Dhaka ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

৮ দিনের জন্য মহাকাশে গিয়ে ৯ মাস পর পৃথিবীতে ফিরছেন সুনীতা উইলিয়ামস এবং বুচ উইলমোর

সুনীতা উইলিয়ামস এবং বুচ উইলমোর

২০২৪ সালের জুন মাসে সুনীতা উইলিয়ামস এবং বুচ উইলমোর বোয়িং স্টারলাইনার মহাকাশযানে করে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) গমন করেন। তাদের মিশনের মেয়াদ ছিল মাত্র ৮ দিন। কিন্তু স্টারলাইনার মহাকাশযানে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ায় তাদের পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন বিলম্বিত হয়, ফলে তাদের মিশন ৯ মাসে পরিণত হয়। স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটের মাধ্যমে ক্রু-১০ মিশনটি ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। এই মিশনের মাধ্যমে নতুন চার মহাকাশচারী আইএসএস-এ পৌঁছেছেন। নাসা সূত্রে জানা গেছে, সুনীতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোর আগামী বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫, ভারতীয় সময় দুপুর ১:৩০ টায় (১৩:৩০) পৃথিবীর উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।

মহাকাশে অবস্থানকালে সুনীতা ও বুচ বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং মহাকাশ স্টেশনের রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তাদের এই দীর্ঘ সময়ের অবস্থান মহাকাশ গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তবে,দীর্ঘ সময় মহাকাশে অবস্থানের পর পৃথিবীতে ফিরে আসার সময় মহাকাশচারীরা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।

মহাকাশে মাইক্রোগ্রাভিটি পরিবেশে পেশী ও হাড়ের উপর চাপ কম থাকে, ফলে তাদের ঘনত্ব হ্রাস পেতে পারে। মহাকাশে দীর্ঘ সময় থাকার পর ভারসাম্য ও সমন্বয় ক্ষমতায় সমস্যা হতে পারে। রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থায় পরিবর্তন হতে পারে, যা পৃথিবীতে ফিরে আসার পর রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দনে প্রভাব ফেলতে পারে।

ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার জানায়, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) রয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস এবং তাঁর সঙ্গী বুচ উইলমোর। ন’মাস পর তাঁরা পৃথিবীতে ফিরতে চলেছেন। তাঁদের নিয়ে আসতে আইএসএসে পৌঁছে গিয়েছে ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেসএক্সের মহাকাশযান। অবশেষে ঘড়ি ধরে সুনীতাদের অবতরণের সময় জানাল নাসা। আমেরিকার ফ্লরিডার উপকূলে স্থানীয় সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৫৭মিনিটে তাঁরা নামবেন। ভারতের ঘড়িতে ওই সময় বুধবার ভোর সাড়ে ৩টে।

বুধবার, ১৯ মার্চের আগে যে সুনীতারা ফিরছেন না, তা আগেই জানিয়েছিল নাসা। কিন্তু বুধবার ঠিক কোন সময়ে তাঁদের মহাকাশযান পৃথিবীতে অবতরণ করবে, তা এত দিন স্পষ্ট ছিল না। রবিবার রাতে একটি বিবৃতি দিয়ে সময় জানিয়েছে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। এই অবরতরণ প্রক্রিয়া নাসা সরাসরি সম্প্রচার করবে। তা শুরু হয়ে যাবে সোমবার থেকেই।

নাসা জানিয়েছে, সোমবার ভারতীয় সময় সকাল ৮টা ১৫ থেকেই সুনীতাদের অবতরণ প্রক্রিয়ার সরাসরি সম্প্রচার শুরু হয়ে যাবে। নাসার ওয়েবসাইটে এবং সমাজমাধ্যমের পাতায় তা দেখা যাবে। ওই সময়ে তাঁদের মহাকাশযানটির দরজা বন্ধ হবে। শুরু হবে মহাকাশ স্টেশন থেকে সরে আসার প্রক্রিয়া। তাতেও বেশ খানিকটা সময় লাগবে। ওই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে শুরু হবে অবতরণ।

