
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কৃষকদের দীর্ঘ কয়েক দশকের দাবি ও প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। সবজি ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত এই উপজেলায় প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে স্থাপন করা হয়েছে দুটি ‘মিনি কোল্ড স্টোরেজ’। আধুনিক এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এখন থেকে স্থানীয় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পচনশীল সবজি সংরক্ষণ করতে পারবেন, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের নায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করবে।
জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সাশ্রয়ী কোল্ড স্টোরেজ প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকের আয় বৃদ্ধি’ প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলার সীতাকুণ্ড পৌরসভার নোনাছড়া গ্রাম এবং বারৈয়াঢালা ইউনিয়ন টেরিয়াল গ্রামে দুই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই স্টোরেজগুলো স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (০১ এপ্রিল) রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এই কোল্ড স্টোরেজ দুটি পরিদর্শন করেন তাছাড়া রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান থেকে আসা কৃষি সংশ্লিষ্ট তিনটি পরিদর্শন দল সীতাকুণ্ডের এই মডেলটি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শন শেষে কৃষিবিদ কাজল তালুকদার সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং পাহাড়ের দুর্গম এলাকাগুলোতে কৃষিপণ্য সংরক্ষণে এই ধরনের সাশ্রয়ী প্রযুক্তি স্থাপনের জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সীতাকুণ্ড উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ হাবিবুল্লাহ জানান, সীতাকুণ্ডে প্রচুর পরিমাণে সবজি উৎপাদিত হলেও তাৎক্ষণিক বাজারমূল্য কম থাকলে বা বাজারজাতকরণে সমস্যা হলে কৃষকরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তেন। এই মিনি কোল্ড স্টোরেজগুলো সেই সমস্যার সমাধান দেবে।
এই স্টোরেজগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো— এগুলো সৌর বিদ্যুৎ এবং সাধারণ বিদ্যুৎ উভয় মাধ্যমেই পরিচালিত হতে পারবে। ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়ও সবজি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না। বর্তমানে এটি পরীক্ষামূলক বা প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও, কৃষকরা এর সুফল পেতে শুরু করলে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে আরও বড় পরিসরে এই প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, কয়েক যুগ ধরে তারা সীতাকুণ্ডে একটি হিমাগারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। উৎপাদিত সবজি পচে যাওয়া বা পানির দরে বিক্রি করে দেওয়ার যে কষ্ট, এই মিনি কোল্ড স্টোরেজ তা দূর করবে।
কৃষি বিভাগের আশা, সরকারি এই উদ্যোগ সফল হলে অদূর ভবিষ্যতে ব্যক্তি উদ্যোগেও সীতাকুণ্ডে এ ধরনের ছোট ছোট কোল্ড স্টোরেজ গড়ে উঠবে, যা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;