
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় একটি খামারে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা খামারের এক কর্মীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে শাহিওয়াল জাতের সাতটি গরু লুট করে নিয়ে গেছে। মঙ্গলবার ( ২০ জানুয়ারি ) ভোর সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের সিডিএ আবাসিক এলাকায় ‘ব্রাদার্স অ্যাগ্রো’ নামের ওই খামারে এ ঘটনা ঘটে।
আহত খামারকর্মীর নাম মোহাম্মদ বাচ্চু মিয়া। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। চিকিৎসকরা জানান, তাঁর দুই পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রাদার্স অ্যাগ্রো খামারটির মালিক সাজেদ চৌধুরী। তিনি বর্তমানে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে খামারটির দেখাশোনা করে আসছিলেন বাচ্চু মিয়া। প্রতিদিনের মতো সোমবার রাতেও তিনি খামারের ভেতরে থাকা একটি ঘরে অবস্থান করছিলেন। নিরাপত্তার জন্য খামারের দুটি ফটকে তালা দেওয়া ছিল।
আহত বাচ্চু মিয়ার বরাতে স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মালেক চৌধুরী জানান, ভোরের দিকে একদল ডাকাত খামারের একটি ফটকের তালা ভাঙার চেষ্টা করে। শব্দ পেয়ে বাচ্চু মিয়া ফটকের কাছে এগিয়ে যান। এ সময় দেয়াল টপকে কয়েকজন ডাকাত ভেতরে ঢুকে তাঁর গলায় ছুরি ধরে তাঁকে জিম্মি করে ফেলে। তিনি চিৎকার শুরু করলে ডাকাতরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ডাকাতদল প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাচ্চু মিয়ার মাথায় দুটি কোপ দেয়। এরপর তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করে দুই পায়ে আঘাত করে হাড় ভেঙে দেয়। একপর্যায়ে তাঁর হাত বেঁধে খামারের ভেতরে ফেলে রেখে ডাকাতরা গরুগুলো লুট করে নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ডাকাতরা মুখোশ পরিহিত ছিল এবং একটি পিকআপ ভ্যানে করে ঘটনাস্থলে আসে। লুট হওয়া গরুর মধ্যে ছয়টি ষাঁড় ও একটি গাভি রয়েছে। সবগুলোই উন্নত জাতের শাহিওয়াল গরু। এসব গরুর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন খামার সংশ্লিষ্টরা।
ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর গুরুতর আহত অবস্থায় বাচ্চু মিয়া গড়াগড়ি দিয়ে খামার থেকে বের হয়ে আসেন। পরে তিনি প্রতিবেশীদের ঘুম থেকে ডেকে ডাকাতির বিষয়টি জানান। স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সিডিএ আবাসিক এলাকা হওয়া সত্ত্বেও এ ধরনের দুঃসাহসিক ডাকাতি নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই নির্দেশ করে। তাঁদের অভিযোগ, এলাকায় রাতে পুলিশের টহল খুবই সীমিত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সোহেল রানা বলেন, একটি খামার থেকে গরু লুটের খবর আমরা পেয়েছি। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং গরু উদ্ধারে অভিযান চালানো হবে।
প্রসঙ্গত, এর আগেও সীতাকুণ্ড উপজেলায় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৯ ডিসেম্বর রাতে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের মাইলের মাথা এলাকায় ‘এন আই অ্যাগ্রো’ নামের আরেকটি খামারে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই সময় ডাকাতরা ১২টি গরু লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার প্রায় ২০ দিন পার হলেও পুলিশ এখনো একটি গরুও উদ্ধার করতে পারেনি। সেই ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তারও করা সম্ভব হয়নি।
একই উপজেলায় ধারাবাহিকভাবে খামারে ডাকাতির ঘটনায় খামার মালিক ও কর্মীদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। তাঁরা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া গবাদিপশু উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;