রবিবার সকালে সুনীতাদের ফেরাতে মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছেছিল স্পেসএক্সের ড্র্যাগন যান। তাতে ছিলেন আরও চার নভশ্চর। সুনীতারা তাঁদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে ফিরবেন। আগামী কিছু দিনের জন্য মহাকাশ স্টেশন পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে ওই চার মহাকাশচারীর উপর। তাঁরা হলেন নাসার অ্যান ম্যাক্লেন, নিকোল আইয়ার্স, জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জাক্সার প্রতিনিধি টাকুয়া ওনিশি এবং রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা রসকসমসের প্রতিনিধি কিরিল পেসকভ। এ ছাড়া, সুনীতা এবং বুচের সঙ্গে পৃথিবীতে ফিরছেন নাসার নিক হগ এবং রুশ নভশ্চর আলেকজ়ান্ডার গর্বুনভ।

রবিবার থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত সহকর্মীদের দায়িত্ব বুঝিয়েছেন সুনীতা-সহ বাকিরা। এখনও সেই প্রক্রিয়াই চলছে। মহাকাশে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি না-থাকায় যে কোনও কাজেই তুলনামূলক বেশি সময় লাগছে তাঁদের।

গত বছরের জুন মাসে মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিলেন সুনীতা এবং বুচ। আট দিন পরেই তাঁদের পৃথিবীতে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু যে যানে চড়ে তাঁরা গিয়েছিলেন, সেই বোয়িং স্টারলাইনারে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। মহাকাশেই তাঁরা আটকে পড়েন। আট দিনের মহাকাশ সফর ন’মাসে দীর্ঘায়িত হয়। এই সময়ের মধ্যে বার বার নানা কারণে তাঁদের প্রত্যাবর্তন পিছিয়ে গিয়েছে। মহাকাশ থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা ভাবে বার্তা দিয়েছেন সুনীতা এবং বুচ। সাংবাদিক বৈঠকও করেছেন। তাঁদের ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে সারা বিশ্ব।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান মহাকাশচারী সুনীতা লিন উইলিয়ামস জন্মগ্রহণ করেন ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৬৫ সালে ওহিওতে। তার বাবা দীপক পান্ড্য একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসক এবং মা বোনি পান্ড্য ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত। ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি তার আগ্রহ ছিল প্রবল। শিক্ষাজীবনে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল একাডেমি থেকে স্নাতক এবং ফ্লোরিডা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স করেন। ১৯৮৭ সালে মার্কিন নৌবাহিনীতে হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে যোগ দেন এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক মিশনে অংশ নেন।

মহাকাশ যাত্রা ও রেকর্ড
১৯৯৮ সালে নাসার মহাকাশচারী প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে নির্বাচিত হন তিনি। ২০০৬ সালে প্রথমবারের মতো মহাকাশে পাড়ি দেন এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) ১৯৫ দিন অবস্থান করে নতুন রেকর্ড গড়েন। ২০১২ সালে দ্বিতীয়বার মহাকাশ মিশনে অংশ নেন, যেখানে তিনি সর্বাধিক সময় স্পেসওয়াকের (মহাকাশে হাঁটার) রেকর্ড গড়েন। ২০২৪ সালে বোয়িং স্টারলাইনারের পরীক্ষামূলক মিশনে অংশ নেন, যা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে প্রত্যাশার চেয়ে দীর্ঘ হয়ে যায়।

বুচ উইলমোর: সামরিক ক্যারিয়ার থেকে মহাকাশ অভিযানে
ব্যারি ইউজিন “বুচ” উইলমোর, জন্ম ২৯ ডিসেম্বর ১৯৬২, টেনেসির এক ছোট শহরে। শিক্ষাজীবনে তিনি টেনেসি টেক ইউনিভার্সিটিতে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং পরে নেভাল পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্কুল থেকে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন।

মহাকাশ অভিযানের শুরু
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে টেস্ট পাইলট হিসেবে যোগ দেন এবং বিমানবাহিনীতে দীর্ঘদিন কাজ করেন। ২০০০ সালে নাসার মহাকাশচারী প্রোগ্রামে নির্বাচিত হন এবং ২০০৯ সালে STS-129 মিশনে প্রথম মহাকাশে যান।

২০১৪ সালে তিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) মিশন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০২৪ সালে সুনীতা উইলিয়ামসের সঙ্গে বোয়িং স্টারলাইনারের পরীক্ষামূলক মিশনে অংশ নেন।

