দেশের অন্যান্য এলাকার মতো সীতাকুণ্ডের সলিমপুর হযরত ইমামে আজম (রা:) জামে মসজিদে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র লাইলাতুল কদর বা পবিত্র শবে কদর পালিত হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ এই রাতে আল্লাহ নৈকট্য লাভের আশায় ইবাদত বন্দেগি করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। মসজিদে চলে জিকির আসকার, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া মাহফিল।
পবিত্র শবে কদরের রাতে বান্দার ভাগ্য নির্ধারণ করেন মহান আল্লাহ। বলা হয় মহান সৃষ্টিকর্তা যে কয়টি রাতকে বান্দার কল্যাণের জন্য নেয়ামত হিসেবে দান করেছেন তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ লাইলাতুল কদরের রাত। মূলত এর সম্মান বুঝাতে একই সাথে আল কোরআন আর সূরা কদর নাজিল হয় এই রজনীতে।
এজন্য শুকরিয়া আদায়ে মসজিদ ও বাসা-বাড়িতে ইবাদত করেছেন মুসল্লিরা। সারারাত ধরে মসগুল ছিলেন নফল নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, জিকিরে আসকারে।
নামাজ পড়তে আসা একজন বলেন, ‘ধর্ম, বর্ণ, ভিন্নমত যে যার মতোই থাকুক না কেন, বাংলাদেশ সুখে থাকুক, শান্তিতে থাকুক, স্থিরভাবে থাকুক সেই প্রত্যাশা নিয়ে আজকে মূলত আল্লাহর কাছে আমাদের আকুতি। আল্লাহ যেন আমাদের গুনাহ মাফ করে দেন। আমাদের মাতা পিতার গুনাহগুলোকে আল্লাহ মাফ করে দেন।’
মুসল্লিরা বলেন, মহান আল্লাহ লাইলাতুল কদরের রাতকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন। হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও এই রাতের ইবাদত উত্তম। এই রাতে আল্লাহ মুমিনের জন্য অশেষ রহমত ও নিয়ামত বরাদ্দ রাখেন।
এ রাত সম্পর্কে হযরত ইমামে আজম (রা:) জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবু মুহাম্মদ মুশফিক ইলাহী বলেন, ২০ রমজানের পর যেকোনো বিজোড় রাত শবে কদর হতে পারে। তবে ২৬ রমজানের রাতেই শবে কদর পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মহান আল্লাহ মুসলমানদের জন্য হাজার মাসের চেয়েও উত্তম এমন একটি রাত নির্ধারণ করেছেন, যার নাম ‘লাইলাতুল কদর’।
তিনি বলেন, এ রাত এত সম্মানিত যে, এক হাজার মাস ইবাদত করলেও যে সওয়াব হতে পারে, তার চেয়ে লাইলাতুল কদরের ইবাদতের সওয়াব অনেক বেশি। যে বেশির পরিমাণ একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। লাইলাতুল কদরের ফজিলত বোঝানোর জন্য মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ‘কদর’ নামে আলাদা একটি সুরা নাজিল করেছেন।
তিনি আরো বলেন , লাইলাতুল কদরের রাত বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কাছে অতি গুরুত্বপূর্ণ রাত। পবিত্র এ রাতেই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (দ.)-এর ওপর নাজিল হয়েছিল পবিত্র মহাগ্রন্থ আল-কোরআন। পবিত্র কোরআনে এ রাতকে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
আবু মুহাম্মদ মুশফিক ইলাহী বলেন, নবী করিম (দ.) এ রাতে নিজে ইবাদতে মশগুল থাকতেন এবং তার সাহাবিদেরও বেশি বেশি ইবাদত করার নির্দেশ দিতেন। রমজান মাসের ২১ থেকে ২৯ তারিখের মধ্যে বিজোড় সংখ্যার রাতেই পবিত্র লাইলাতুল কদর। তবে ২৭ রমজান অর্থাৎ ২৬ রমজান দিবাগত রাতকেই কদরের রাত হিসেবে ধরে নেওয়া হয়।
লাইলাতুল কদর সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন ‘নিশ্চয় আমি কুরআন নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ রাতে ফেরেশতারা ও জিবরাইল তাদের প্রভুর অনুমতিক্রমে সব সিদ্ধান্ত নিয়ে অবতরণ করে। শান্তিময় এ রাত ফজরের সূচনা পর্যন্ত। (সূরা কদর)। এ রাত কোরআন নাজিলের রাত এবং হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রাত। এ পবিত্র রাতে ফেরেশতারা পৃথিবীতে আসে মানবজাতির জন্য বরকত, রহমত ও কল্যাণ নিয়ে।’
অনেকেই ইবাদত শেষে পরিবার স্বজন আত্মীয়দের মধ্যে যারা দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন তাদের কবর জিয়ারত করেন। কবর জিয়ারত করতে আসাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘কবরবাসী সকলের জন্যই দোয়া করা হয়েছে। আজকের এই দিনের অছিলায় যেন আল্লাহ তাদের কবরের সকল আজাব মাফ করে দেন।’
মহিমান্বিত এই রজনীতে নেক হায়াতের জন্য নীরবে ক্ষমা চাইছেন অনেকেই। মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায়ে ধর্মপ্রাণ মুসলিম মা বোনেরাও মসজিদসহ বাসা-বাড়িতে বেশি বেশি নফল নামাজ, তাহাজ্জুদ, সালাতুস তাসবিহ, কাজা নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, দান-সাদকা, জিকির-আসকার, তাসবিহ-তাহলিল, তাওবা-ইসতেগফার, দুয়া-দুরুদসহ নফল আমলের প্রতি মনোযোগী ছিলেন ।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;