হযরত ইমামে আজম (রা:) জামে মসজিদের উদ্যোগে মরহুম-মরহুমা মুরব্বিদের ইছালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে মাহে রমজানের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২১ মার্চ) হযরত ইমামে আজম (রা:) জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মসজিদ কমিঠির সভাপতি সোলায়মান মেম্বার ।
সাধারণ সম্পাদক রসুল হক রকি’র উপস্থাপনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ড ইসলামী ফ্রন্টের সভাপতি মাওলানা মুজিব উদ্দিন আল কাদেরি।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন , ইস্পাহানী স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক , হযরত ইমামে আজম (রা:) জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবু মুহাম্মদ মুশফিক ইলাহী ।
এছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন হযরত ইমামে আজম (রা:) জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মামুনুর রশিদ ও হাফেজ তানিম প্রমুখ ।
আবু মুহাম্মদ মুশফিক ইলাহী বলেন, রহমত, মাগফিরাত, নাজাতের বার্তা নিয়ে বিশ্ব মুসলিমের দুয়ারে আসে মাহে রমজান। বিশ্ব মুসলিম সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন এ পুণ্যময় পুতপবিত্র মাসের জন্য। অসংখ্য ফজিলত ও মর্যাদাপূর্ণ মাস এটি। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে- ‘রমজান মাস, যাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। মানব জাতির হেদায়তের জন্য কোরআন সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন এবং সত্যাসত্যের পার্থক্যকারী।’ পবিত্র কোরানে আরবি বারো মাসের মধ্যে একমাত্র রমজান মাসের নাম উল্লেখ আছে। সর্বশ্রেষ্ঠ মহাগ্রন্থ আল কুরআন ও অন্যান্য আসমানী কিতাব অবতীর্ণের কারণেও এ মাস শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী।
তিনি বলেন, সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আত্মার পরিশুদ্ধি, প্রবৃত্তির নিয়ন্ত্রণ এবং ইবাদতের প্রতি অধিক মনোনিবেশ করার ইচ্ছাশক্তি জাগ্রত হয় এ মাসে। নাফ্স ও রুহের সমন্বিতরূপই জীবন। নাফস্ খানাপিনার দ্বারা শক্তিশালি হয়, পক্ষান্তরে রোজার দ্বারা নাফস্ দুর্বল হয় ফলে আত্মা শক্তিশালী হয়ে ইবাদতের প্রতি উৎসাহী হয়। মুসলমানদের পাপমুক্ত করে সুন্দর, সুস্থ ও পবিত্র জীবন গঠনের সুযোগ দানের জন্যই মহান আল্লাহর পক্ষ হতে এক অনন্য নেয়ামত রমজানুল মোবারকের এ মাস। রোজা আদায়ের দ্বারা মু’মিন রোজাদারের সমস্ত পাপ ধুয়ে-মুছে পবিত্র হয়ে যায়, দেহ-মন পুতঃপবিত্র হয়। তইতো পবিত্র রমজান মাস আসলে মুসলিম সমাজে এক অপার্থিব আনন্দের সূচনা হয়। আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন আপন অনুগ্রহে মুসলমানদের জন্য যে সকল পালনীয় বিধান দিয়েছেন-এর সবগুলোতেই নিহিত রয়েছে মানবজাতীর ইহকালীন ও পরকালীন প্রভূত কল্যাণ। রোযাও ঠিক তেমনি এক অনুপম বিধান। এ বিধান পালনে রয়েছে আধ্যাত্মিক ও দৈহিক নানা উপকার ও কল্যাণ। রয়েছে শরীরিক এবং মানসিক প্রশান্তি।
মুশফিক ইলাহী বলেন, মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা বিশ্ব মুসলিমের সর্বপ্রকার আত্ম সংশোধনের সুযোগ এনে দেয়। মূলত: মাহে রমজান মুমিন মুসলমানদের জন্য যাবতীয় অন্যায়-অবিচার-পাপ কাজ হতে বিরত থাকার প্রশিক্ষণ লাভের মাস। মাসব্যাপী এ প্রশিক্ষণ নিজ জীবনে বাস্তবায়ন করে বাকী ১১ মাস আল্লাহর নির্দেশিত পথে-মতে চলতে পারলেই মুমিন জীবন হবে স্বার্থক হবে ।
মাওলানা মুজিব উদ্দিন আল কাদেরি বলেন, মাহে রমজানুল মোবারক মুসলমানদের আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য, সংযম ও ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হওয়ার শিক্ষা নিয়ে হাজির হয়।
তিনি বলেন, প্রতিবছর রোজা আসলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী কম দামে বিক্রয়ের জন্য সরকারিভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও তৃণমূল পর্যায়ে এর খুব একটা প্রভাব পড়ে না। বাস্তবে দেখা গেছে ন্যায্য মূল্যের এসব সামগ্রী সংগ্রহে জনগণ নানা ভোগান্তির শিকার হয়। অথচ এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ লোক মুসলমান এবং ব্যবসায়ী সমাজের বিরাট অংশও মুসলমান। তবুও এ ধরনের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, কৃত্রিম সংকট, ভেজাল পণ্য বিক্রির মতো জঘন্য কর্মকাণ্ড অত্যন্ত লজ্জাজনক বটে।
এ সময় মাহে রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, এই মাস আত্মশুদ্ধি, সংযম ও ইবাদতের মাস। ইফতার মাহফিলে রমজানের ফজিলত ও ত্যাগের মহিমা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয় এবং দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;