
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলার এক আসামি পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায়ই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করেছেন—এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা যায়, র্যাব কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আলীনগরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিনের সহযোগী দেলোয়ার হোসাইন ও মো. সোহেলকে গত শুক্রবার দুপুরে আটক করে স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওমর ফারুকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে, গ্রেপ্তার হওয়া দেলোয়ার হোসাইন নিজেই বাদী হয়ে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুরে দেলোয়ার ও তার এক বন্ধু মোটরসাইকেলে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে ছিন্নমূল বাজার এলাকায় অপহরণের শিকার হন। এ সময় তাদের মারধর করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে ৯৯৯ নম্বরে কল করলে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে।
তবে প্রশ্ন উঠেছে, পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় কীভাবে একজন হত্যা মামলার আসামির কাছ থেকে এজাহার গ্রহণ করা হলো। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আমিনুল ইসলাম বলেন, “দুজনকে অপহরণের হাত থেকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয় এবং এ ঘটনায় আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে গ্রেপ্তারের পর আসামি কীভাবে মামলা করেছেন, তা আমার জানা নেই।”
অন্যদিকে, সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “আসামি হলেও তার আইনগত অধিকার রয়েছে। আমরা তাকে গ্রেপ্তারের পর মামলা গ্রহণ করিনি। মামলা গ্রহণের পর জানতে পারি তিনি র্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলার সন্দেহভাজন। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।”
ঘটনাটি নিয়ে জনমনে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলার অভিযোগ থাকা অবস্থায় তার করা অপহরণ মামলা গ্রহণের প্রক্রিয়া ও সময় নিয়ে স্বচ্ছতা দাবি করছেন স্থানীয়রা।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;