোড় রুটে এসি বাস পরিষেবা শুরু হয়েছে। ফলে সন্দ্বীপের মানুষ সহজেই রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারবে।

ফেরিতে যাতায়াতের ভাড়া হলো – :

এক টন পর্যন্ত পণ্যবাহী যানবাহন বড় ট্রাক/ট্যাঙ্ক লরি কাভার্ডভ্যান (৮ টনের অধিক ১১ টন পর্যন্ত) ১৩০০ টাকা, ছোট ট্রাক/কাভার্ডভ্যান/লরি (১ টনের অধিক ৩ টন পর্যন্ত) ১৫০০ টাকা,  ট্রাক/ট্যাঙ্ক লরি/ কাভার্ডভ্যান (৩ টনের অধিক ৫ পর্যন্ত) ১৬০০ টাকা, ৫ টনের অধিক ৮ টন পর্যন্ত ২০০০ টাকা, ৮ টনের অধিক ১১ টন পর্যন্ত ২৭০০ টাকা, দশ চাকা বিশিষ্ট সাধারণ পণ্যবাহী যানবাহনের ক্ষেত্রে (গ্যাস, বিস্ফোরক দ্রব্য, বাহিত ও নন স্ট্যান্ডার্ড যানবাহন ব্যতীত) গাড়ির বডির ওজন সহ ৩০ (ত্রিশ) টন পর্যন্ত হলে নির্দেশিত হারে ভাড়া আদায়যোগ্য হবে ৫৭০০ টাকা। এ ছাড়া যেসব ট্রাক/কাভার্ড ভ্যান/ট্যাঙ্ক লরির ধারণক্ষমতা ৩-৮ টন অথচ সাইজে বড় বাস/কোচের সমান ২৭০০ টাকা,  মিনিবাস/কোস্টার (২৫ ফুটের ঊর্ধ্বে নহে) ১৭৫০ টাকা, মাঝারি মাপের বাস/কোচ (৩৫ ফুটের ঊর্ধ্বে নহে) ২৪৫০ টাকা, বড় বাস/কোচ (৩৫ ফুটের ঊর্ধ্বে) ২৬৫০ টাকা, মাইক্রো বাস / অ্যাম্বুলেন্স/ বড় টেম্পু/ হিউম্যান হলারজাতীয় যানবাহন ১৪০০ টাকা, স্টেশন ওয়াগন/ল্যান্ডক্রুজার/স্কাউটজাতীয় গাড়ি/বড় জিপ/প্রাডো/ নিশান/পাজেরো/ প্যাট্রলজাতীয় লাক্রারি জিপ জাতীয় যানবাহন ১৩০০ টাকা, কার/টেম্পু ট্রেইলার পৃথকভাবে অথবা ট্রাকের সাথে এ ধরনের যানবাহন ৭৫০ টাকা, মোটরসাইকেল ১৫০০ টাকা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা/ ভ্যান/রিকশা ৪০০ টাকা, বাইসাইকেল ৭৫ টাকা,  ডিলাক্স/উচ্চ শ্রেণির যাত্রী টিকিট (জনপ্রতি) ১০০ টাকা ও সুলভ শ্রেণীর যাত্রী টিকিট (জনপ্রতি) ৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে, ফেরির পাশাপাশি সোমবার থেকে ঢাকা-সন্দ্বীপ রুটে বিআরটিসির বাস চলাচলও উদ্বোধন করেন উপদেষ্টারা। এছাড়া চট্টগ্রামের এয়ারপোর্ট-সি বিচ-নিমতলা-নয়াবাজার-কুমিরা-বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট-সন্দ্বীপ এনাম নাহার মোড় রুটেও এসি বাস সেবা চালু করেছে বিআরটিসি।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;
আপনার সামাজিক প্ল্যাটফর্ম এই পোস্ট শেয়ার করুন