
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি কারখানার গোডাউনের শেড মেরামত করার সময় তা ধসে পড়ে দুই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বার আউলিয়া বক্তারপাড়া এলাকায় অবস্থিত ‘অল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’ নামক একটি জিংক অ্যাশ উৎপাদন কারখানায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন— কুমিল্লার লাঙ্গলকোট উপজেলার আবু তাহেরের ছেলে মো. জহির (২৫) এবং নোয়াখালী জেলার লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানার মোল্লাবাড়ি গ্রামের নেছার আহমেদের ছেলে মো. ফারুক (৪০)। তারা দুজনেই ওই কারখানায় দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের হালিশহরের বাসিন্দা তুহিন নামক এক ব্যক্তির মালিকানাধীন এই কারখানায় জিংক অ্যাশ (দস্তা ছাই) উৎপাদন করা হয়। আজ সকালে কারখানার একটি গোডাউনের লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে তৈরি শেড মেরামতের কাজ করছিলেন জহির ও ফারুক। তারা শেডের ওপরে থাকা অবস্থায় হঠাৎ বিকট শব্দে পুরো কাঠামোটি ধসে নিচে পড়ে যায়। এতে ভারী লোহার অ্যাঙ্গেল ও টিনের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় যুবক মো. জাফর বলেন, "হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দ শুনে আমরা দৌড়ে কারখানার ভেতরে যাই। গিয়ে দেখি গোডাউনের পুরো শেডটি ধসে পড়ে আছে এবং তার নিচে চাপা পড়ে থাকা দুই শ্রমিকের নিথর দেহ পড়ে রয়েছে।"
দুর্ঘটনার পর কারখানার ভেতরে থাকা অন্যান্য শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই কারখানা কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে নিহত দুই শ্রমিকের মরদেহ দুর্ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে ফেলে এবং অ্যাম্বুলেন্স যোগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, "গোডাউনে কাজ করার সময় দুই শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
উল্লেখ্য যে, ‘অল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’ নামক এই কারখানাটির বিরুদ্ধে এর আগেও পরিবেশ দূষণের গুরুতর অভিযোগ ছিল। ২০২৪ সালের ১৮ এপ্রিল পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অমান্য করে জিংক অ্যাশ উৎপাদনের মাধ্যমে বায়ুদূষণের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত কারখানাটিতে অভিযান চালিয়েছিল। সে সময় কারখানার মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একদিকে পরিবেশ দূষণ এবং অন্যদিকে শ্রমিকদের নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাজ চালানোর কারণেই আজ দুই প্রাণ অকালে ঝরে গেল।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;