
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের পর্যটন স্পট গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে এসে স্থানীয়দের হামলার শিকার হয়েছেন একদল শিক্ষার্থী। গত শনিবার সকালে দোলনায় বসাকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ ঘটনার জেরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এই ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন এবং এখন পর্যন্ত ৪ জন হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (৯ মে) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ঢাকা, মানিকগঞ্জ ও ময়মনসিংহ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থীর একটি দল মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতে ভ্রমণে আসেন। সেখানে একটি দোলনায় বসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দোকানি ও বাসিন্দাদের সাথে পর্যটক শিক্ষার্থীদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষ তুমুল সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
হামলায় শিক্ষার্থীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। আক্রান্ত শিক্ষার্থীরা নিরুপায় হয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
আহতদের মধ্যে মো. ফজলে রাব্বি নামক এক পর্যটকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্যান্য আহতরা হলেন— তাজিম, শেখ জাহিল আবরার, মো. রাদ, মো. রাজু, সৈয়দ তাসফিকুল ইসলাম, মেহেদী হাসান ও মো. আলিফ। আহতদের অধিকাংশেরই শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম রয়েছে।
এই হামলার ঘটনায় শনিবার রাতেই ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, "মামলা দায়েরের পর পুলিশি অভিযানে শনিবার রাতেই ২ জন এবং পরদিন রবিবার আরও ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে মোট ৪ জন পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
গুলিরাখালী সৈকতের মতো জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে এমন হামলার ঘটনায় সাধারণ পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;