Dhaka ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে বেশী দামে মুরগি বিক্রি, ভোক্তার গলা কাটছেন ব্যবসায়ীরা !

সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ৩০ টাকা এবং সোনালী মুরগির কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। ঈদে মুরগির চাহিদা বাড়ে। আর এটাকে পুঁজি করে ভোক্তার গলা কাটছেন মুরগি ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন খুচরা বাজারে সপ্তাহখানেক আগে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা ও সোনালী মুরগি ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে পবিত্র শবে কদরের দিন (২৭ মার্চ) থেকে মুরগির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন চট্টগ্রামের মুরগি ব্যবসায়ীরা। যদিও প্রতিবছর এ সময়ে মুরগির দাম বাড়ানো ব্যবসায়ীদের পুরনো স্বভাব।

শুক্রবার (২৮ মার্চ) চট্টগ্রাম মহানগরের হালিশহর কাঁচাবাজার, রিয়াজউদ্দিন বাজার ও বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ২২০ টাকা ও সোনালী মুরগির কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কাজীর দেউড়ি বাজারসহ নগরের কিছু কিছু জায়গায় প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ২৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তাছাড়া প্রতিকেজি পাকিস্তানি কক মুরগি ৩৪০ টাকা ও দেশি মুরগি ৫৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নগরের বহদ্দারহাট কাঁচাবাজরের মুরগি বিক্রেতা মো. জয়নাল বলেন, ‘বাজারে মুরগির সরবরাহ কম। তার উপর ঈদের সময় পণ্যটির চাহিদা বাড়ে। সে সুযোগে খামারিরা দাম বাড়িয়ে দেয়। তাই এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়েছে।’

সেখানে কথা হয় মো. জানে আলম নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘গত শুক্রবার প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তখনও সেটা বাড়তি দাম মনে হয়েছে। আজ বাজারে এসে মুরগির দাম শুনে আমি অবাক। এক লাফে কেজিতে ৩০ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি হচ্ছে। কোনো নিয়ম-শৃঙ্খলা নেই। যখন যা মন চাইছে সেভাবে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কাঁচাবাজারে প্রতিকেজি হাঁড়ছাড়া গরুর মাংস ৯৫০ টাকা, হাঁড়সহ গরুর মাংস ৭৫০ টাকা ও খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।

তবে সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির বাজারে দামে তেমন তারতম্য দেখা যায়নি। বাজারে প্রতিকেজি ফুলকপি ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, ধুন্দল ৫০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, কচুমুখী ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, শসা ৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ৫০ টাকা, টমেটো ২৫ টাকা, আলু ৩০ টাকা ও ধনেপাতা ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে প্রতিকেজি রুই মাছ ২৮০ টাকা, কাতলা মাছ ৩০০ টাকা, কাঁচকি মাছ ৫০০ টাকা, পাবদা মাছ ৪৫০ টাকা, টেংরা মাছ ৮০০ টাকা, বোয়াল মাছ ৬০০ টাকা ও বড় সাইজের রূপচাঁদা মাছ ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুদির দোকানে প্রতিকেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ৭০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৩৫ টাকা, চায়না রসুন ২৩০ টাকা, দেশি রসুন ১০০ টাকা, চায়না আদা ২০০ টাকা ও কেরালা আদা ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিলিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৭৫ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ১৮০ টাকা, পামঅয়েল ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া প্রতিকেজি ছোলা ১২০ টাকা, মসুর ডাল (মোটা) ১১০ টাকা, মসুর ডাল (চিকন) ১৩৫ টাকা, বুটের ডাল ১২০ টাকা, খোলা চিনি ১২০ টাকা, প্যাকেটজাত চিনি ১২৫ টাকা, প্যাকেট ময়দা (দুই কেজি) ১৫০ টাকা ও প্যাকেট আটা (দুই কেজি) ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘খামারে যথেষ্ট পরিমাণে মুরগি রয়েছে। বাজারে সরবরাহ সংকটের কোনো কারণ দেখছি না। মূল কথা হল, ঈদের সময় মুরগির চাহিদা বাড়ে। আর এটাকেই পুঁজি করে দাম বাড়ানো হয়েছে। ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছমতো দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। এখানেও কঠোর তদারকি করা দরকার।’ খবরের কাগজ ।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

আপনার সামাজিক প্ল্যাটফর্ম এই পোস্ট শেয়ার করুন
লেখক তথ্য সম্পর্কে

চট্টগ্রামের মহাসড়কে বিআরটিএর অভিযান, মামলা ও জরিমানা

চট্টগ্রামে বেশী দামে মুরগি বিক্রি, ভোক্তার গলা কাটছেন ব্যবসায়ীরা !

