
চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বন্দরনগরীতে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে নাগরিকদের সীমাহীন দুর্ভোগের প্রতি ‘নির্মম তামাশা ও ব্যঙ্গ’ হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
টানা দুইদিনের অতিবৃষ্টিতে চট্টগ্রামের নিম্নাঞ্চল কোমর থেকে বুকসমান পানিতে তলিয়ে গেলেও বুধবার রাতে পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম তা কার্যত অস্বীকার করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “চট্টগ্রাম শহর সুন্দর আছে। যেভাবে নিউজ হয়েছে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসছে, চট্টগ্রাম শহর সেভাবে পানির ওপর ভাসছে না”। বৃহস্পতিবার টাইগারপাসে চসিক কার্যালয়ে বৈঠক শেষে তিনি আরও একধাপ এগিয়ে এই জলাবদ্ধতার খবরকে ‘ভুয়া খবর’ (Fake News) হিসেবে অভিহিত করেন।
জলাবদ্ধতার কারণে নগরবাসীর চরম ভোগান্তির বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান তূর্য। এর প্রেক্ষিতে খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে দাঁড়িয়ে চট্টগ্রামের মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “মূলধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওগুলো কি এআই (AI) দিয়ে তৈরি?”।
তিনি আরও বলেন, “জলাবদ্ধতার সেই ভয়াবহতা ও মানুষের কষ্টের লাইভ প্রচার হয়েছে। সেই বাস্তবতা অস্বীকার করা দায়িত্বশীল মন্ত্রীর কাছ থেকে কাম্য নয়। এটি মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে ব্যঙ্গ করার শামিল এবং এতে সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়েছে”।
প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। সাধারণ নাগরিকরা প্রতিমন্ত্রীর এই সফরকে ‘বাস্তবতা বিমুখ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং জনদুর্ভোগ অস্বীকার করার নিন্দা জানিয়েছেন।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;