চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে দীর্ঘপ্রতিক্ষার পর শুরু হয়েছে এমআরআই সেবা। তিন বছর ধরে সরকারি বৃহৎ এ হাসপাতালে এমআরআই সেবা বন্ধ ছিল। সপ্তাহখানেক আগে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে মেরামত করা হয় মেশিনটি। এরপর তা পরীক্ষামূলক পরিচালনার পর গেল বুধবার রোগীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ফলে এখন থেকে সাধারণ রোগীরা কম মূল্যে সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দিন বলেন, নতুন যন্ত্রাংশ সংযোজনের পর এমআরআই মেশিনটি পরীক্ষামূলকভাবে চলানো হয়। এরপর গত বুধবার থেকে তা রোগীদের সেবা দেয়া হচ্ছে। অফিস চলাকালীন সময়ে রোগীরা সেবা পাবেন।
এর আগে ২০১৭ সালে চমেক হাসপাতালে স্থাপন করা হয় প্রায় দশ কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা এমআরআই মেশিনটি। জাপানি ‘হিটাচি ১.৫ টেসলা’র অত্যাধুনিক মেশিনটি সরবরাহ করেন ঢাকার মেডিটেল প্রা. লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানটি। চুক্তি অনুযায়ী মেশিনটির ওয়ারেন্টি ছিল ২০২০ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত। কিন্তু তিন বছর না যেতেই ত্রæটি শুরু হয় কোটি টাকা মূল্যের এ মেশিনটির। এরপর বারবার বিকল হতে থাকে এ যন্ত্র। সর্বশেষ ২০২২ সালের মে মাসে বিকল হয় জাপান থেকে কেনা এমআরআই মেশিনটি।
দীর্ঘ বছর ধরে একমাত্র মেশিনটির সচল না থাকায় রোগীদের ভোগান্তি চরমে উঠে। সেবা বন্ধ থাকায় নিরূপায় হয়ে রোগীদের যেতে হয় বেসরকারি ল্যাবগুলোতে। এতে করে চমেক হাসপাতালের চেয়েও তিন থেকে পাঁচগুণ বেশি অর্থ গুণতে হচ্ছে রোগী-স্বজনদের। এছাড়াও মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে হাসপাতাল-ল্যাবে ছোটাছুটি করে হচ্ছেন গলদঘর্ম অবস্থা। তবে দীর্ঘদিন পরে মেশিনটি চালু হওয়ায় গরিব রোগীদের সেবা আরও সহজ হবে। এতে অর্থ কষ্টও কমবে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;