আপডেটের সময় : ০৫:৪৩:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ মার্চ ২০২৫

সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ৩০ টাকা এবং সোনালী মুরগির কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। ঈদে মুরগির চাহিদা বাড়ে। আর এটাকে পুঁজি করে ভোক্তার গলা কাটছেন মুরগি ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন খুচরা বাজারে সপ্তাহখানেক আগে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা ও সোনালী মুরগি ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে পবিত্র শবে কদরের দিন (২৭ মার্চ) থেকে মুরগির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন চট্টগ্রামের মুরগি ব্যবসায়ীরা। যদিও প্রতিবছর এ সময়ে মুরগির দাম বাড়ানো ব্যবসায়ীদের পুরনো স্বভাব।

শুক্রবার (২৮ মার্চ) চট্টগ্রাম মহানগরের হালিশহর কাঁচাবাজার, রিয়াজউদ্দিন বাজার ও বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ২২০ টাকা ও সোনালী মুরগির কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কাজীর দেউড়ি বাজারসহ নগরের কিছু কিছু জায়গায় প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ২৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তাছাড়া প্রতিকেজি পাকিস্তানি কক মুরগি ৩৪০ টাকা ও দেশি মুরগি ৫৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নগরের বহদ্দারহাট কাঁচাবাজরের মুরগি বিক্রেতা মো. জয়নাল বলেন, ‘বাজারে মুরগির সরবরাহ কম। তার উপর ঈদের সময় পণ্যটির চাহিদা বাড়ে। সে সুযোগে খামারিরা দাম বাড়িয়ে দেয়। তাই এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়েছে।’

সেখানে কথা হয় মো. জানে আলম নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘গত শুক্রবার প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তখনও সেটা বাড়তি দাম মনে হয়েছে। আজ বাজারে এসে মুরগির দাম শুনে আমি অবাক। এক লাফে কেজিতে ৩০ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি হচ্ছে। কোনো নিয়ম-শৃঙ্খলা নেই। যখন যা মন চাইছে সেভাবে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কাঁচাবাজারে প্রতিকেজি হাঁড়ছাড়া গরুর মাংস ৯৫০ টাকা, হাঁড়সহ গরুর মাংস ৭৫০ টাকা ও খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।

তবে সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির বাজারে দামে তেমন তারতম্য দেখা যায়নি। বাজারে প্রতিকেজি ফুলকপি ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, ধুন্দল ৫০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, কচুমুখী ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, শসা ৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ৫০ টাকা, টমেটো ২৫ টাকা, আলু ৩০ টাকা ও ধনেপাতা ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে প্রতিকেজি রুই মাছ ২৮০ টাকা, কাতলা মাছ ৩০০ টাকা, কাঁচকি মাছ ৫০০ টাকা, পাবদা মাছ ৪৫০ টাকা, টেংরা মাছ ৮০০ টাকা, বোয়াল মাছ ৬০০ টাকা ও বড় সাইজের রূপচাঁদা মাছ ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুদির দোকানে প্রতিকেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ৭০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৩৫ টাকা, চায়না রসুন ২৩০ টাকা, দেশি রসুন ১০০ টাকা, চায়না আদা ২০০ টাকা ও কেরালা আদা ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিলিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৭৫ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ১৮০ টাকা, পামঅয়েল ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া প্রতিকেজি ছোলা ১২০ টাকা, মসুর ডাল (মোটা) ১১০ টাকা, মসুর ডাল (চিকন) ১৩৫ টাকা, বুটের ডাল ১২০ টাকা, খোলা চিনি ১২০ টাকা, প্যাকেটজাত চিনি ১২৫ টাকা, প্যাকেট ময়দা (দুই কেজি) ১৫০ টাকা ও প্যাকেট আটা (দুই কেজি) ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘খামারে যথেষ্ট পরিমাণে মুরগি রয়েছে। বাজারে সরবরাহ সংকটের কোনো কারণ দেখছি না। মূল কথা হল, ঈদের সময় মুরগির চাহিদা বাড়ে। আর এটাকেই পুঁজি করে দাম বাড়ানো হয়েছে। ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছমতো দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। এখানেও কঠোর তদারকি করা দরকার।’ খবরের কাগজ ।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

আপনার সামাজিক প্ল্যাটফর্ম এই পোস্ট শেয়ার করুন