
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে বয়ে চলা খালের গতিপথ পরিবর্তন এবং পানি নিষ্কাশনের ড্রেন বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে আবুল খায়ের স্টিল মিল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মিল কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনায় কারখানার ব্যবহৃত পানি ও পাহাড়ি ঢল সরাসরি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সোনাইছড়ি ও চৌধুরীঘাটা গ্রামের অন্তত দুই শতাধিক পরিবার।
স্থানীয়রা জানান, গত শনিবার রাতভর পাহাড়ি ঢলের পানি কোনো বাধা ছাড়াই সরাসরি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে ওই এলাকার ঘরবাড়ি, টিউবওয়েল ও রান্নাঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে রান্নাবান্না ও নাতাওয়া-খাওয়া বন্ধ হয়ে চরম মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। নষ্ট হয়েছে মূল্যবান আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী ও জ্বালানি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এলাকাটি অতীতে জলাবদ্ধতার কবলে না পড়লেও এবার মিল কর্তৃপক্ষের খাল দখলের কারণে কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় গ্রামবাসী দিশেহারা।
গত রবিবার সকালে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মিলের মূল প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করে চার ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তাদের অভিযোগ, মিল কর্তৃপক্ষ তাদের কারখানার পরিধি বাড়াতে সরকারি খালের গতিপথ পরিবর্তন করেছে এবং পানি নিষ্কাশনের ড্রেনগুলো মাটিচাপা দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া, কারখানার ভেতরে জমে থাকা পানি পরিকল্পিতভাবে লোকালয়ে ছেড়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড তুলে নেন।
শুধু জলাবদ্ধতাই নয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ভারী লরি ও ট্রাক চলাচলের কারণে এলাকার প্রধান সংযোগ সড়কটি এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তায় প্রায় দুই ফুট কাদা জমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তাটি ব্যবহারের পরেও কর্তৃপক্ষ তা সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফখরুল ইসলাম বলেন, "ঘটনাটি খতিয়ে দেখার জন্য একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হয়েছে। তদন্তে যদি আবুল খায়ের স্টিল মিলের কোনো গাফিলতি বা খাল দখলের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি সড়ক বা খাল দখল করার সুযোগ কারো নেই।"
অন্যদিকে, আবুল খায়ের গ্রুপের এজিএম ইমরুল কায়েস জলাবদ্ধতার জন্য তাদের দায়ী করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, "পুরো চট্টগ্রাম বর্তমানে জলাবদ্ধ। সীতাকুণ্ডও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে রাস্তাটি জেলা পরিষদের অধীন হওয়ায় প্রতিষ্ঠান চাইলেই তা সংস্কার করতে পারে না।"
স্থানীয়রা বলছেন, প্রভাবশালী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের এমন 'বৈরী আচরণের' কারণে তারা এখন নিজেদের গ্রামেই অসহায় হয়ে পড়েছেন। তারা অবিলম্বে খাল উদ্ধার ও পানি নিষ্কাশনের পথ উন্মুক্ত করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;