সীতাকুণ্ডের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ করেছেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সরোয়ার হোসাইন লাভলু । এ সময় স্বতঃস্ফূর্তভাবে সুবিধাবঞ্চিতরা এই ইফতার সামগ্রী গ্রহণ করেন ।
অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সরোয়ার হোসাইন লাভলু একজন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী হিসেবে শুধু আদালতের কাঠগড়াতেই ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করেন না এবং বিভিন্ন সনয় সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশেও দাঁড়ান। তার মানবিক ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের সর্বশেষ উদাহরণ হলো পবিত্র রমজান মাসে দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের জন্য ইফতার বিতরণ কর্মসূচি, যা তিনি নিজের প্রথম সরকারি সম্মানি থেকে পরিচালনা করেন।
রমজান হল সংযম, ত্যাগ ও সহমর্মিতার মাস। এই পবিত্র মাসে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে অনেকেই সওয়াবের কাজ হিসেবে বিবেচনা করেন। সেই চিন্তা থেকেই অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সরোয়ার হোসাইন লাভলু তার প্রথম সরকারি সম্মানি অসহায়, দুস্থ ও পথশিশুদের মাঝে ইফতার বিতরণের জন্য ব্যয় করেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (অতিরিক্ত পিপি) হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার পর, বিগত ২৪ মার্চ ২০২৫ তারিখে তিনি প্রথম তিন মাসের সম্মানি গ্রহণ করেন। তবে নিজের ব্যক্তিগত চাহিদার আগে তিনি মানুষের সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
সীতাকুণ্ড ব্লাড ব্যাংকের ইফতার মাহফিল উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের পূর্বে এই ইফতার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ড ব্লাড ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা এডমিন লায়ন মোহাম্মদ নুর খান, দিশারী যুব ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর সহ-সভাপতি লায়ন প্রভাষক মোঃ নাজিমুজ্জামান রাশেদ, সীতাকুণ্ড ব্লাড ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও এডমিন মোঃ রায়হান উদ্দিন, গরিবের বন্ধু যুব ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ আবু তাহের, সীতাকুণ্ড যুব ব্লাড ফাউন্ডেশনের সাবেক সভাপতি ও সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজ কল্যাণ ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী সদস্য মোঃ ওমর ফারুক, সীতাকুণ্ড যুব ব্লাড ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুরুদ্দিন, দিশারী রক্তদান থাকার সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইকবাল হোসেন ইমন, সীতাকুণ্ড ব্লাড ব্যাংকের এডমিন মোঃ জালাল উদ্দিন, ফারুক, মোহাম্মদ ইলিয়াস সানি সহ দিশারী যুব ফাউন্ডেশন ও সীতাকুণ্ড ব্লাড ব্যাংকের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সরোয়ার হোসাইন লাভলু বলেন, “আমার পেশা আইন, কিন্তু আমার নেশা মানবসেবা। আমি বিশ্বাস করি, আইনজীবী শুধু আদালতে নয়, বরং সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায়বিচার ও মানবতার পক্ষে কাজ করতে পারেন। আমার প্রথম সরকারি সম্মানি আমি গরিব-দুঃখীদের মাঝে ইফতার বিতরণের জন্য ব্যয় করেছি, এটি আমার জন্য পরম আনন্দের। আমি চাই, সমাজের সামর্থ্যবানরা এগিয়ে আসুক, যেন এই মানবতার শৃঙ্খল আরও দৃঢ় হয়। দিশারী যুব ফাউন্ডেশন ও সীতাকুণ্ড ব্লাড ব্যাংকের মতো সংগঠনগুলোকে পাশে পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ।”
দিশারী যুব ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর সহ-সভাপতি লায়ন প্রভাষক মোঃ নাজিমুজ্জামান রাশেদ তার বক্তব্যে বলেন, “সরোয়ার হোসাইন লাভলু শুধু একজন দক্ষ আইনজীবী নন, তিনি একজন মানবতার সৈনিক। তার এই উদ্যোগ আমাদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আইন পেশায় সফল হয়েও তিনি যেভাবে মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি আশা করি, তার এই মানবিক উদ্যোগ আমাদের যুব সমাজকে আরও অনুপ্রাণিত করবে।”
সীতাকুণ্ড যুব ব্লাড ফাউন্ডেশনের সাবেক সভাপতি ও সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজ কল্যাণ ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী সদস্য মোঃ ওমর ফারুক বলেন, “যেখানে অনেকেই ক্ষমতা ও অর্থকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করে, সেখানে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সরোয়ার হোসাইন লাভলু তার প্রথম সম্মানি দিয়ে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সমাজের উন্নয়নে এমন মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আমাদের যুব সমাজকে শিখিয়েছেন যে সত্যিকারের সেবার মানে কী।”
সীতাকুণ্ড ব্লাড ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও এডমিন মোঃ রায়হান উদ্দিন বলেন, “আমাদের সমাজে পরিবর্তন আনতে হলে, আমাদের এমন উদার ও মহান ব্যক্তিদের প্রয়োজন, যারা শুধু নিজের জন্য নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য ভাবেন। অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সরোয়ার হোসাইন লাভলু সেই বিরল মানুষদের মধ্যে একজন, যিনি তার কর্মের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে মানবসেবাই শ্রেষ্ঠ ধর্ম। আমি বিশ্বাস করি, তার দেখানো পথ অনুসরণ করলে আমরা একটি সুন্দর, মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে পারব।”
অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সরোয়ার হোসাইন লাভলুর এই উদ্যোগ শুধুমাত্র ইফতার বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সমাজের অন্যান্য সামর্থ্যবানদেরও উদ্বুদ্ধ করবে মানবসেবায় এগিয়ে আসার জন্য। তার এই উদ্যোগ আমাদের শেখায়—সামাজিক দায়বদ্ধতা কেবল দান-সাহায্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রকৃত পরিবর্তন আনতে হলে নিজেকে সেবায় নিয়োজিত করাই হলো প্রকৃত মানবতা।
সীতাকুণ্ড পৌরসভা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই ইফতার বিতরণ কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন, মানুষের জন্য ভালো কিছু করতে হলে শুধু অর্থ নয়, প্রয়োজন একান্ত ইচ্ছাশক্তি ও দায়িত্ববোধ। সমাজসেবার এই অঙ্গীকারই তাকে সত্যিকারের জনগণের আইনজীবী করে তুলেছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি ।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;