
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী অংশে ক্রমবর্ধমান সড়ক দুর্ঘটনা রোধ, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং জনভোগান্তি লাঘবের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় জনতা। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার লক্ষে ৭ দফা দাবিতে সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় মহাসড়কের পাশে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলন’ (নিসআ) ভাটিয়ারী শাখা।
কর্মসূচি শেষে আন্দোলনকারীরা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জাহিদুল ইসলাম মিয়ার মাধ্যমে সরকারের উচ্চ মহলে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক লাইফলাইন খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভাটিয়ারী অংশটি এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত ফুটওভার ব্রিজ, যত্রতত্র বাস পার্কিং এবং মহাসড়কের উভয় পাশে উল্টোপথে থ্রি-হুইলার চলাচলের কারণে এখানে প্রতিনিয়ত রক্ত ঝরছে। বক্তারা অভিযোগ করেন, জনবহুল এলাকায় ফুটপাতগুলো ভাসমান দোকানের দখলে থাকায় পথচারীদের মূল সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে হাঁটতে হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আন্দোলনকারীদের ৭ দফা দাবি

স্মারকলিপিতে নিসআ’র পক্ষ থেকে যে দাবিগুলো তুলে ধরা হয়েছে তা হলো:
১. ভাটিয়ারী দক্ষিণ পাশের বর্তমান অনুপযোগী ফুটওভার ব্রিজটি সরিয়ে দ্রুত শহীদ মিনারের পাশে পুনঃনির্মাণ।
২. মহাসড়কের উভয় পাশে অবৈধ ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করে ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করা।
৩. জনাকীর্ণ এলাকা থেকে দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলো সরিয়ে সুবিধাজনক নির্জন স্থানে স্থানান্তর।
৪. কদমরসুল, বানুবাজার মাদ্রাসা ও জলিল বাজারের সামনে অবিলম্বে জেব্রাক্রসিং চিহ্নিত করা।
৫. মাদামবিবিরহাট মাজারের পাশের ফুটওভার ব্রিজটি সরিয়ে শাহজাহান উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে স্থাপন (যেখানে শত শত শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হয়)।
৬. মহাসড়কে সিএনজি, অটোরিকশা ও থ্রি-হুইলারের উল্টোপথে চলাচল কঠোরভাবে বন্ধ করা।
৭. যত্রতত্র গাড়ি রাখা বন্ধ করে মহাসড়কের উভয় পাশে নির্দিষ্ট স্থানে পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা করা।
নিরাপদ সড়ক আন্দোলন (নিসআ) ভাটিয়ারী শাখার এই কর্মসূচিতে স্থানীয় সচেতন ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষ সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি মোঃ খোরশেদ আলম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাজ্জাদ হোসেন (আসিফ)।
এছাড়াও দাবি আদায়ে রাজপথে ছিলেন, মোঃ মানিক হোসেন, মোঃ নাদিম হায়দার, মোঃ নাঈম উদ্দিন, মোঃ আরফাতুল ইসলাম মুন্না, মোঃ সাকিব, ইমরান হোসেন, মোঃ ওবায়দুল হক ইসমাম, মোঃ সোহেল, মোঃ ইকরামুল হক, মোঃ রোহান, মোঃ আশরাফ উদ্দিন সাইমন, মোঃ সাইফুল, মোঃ নূর উদ্দিন, মোঃ লিও রানা, মোঃ সানি, মোঃ সাজ্জাদ, মোঃ সামিত, মোঃ তুষার এবং পাপ্পু মজুমদারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে নিসআ নেতারা বলেন, "সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা স্মারকলিপির মাধ্যমে আমাদের নায্য দাবিগুলো প্রশাসনের কাছে তুলে ধরেছি।" তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে আগামীতে মহাসড়ক অবরোধসহ আরও কঠোর ও বিরামহীন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
আন্দোলনকারীরা এই বিষয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের আশু হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;