
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেনামি ও ভুয়া আইডি ব্যবহার করে নারীদের টার্গেট করে আপত্তিকর তথ্য প্রচার এবং চরিত্রহননের ভয়াবহ অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় স্থানীয় নারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সীতাকুণ্ড পৌরসদরের সচেতন নারীদের উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এই উদ্বেগের চিত্র ফুটে ওঠে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিশাল ব্যানার হাতে নিয়ে প্রতিবাদ জানান।
মানববন্ধনে প্রদর্শিত ব্যানারে দেখা যায়, শিকলবন্দি এক নারী তার ডান হাত উঁচু করে মুষ্টিবদ্ধ করেছেন এবং জোরপূর্বক শিকল ভাঙার প্রতীকী প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এই চিত্রটি নারীদের ওপর চলা অদৃশ্য নির্যাতন এবং তা থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষার জোরালো বার্তা দেয়।
ব্যানারে বড় অক্ষরে লেখা ছিল: "‘সীতাকুণ্ডে নারীদের সম্মানহানি বন্ধ করো!’"। এর নিচে ৪-দফা দাবি তুলে ধরা হয়,
১. নারীদের সম্মানহানি বন্ধ করো!
২. বেনামি আইডি’র বিরুদ্ধে কঠোর আইন চাই!
৩. প্রশাসন, আপনারা কোথায়? ব্যবস্থা নিন!
৪. দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই!
ব্যানারের সবশেষে স্পষ্টভাবে লেখা ছিল, "বেনামি আইডি’র বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি"।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নারীরা জানান, একটি ‘অসুস্থ মানসিকতার শ্রেণী’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় হয়ে সীতাকুণ্ডের নারীদের ছবি বিকৃত করে এবং আপত্তিকর ক্যাপশন দিয়ে প্রচার করছে। এতে নারীরা পারিবারিকভাবে এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন।
এক ভুক্তভোগী নারী আক্ষেপ করে বলেন, "এই ধরনের ঘৃণ্য কাজ করে কিছু লোক বিকৃত আনন্দ পাচ্ছে। তাদের কারণে আমাদের ঘর থেকে বের হওয়া বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করাও অনিরাপদ হয়ে পড়ছে।"
মানববন্ধন থেকে তথাকথিত সুশীল সমাজের নীরব ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবাদী নারী বলেন, "এভাবে নারীদের সম্মানহানি করে বিকৃত আনন্দ নেওয়া হচ্ছে, আর আমাদের তথাকথিত সুশীল সমাজ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে—যা আরও উদ্বেগজনক। আমি এই জঘন্য কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।"
তাদের দাবি , দ্রুত এসব অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। অন্যথায়, এদের এমন অপকর্ম ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ ও হিংস্র রূপ নিতে পারে।
সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ শাহিন বলেন,ফেসবুকে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে কাউকে অপদস্থ করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (বর্তমানে সাইবার নিরাপত্তা আইন) অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ। প্রশাসনের উচিত প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সাথে নিয়ে তদন্ত করা।
এই বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, "নারীদের হয়রানির বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করি। তবে অনেক সময় ভুক্তভোগীরা লজ্জার কারণে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন না। আমরা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেব।"
সীতাকুণ্ডের সচেতন মহল মনে করে, শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ করেই এই অপরাধ বন্ধ করা সম্ভব নয়। এজন্য পরিবারের পক্ষ থেকে নৈতিক শিক্ষা প্রদান এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;