
বাঙালির প্রাণের উৎসব, অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক পহেলা বৈশাখকে বরণ করে নিতে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে এখন সাজ সাজ রব। নতুন বছরকে রঙিনভাবে স্বাগত জানাতে শিল্পকলা একাডেমি থেকে শুরু করে রাজপথ—সর্বত্রই চলছে শেষ মুহূর্তের কর্মব্যস্ততা। মঙ্গলবার ভোরে ভোরের সূর্যের সাথে সাথে শুরু হবে এই মিলনমেলা।
নগরের এম এম আলী সড়কের জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এখন রঙের খেলা। জেলা শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে মঙ্গলবার বের হবে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। এই শোভাযাত্রাকে প্রাণবন্ত করতে গত বৃহস্পতিবার থেকে গ্যালারি ভবনে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী মুখোশ তৈরির বিশেষ কর্মশালা।
শিল্পী অরূপ বড়ুয়ার নেতৃত্বে চারুকলার শিক্ষার্থীরা নিপুণ হাতে তৈরি করছেন হরেক রকম ঢং ও রঙের মুখোশ। শিক্ষার্থীরা জানান, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির এই উৎসবে যোগ দিতে তারা দিনরাত এক করে কাজ করছেন। শিল্পী অরূপ বড়ুয়া বলেন, “বাঙালির এই উৎসবকে প্রাণবন্ত করতে চারুকলার শিক্ষার্থীরা রসদ জোগাচ্ছে। তাদের তৈরি এই মুখোশগুলোই শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া নারী-পুরুষের মুখে নতুন বছরের বার্তা পৌঁছে দেবে।”
প্রতি বছরের মতো এবারও নগরের সিআরবি শিরীষ তলায় অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। তবে গত কয়েক দশকের ঐতিহ্যবাহী ভেন্যু ডিসি হিল নিয়ে এবারও রয়েছে কিছুটা ভিন্ন চিত্র। ১৯৭৮ সাল থেকে সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদ ডিসি হিলে অনুষ্ঠান করে আসলেও এবারও তাদের সেখানে অনুমতি দেওয়া হয়নি। গত বছর অনুষ্ঠানস্থলে মঞ্চ ভাঙচুরের ঘটনার পর এবার সেখানে জেলা প্রশাসনের নিজস্ব উদ্যোগে বর্ষবরণ আয়োজনের কথা রয়েছে।
নববর্ষ উপলক্ষে জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, চট্টগ্রাম দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাত ৮টায় বৌদ্ধ মন্দির সড়কে শত শিল্পীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে ‘আলপনার রঙে নববর্ষ আবাহন’। রাজপথের কালো পিচ ঢেকে যাবে শৈল্পিক কারুকার্যে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে এনায়েত বাজার মহিলা কলেজ মাঠে দিনব্যাপী চলবে নাচ, গান ও কবিতার আসর।
সব মিলিয়ে এক বছরের গ্লানি মুছে নতুন স্বপ্ন আর রঙিন মুখোশের আড়ালে নিজেকে খুঁজে পেতে প্রস্তুত চট্টগ্রাম। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সম্মিলিত প্রয়াসই এই উৎসবকে পূর্ণতা দিচ্ছে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;