দীর্ঘ ৯ মাস পর প্রত্যাবর্তন
সুনীতা ও বুচের এবারের মহাকাশ মিশন ছিল মূলত বোয়িং স্টারলাইনার ক্যাপসুলের কার্যকারিতা যাচাই করা। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পরিকল্পনার চেয়ে অনেক বেশি সময় তারা মহাকাশে অবস্থান করতে বাধ্য হন। অবশেষে নাসার প্রকৌশলীরা সমস্যাগুলো সমাধান করায় তারা শীঘ্রই পৃথিবীতে ফিরতে চলেছেন।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

আপনার সামাজিক প্ল্যাটফর্ম এই পোস্ট শেয়ার করুন
ট্যাগ:
লেখক তথ্য সম্পর্কে

সীতাকুণ্ডে ঈদুল ফিতরের দিনে মেজবানির আয়োজন , চলছে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে

৮ দিনের জন্য মহাকাশে গিয়ে ৯ মাস পর পৃথিবীতে ফিরছেন সুনীতা উইলিয়ামস এবং বুচ উইলমোর

আপডেটের সময় : ০৬:০১:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ মার্চ ২০২৫

২০২৪ সালের জুন মাসে সুনীতা উইলিয়ামস এবং বুচ উইলমোর বোয়িং স্টারলাইনার মহাকাশযানে করে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) গমন করেন। তাদের মিশনের মেয়াদ ছিল মাত্র ৮ দিন। কিন্তু স্টারলাইনার মহাকাশযানে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ায় তাদের পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন বিলম্বিত হয়, ফলে তাদের মিশন ৯ মাসে পরিণত হয়। স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটের মাধ্যমে ক্রু-১০ মিশনটি ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। এই মিশনের মাধ্যমে নতুন চার মহাকাশচারী আইএসএস-এ পৌঁছেছেন। নাসা সূত্রে জানা গেছে, সুনীতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোর আগামী বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫, ভারতীয় সময় দুপুর ১:৩০ টায় (১৩:৩০) পৃথিবীর উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।

মহাকাশে অবস্থানকালে সুনীতা ও বুচ বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং মহাকাশ স্টেশনের রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তাদের এই দীর্ঘ সময়ের অবস্থান মহাকাশ গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তবে,দীর্ঘ সময় মহাকাশে অবস্থানের পর পৃথিবীতে ফিরে আসার সময় মহাকাশচারীরা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।

মহাকাশে মাইক্রোগ্রাভিটি পরিবেশে পেশী ও হাড়ের উপর চাপ কম থাকে, ফলে তাদের ঘনত্ব হ্রাস পেতে পারে। মহাকাশে দীর্ঘ সময় থাকার পর ভারসাম্য ও সমন্বয় ক্ষমতায় সমস্যা হতে পারে। রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থায় পরিবর্তন হতে পারে, যা পৃথিবীতে ফিরে আসার পর রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দনে প্রভাব ফেলতে পারে।

ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার জানায়, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) রয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস এবং তাঁর সঙ্গী বুচ উইলমোর। ন’মাস পর তাঁরা পৃথিবীতে ফিরতে চলেছেন। তাঁদের নিয়ে আসতে আইএসএসে পৌঁছে গিয়েছে ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেসএক্সের মহাকাশযান। অবশেষে ঘড়ি ধরে সুনীতাদের অবতরণের সময় জানাল নাসা। আমেরিকার ফ্লরিডার উপকূলে স্থানীয় সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৫৭মিনিটে তাঁরা নামবেন। ভারতের ঘড়িতে ওই সময় বুধবার ভোর সাড়ে ৩টে।

বুধবার, ১৯ মার্চের আগে যে সুনীতারা ফিরছেন না, তা আগেই জানিয়েছিল নাসা। কিন্তু বুধবার ঠিক কোন সময়ে তাঁদের মহাকাশযান পৃথিবীতে অবতরণ করবে, তা এত দিন স্পষ্ট ছিল না। রবিবার রাতে একটি বিবৃতি দিয়ে সময় জানিয়েছে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। এই অবরতরণ প্রক্রিয়া নাসা সরাসরি সম্প্রচার করবে। তা শুরু হয়ে যাবে সোমবার থেকেই।

নাসা জানিয়েছে, সোমবার ভারতীয় সময় সকাল ৮টা ১৫ থেকেই সুনীতাদের অবতরণ প্রক্রিয়ার সরাসরি সম্প্রচার শুরু হয়ে যাবে। নাসার ওয়েবসাইটে এবং সমাজমাধ্যমের পাতায় তা দেখা যাবে। ওই সময়ে তাