
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী, এফসিএ বলেছেন, স্বাধীনতার চেতনার স্বপক্ষে অবস্থান এবং তরুণ সমাজের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা দিয়েছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য সন্তান জননেতা তারেক রহমান।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সীতাকুণ্ড পৌর সদরে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী গণমিছিল ও জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভাকে ঘিরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
আসলাম চৌধুরী বলেন, বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব এবং নির্বাচনী ইশতেহার মূলত দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের দলিল। এতে ফ্যামিলি কার্ড চালু, কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সরাসরি সহায়তা, শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, ক্রীড়া ও শিক্ষাবান্ধব কার্যক্রম সম্প্রসারণসহ বাস্তবভিত্তিক ও সময়োপযোগী পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত হবে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশ বিশ্বে একটি নতুন রোল মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মুরুব্বিরা চান তাঁদের সন্তানেরা একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশে বেড়ে উঠুক। সেই লক্ষ্যেই দলমত নির্বিশেষে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার বিকল্প নেই। ধানের শীষ প্রতীক গণতন্ত্রের প্রতীক, এটি গরিব-দুঃখী মানুষের প্রতীক, কৃষক, শ্রমিক, জেলে, সবজি বিক্রেতা, ঠেলাগাড়িচালক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখ ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থেকে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে এবং ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে, যাতে জনগণের রায় কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়।

বিএনপি সবসময় জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল—এ কথা উল্লেখ করে আসলাম চৌধুরী বলেন, জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বেকার সমস্যা দূরীকরণ, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণ, কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন, জাহাজভাঙা শিল্পের টেকসই বিকাশ, পর্যটন খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং তরুণ সমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে একটি কর্মসংস্থানমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে—ইনশাল্লাহ।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক গাজী মো. সুজা উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মোহাম্মদ মোরছালিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি ও বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা কাজী মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, ডা. কমল কদর, কাজী মো. মহিউদ্দিন, জহরুল আলম জহুর, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ মুন্না, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন, সদস্য সচিব সালেহ আহম্মদ সলু, সাবেক সভাপতি ইউসুফ নিজামী, জয়নাল আবেদীন দুলাল, যুবদল নেতা আওরঙ্গজেব মোস্তফা, ফজলুল করিম চৌধুরী, সাহাব উদ্দিন রাজু, ছাত্রদল নেতা কোরবান আলী শাহেদসহ আরও অনেকে।
এছাড়া সৈয়দপুর, বারৈয়াঢালা, মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড, বাঁশবাড়িয়া, কুমিরা, সোনাইছড়ি, ভাটিয়ারী, সলিমপুর এবং সীতাকুণ্ড পৌর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন—যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল ও ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী জনসভায় উপস্থিত ছিলেন।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;