
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে দীর্ঘ দিন ধরে চলা ‘অবৈধ ও অসামাজিক’ কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় জনপদ। এসব অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার হয়েছেন ‘ধর্ষণ প্রতিরোধ মঞ্চ’ নামে একটি সামাজিক সংগঠনের নেতারা। এর প্রতিবাদে এবং সীতাকুণ্ডের পর্যটন পরিবেশ রক্ষায় ৪ দফা দাবি জানিয়ে প্রশাসনকে কঠোর আল্টিমেটাম দিয়েছে সংগঠনটি।
গতকাল সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ ও দাবি উত্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ধর্ষণ প্রতিরোধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় সংগঠক মো. আসাদ অভিযোগ করেন, গত ৬ এপ্রিল সীতাকুণ্ডের ‘সাইমন আবাসিক হোটেলে’ অবৈধ কর্মকাণ্ডের খবর পেয়ে তারা সীতাকুণ্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) অবহিত করেন। পুলিশ আসার আগেই সংগঠনের নেতা আসাদ ও ইকরাম হোসেন রানা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের হাতেনাতে ধরলে হোটেল মালিক ও ম্যানেজার তাদের ওপর চড়াও হন।
আহত আসাদ জানান, হোটেল কর্তৃপক্ষ তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, ঘটনার সময় স্থানীয় বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকলেও তারা ভুক্তভোগীদের সহযোগিতা না করে উল্টো হোটেল কর্তৃপক্ষের পক্ষাবলম্বন করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর রাতে একটি সমঝোতা বৈঠক ডাকার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী পক্ষগুলো তাতে উপস্থিত হয়নি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সীতাকুণ্ডের সামাজিক পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি চার দফা দাবি পেশ করা হয়েছে । তাদের দাবীর মধ্যে ছিল,
০১. সাইমন আবাসিক হোটেল অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আখড়া হিসেবে পরিচিত এই হোটেলটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।
০২. হামলাকারী হোটেল মালিক ও ম্যানেজারকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে ।
০৩. বাজার কমিটির সভাপতিকে তার বিতর্কিত ভূমিকার জন্য জনসমক্ষে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
০৪. সীতাকুণ্ডের সকল আবাসিক হোটেলে অবৈধ মেলামেশা ও দেহব্যবসা বন্ধে নিয়মিত অভিযান এবং কঠোর আইনি নোটিশ জারি করতে হবে।
সংগঠনটির নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সীতাকুণ্ড একটি পবিত্র ধর্মীয় ও পর্যটন এলাকা। এখানে আবাসিক হোটেলের আড়ালে জঘন্য অপরাধ চলতে দেওয়া হবে না। যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ৪ দফা দাবি বাস্তবায়ন না করা হয়, তবে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে সীতাকুণ্ড অচল করে দেওয়ার মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ধর্ষণ প্রতিরোধ মঞ্চের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;