
চাকরির পেছনে ছোটাছুটির প্রচলিত ধারা ভেঙে তরুণ প্রজন্মের কাছে নতুন এক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছেন গোলাম রব্বানি ইমান। করোনাকালের অনিশ্চয়তা আর স্থবিরতাকে পেছনে ফেলে যিনি একসময় ছেড়ে দিয়েছিলেন ব্যাংকের নিরাপদ চাকরি, আজ তিনিই সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলেছেন ভর্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সারের খামার। নিরাপদ কৃষি উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তিনি এখন সীতাকুণ্ডের তরুণদের আইকন।
ব্যাংক চাকরি থেকে কৃষির সুবাস: সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের মুরাদপুর গ্রামের গোলাম আব্বাসের পুত্র গোলাম রব্বানি ইমান। করোনা মহামারীর কঠিন সময়ে তিনি যখন চাকরি ছাড়েন, তখন তার মাথায় ছিল নিরাপদ ও বিষমুক্ত কৃষি উৎপাদনের ভাবনা। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি যোগাযোগ করেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ইপসা’-এর মুরাদপুর শাখা এবং উপজেলা কৃষি অফিসে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি পুরোদমে শুরু করেন জৈব সার উৎপাদন।
শুরুটা যেভাবে ও খামারের পরিধি: ইপসার কৃষি ইউনিট এবং পিকেএসএফ-এর আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় ইমান প্রথমে ১০টি প্ল্যান্ট দিয়ে তার যাত্রা শুরু করেন। পরবর্তীতে এর পরিধি বাড়িয়ে ১৬টি প্ল্যান্টে উন্নীত করেন। ইপসার কৃষি কর্মকর্তা সুমন দেবনাথ জানান, ২০১৫ সাল থেকে সংস্থাটি কৃষকদের জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করে আসছে এবং এ পর্যন্ত প্রায় ২৬৫ জনকে ভর্মি কম্পোস্ট তৈরির প্রশিক্ষণ ও হাউস স্থাপন করে দিয়েছে। এই সফল যাত্রায় তৎকালীন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহর নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতাও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন ইমান।
লাভজনক ব্যবসা ও বেকারত্ব দূরীকরণ: বর্তমানে ইমানের খামার থেকে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৩ টন ভর্মি কম্পোস্ট উৎপাদিত হচ্ছে। সমুদয় খরচ বাদ দিয়েও তার মাসিক আয় ছাড়িয়ে যাচ্ছে ২৫ হাজার টাকা। ব্যবসার পরিধি আরও বাড়াতে বর্তমানে ২০০টি রিংয়ের মাধ্যমে উৎপাদনের কাজ চলছে, যা আগামী আগস্টের মধ্যে ১০ টনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে তার। তার এই খামারে যেমন কর্মসংস্থান হয়েছে স্থানীয়দের, তেমনি তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে অনেক বেকার যুবক নিজস্ব প্ল্যান্ট গড়ে তুলছেন।
নিরাপদ কৃষিপণ্যের ব্যাপক চাহিদার এই যুগে গোলাম রব্বানি ইমান প্রমাণ করেছেন—দৃঢ় মনোবল, সঠিক দিকনির্দেশনা আর পরিশ্রম থাকলে করপোরেট চাকরির মোহ ছেড়ে নিজের মাটিতেই সফল উদ্যোক্তা হওয়া সম্ভব।
খালেদ / পোস্টকার্ড