
কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে আনোয়ারায় একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত উপশহর গড়ে তোলার লক্ষ্যে সম্প্রতি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এবং আবাসন শিল্প প্রতিষ্ঠান সিপিডিএল পরিবারের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় আনোয়ারায় সিপিডিএল-এর মেগা প্রকল্প ‘সিপিডিএল অনিন্দ্যনগর’-এর মাস্টার প্ল্যান বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়।
চট্টগ্রামের পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করতে অনুষ্ঠিত এই সভায় সিডিএ’র চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মো. নূরুল করিম, অতিরিক্ত সচিব ও সিডিএ’র সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরী এবং সদস্য ইঞ্জি. মো. জামিলুর রহমানসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, সিপিডিএল পরিবারের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার ইফতেখার হোসেনসহ উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। পুরো আলোচনাটি এক পর্যায়ে ভিশনারি প্ল্যানিং সেশনে রূপ নেয়।
বৈঠকে সিপিডিএল অনিন্দ্যনগরের মূল ভাবনা ‘ওয়ান সিটি, টু টাউন’ ধারণাটি তুলে ধরা হয়। এর লক্ষ্য হলো কর্ণফুলী নদীর দুই তীরকে সমানভাবে বিকশিত করে চট্টগ্রামকে আধুনিক নগরায়নের একটি নতুন দৃষ্টান্তে পরিণত করা। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে আনোয়ারা অঞ্চল ধীরে ধীরে একটি আধুনিক স্যাটেলাইট সিটি হিসেবে গড়ে উঠবে, যা মূল চট্টগ্রাম শহরের ওপর জনসংখ্যার চাপ কমিয়ে একটি সুষম ও টেকসই নগর কাঠামো তৈরি করবে।
কর্ণফুলী টানেলকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলে যে নতুন অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সিপিডিএল-এর এই মেগা প্রকল্প তাকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সিডিএ কর্মকর্তারা মাস্টার প্ল্যানটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এবং এর বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে ইতিবাচক মতামত দেন। তাঁরা সিপিডিএল-এর এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী এবং ভবিষ্যৎমুখী নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘সিপিডিএল অনিন্দ্যনগর’ শুধু একটি আবাসন প্রকল্প নয়, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ লাইফস্টাইল ডেস্টিনেশন হিসেবে গড়ে উঠবে। যেখানে আবাসিক ও বাণিজ্যিক সুবিধার সঠিক সমন্বয়ে একটি সুপরিকল্পিত, আধুনিক ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
সিডিএ এবং সিপিডিএল-এর এই সমন্বিত উদ্যোগ চট্টগ্রামের দক্ষিণ পাড়ের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চিত্র বদলে দিতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;