
টানা তিন-চার দিনের অবিরাম বর্ষণে সীতাকুণ্ডের ১০ নম্বর ছলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় নেমে এসেছে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই জনপদটি এখন প্রকৃতির রোষানলে পড়ে ঘরবাড়ি ও শেষ সম্বল হারিয়ে নিস্বপ্রায়। পাহাড় ধস ও বন্যার কবলে পড়ে শতশত পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।
পাহাড় ধসের ঘটনায় একটি নিষ্পাপ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। স্বজনহারা মায়ের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে জঙ্গল ছলিমপুরের আকাশ-বাতাস। চোখের সামনে সন্তান হারানোর এমন শোকের ভার যেন কোনোভাবেই সইবার মতো নয়। নিহত শিশুর পরিবারের প্রতি সান্ত্বনা জানানোর ভাষাও হারিয়ে ফেলছেন স্থানীয়রা।
এলাকার পরিস্থিতি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে কয়েকদিন ধরে রান্নার চুলা জ্বলেনি। শুকনা খাবার খেয়ে কিংবা না খেয়েই দিন অতিবাহিত করছেন অনেকে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও নারীরা চরম দুর্ভোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। অনেক ঘরবাড়ি মাটির নিচে চাপা পড়ায় তারা আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন।
এমন কঠিন সময়ে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় দায়িত্বশীলরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং খাদ্য ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সরকারি সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় এখনও খুবই সীমিত।
এই চরম সংকটের মুহূর্তে রাজনীতি বা মতভেদ ভুলে সবাইকে মানবতার সেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, বিত্তবান ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর প্রতি বিনীত আবেদন জানানো হয়েছে, যেন তারা দ্রুত দুর্গত মানুষগুলোর পাশে এসে দাঁড়ান। সামান্য সাহায্যও হয়তো একটি ক্ষুধার্ত পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে বা ভেঙে পড়া পরিবারকে নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস জোগাতে পারে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;