
সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকার একচ্ছত্র অধিপতি, পাহাড় খেকো এবং কুখ্যাত সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান কাজী মশিউর রহমান (৬০) অবশেষে র্যাবের জালে ধরা পড়েছেন। গত বুধবার (২ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন ২ নম্বর গেট রেল বিট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব-৭।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, মশিউর রহমান দীর্ঘ দিন ধরে পলাতক থেকে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করেছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৭-এর একটি চৌকস দল পাঁচলাইশ এলাকায় অবস্থান নেয়। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মশিউর পালানোর চেষ্টা করলেও অত্যন্ত ক্ষিপ্রতার সাথে তাকে ঝাপটে ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
স্থানীয়দের কাছে ‘ছিন্নমূল মশিউর’ নামে পরিচিত এই ব্যক্তি অন্য সন্ত্রাসীদের সাথে জঙ্গল সলিমপুরের প্রায় ৩১০০ একর সরকারি খাস জমি দখল করে গড়ে তুলেছিলেন এক নিজস্ব রাজ্য। ‘চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সমন্বয় সংগ্রাম পরিষদ’-এর সাধারণ সম্পাদকের পদের আড়ালে তিনি পাহাড় কেটে অবৈধ বসতি স্থাপন এবং অপরাধমূলক সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করতেন। সেখানে প্রশাসনের প্রবেশ ছিল প্রায় অসম্ভব। অভিযোগ রয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দাগী অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে তিনি এই দুর্গম পাহাড়ী এলাকাকে ব্যবহার করতেন।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত মশিউর গত বছরের ৫ অক্টোবর সীতাকুণ্ড থানায় দায়ের করা একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার ৪ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে (২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে) জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব কর্মকর্তা ডিএডি আব্দুল মোতালেব হত্যা মামলারও অন্যতম প্রধান আসামি তিনি।
মশিউর’ নামে রয়েছে খুন, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, অপহরণ, চাঁদাবাজি এবং পাহাড় কাটাসহ অন্তত ২৭ থেকে ৩০টি গুরুতর মামলা । তিনি নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে এলাকার প্রতিটি ঘর থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন । চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে নিজস্ব টর্চার সেলে চলতো অমানুষিক নির্যাতন।
উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালে গ্রেফতার এড়াতে তিনি বিষপান করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছিলেন, যদিও সে সময় তার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছিল।
র্যাব-৭-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) জানান, মশিউর রহমানকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি পুনরায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। তার এই গ্রেফতারে সীতাকুণ্ড ও জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন ।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;