
জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একদিনের চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সফরকে কেন্দ্র করে বন্দরনগরীর মানুষের প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, বাণিজ্য ও শিল্পায়নের প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম হলেও নাগরিক সেবা, অবকাঠামো ও পরিকল্পিত উন্নয়নের ক্ষেত্রে নগরবাসী দীর্ঘকাল ধরে নানা বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে না দেখে, চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের দাবি ও সম্ভাবনাকে জাতীয় উন্নয়নের অগ্রাধিকারে রূপ দেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
বাণিজ্যিক রাজধানী ও অর্থনৈতিক কাঠামোর দাবি: চট্টগ্রামকে কেবল নামের দিক থেকে নয়, বরং কার্যকরভাবে বাংলাদেশের ‘বাণিজ্যিক রাজধানী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট ঘোষণা ও তা বাস্তবায়নের জোরালো দাবি উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, শিল্প, বিনিয়োগ, শিপিং, ব্যাংকিং এবং লজিস্টিকস খাতের কার্যক্রম চট্টগ্রামকেন্দ্রিক করার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বন্দরকেন্দ্রিক আধুনিক লজিস্টিকস ব্যবস্থা, ডিজিটাল কাস্টমস এবং গভীর সমুদ্রবন্দরসহ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর উন্নয়ন জাতীয় অর্থনৈতিক কৌশলকে আরও গতিশীল করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও যানজট নিরসন: বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনের পথকে যানজটমুক্ত করতে এবং জাতীয় অর্থনীতি রক্ষায় সড়ক ও রেল যোগাযোগের সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। বন্দরমুখী পৃথক পণ্য পরিবহন করিডর নির্মাণ, রেলপথে কন্টেইনার পরিবহন বৃদ্ধি এবং আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশাপাশি মিরসরাই, সীতাকুণ্ড, আনোয়ারা ও কর্ণফুলীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা শিল্পাঞ্চলগুলোকে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক করিডরে রূপান্তর করতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, গ্যাস ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।
নাগরিক দুর্ভোগ ও পরিবেশগত সুরক্ষা: বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, সড়কে যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং পাহাড়ধসের ঝুঁকি নগরবাসীর জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। খাল দখল ও ভরাট এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই খাল পুনরুদ্ধার, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পাহাড় রক্ষায় সমন্বিত পরিকল্পনার পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষাকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া পতেঙ্গা, সীতাকুণ্ড, চন্দ্রনাথ, বাঁশখালী ও আনোয়ারাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণের দাবিও রয়েছে।
নির্দিষ্ট সময়সীমা ও ‘চট্টগ্রাম উন্নয়ন রোডম্যাপ’ ঘোষণা: চট্টগ্রামবাসী এখন আর কেবল প্রতিশ্রুত কথায় সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না, তারা চায় বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা। প্রধানমন্ত্রীর সফরে একটি সুনির্দিষ্ট ‘চট্টগ্রাম উন্নয়ন রোডম্যাপ’ ঘোষণার দাবি জানিয়ে বলা হয়েছে, বন্দর, যোগাযোগ, শিল্প, জ্বালানি, নগর ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও পর্যটন খাতের প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য, সময়সীমা এবং অর্থায়নের কাঠামো থাকা উচিত। চট্টগ্রাম কোনো অনুগ্রহ চায় না, বরং জাতীয় অর্থনীতিতে নিজের অবদানের ন্যায্য স্বীকৃতি ও সঠিক মূল্যায়ন প্রত্যাশা করে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;