
বাংলাদেশের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল শিল্পাঞ্চল চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে চলতি মাসে নতুন একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ইউনিট আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। এই অঞ্চলের শিল্প নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক গাজী জসিম উদ্দিন জানান, মীরসরাইয়ের ক্রমবর্ধমান শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নতুন এই ইউনিটের জন্য ১৬০ জন পুলিশ সদস্যের অনুমোদন দিয়েছে। যদিও কর্তৃপক্ষ শুরুতে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আরও বেশি জনবল চেয়েছিল, তবুও নতুন এই জনবল নিয়ে শিল্প নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের লক্ষ্য ও প্রেক্ষাপট
২০১০ সালের ৩১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করছে। শিল্পাঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, শ্রমিক ও বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা প্রদান এবং একটি স্থিতিশীল উৎপাদন-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাই এই বাহিনীর মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে এই বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে এটি 'ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ বিধিমালা, ২০১৭'-এর অধীনে পরিচালিত হয়।
জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট
বর্তমানে দেশব্যাপী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের নয়টি ইউনিটের জন্য অনুমোদিত ৪,২০০ সদস্যের বিপরীতে কর্মরত আছেন প্রায় ৩,৫০০ জন। জনবল সংকটের পাশাপাশি বাহিনীর নিজস্ব কোনো বিশেষায়িত পুলিশ লাইন নেই। বর্তমানে ঢাকা, আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম পরিচালিত হলেও বাহিনীটি নানা অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন।
পরিস্থিতি উত্তরণে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে আশুলিয়া-সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে পাঁচটি বিশেষায়িত ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ লাইন স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাহিনীটির জন্য একটি স্থায়ী সদর দপ্তরের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা, কারণ বর্তমানে ঢাকার উত্তরায় একটি ভাড়া করা ভবন থেকে এর সদর দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
খুলনা অঞ্চলসহ অন্যান্য স্থানেও পূর্ণাঙ্গ ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। উল্লেখ্য, সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৬,০০০ তৈরি পোশাক কারখানা ও অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে ৪০ লাখেরও বেশি শ্রমিক কর্মরত আছেন। মীরসরাইয়ে নতুন এই ইউনিট চালুর মাধ্যমে বৃহত্তর শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রম আইন প্রয়োগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুসংহত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;