চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (আইআইইউসি) এর সামনে সড়ক ও জনপদ বিভাগের তৈরি গতিরোধক তীব্র সমালোচনার মুখে অপসারণ করে সেখানে এবার থার্মোপ্লাস্টিক জেব্রা ক্রসিং একে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে পারাপারের উদ্যোগ নিয়েছে সওজ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) এর চট্টগ্রাম বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী মাইদুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়িতে অবস্থিত আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (আইআইইউসি) এর সামনে গত ৩ নভেম্বর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী মাইশা মুশফিরাত (২২)। এ ঘটনার পর শিক্ষার্থী টানা ৫ ঘণ্টা রাজপথ-রেলপথ অবরোধ করে রাখলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্ঘটনা মুক্ত নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে দেয়াসহ ৬টি দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। সে অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের পরামর্শে ঘটনার পরদিনই দুর্ঘটনাস্থলে অস্থায়ী রাম্বল স্ট্রিপ (গতিরোধক) বসানো হয় এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়ী লরি চালককে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে সওজ এই অস্থায়ী গতিরোধক বসানোর পর মহাসড়কের ঐ অংশে যানজট বেড়ে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। ফলে এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা শুরু করে সাধারণ মানুষ। তাদের প্রতিক্রিয়া বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হলে সওজ কর্তৃপক্ষ গতকাল শনিবার তা তুলে নেয়। পাশাপাশি ঐ স্থানে জেব্রা ক্রসিং আঁকা শুরু এবং বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে আরো নিরাপত্তাজনিত পদক্ষেপ নেওয়ার নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করে।
নতুন এ পরিকল্পনা বিষয়ে সওজের চট্টগ্রাম বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী মাইদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে রাম্বল স্ট্রিপ স্থাপন করা হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে। কিন্তু মহাসড়কের এ অংশে ভারী যান চলাচলের স্থানে এ উদ্যোগ দীর্ঘ মেয়াদী বা বিজ্ঞান সম্মত সমাধান ছিল না। বরং এতে যানজটের পাশাপাশি চালকদের মধ্যে উল্টো পথে চলাচলের প্রবণতা বাড়ছিল। তাই রাম্বল স্ট্রিপ সরিয়ে নিয়ে সে স্থানে জেব্রা ক্রসিং আঁকা, ধীরে চলুন নির্দেশক চিহ্ন সাইনবোর্ড বসানো হচ্ছে। এছাড়া রোড সেফটি উইং এর বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থলে এসে সবকিছু খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত দেবেন। তার আলোকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;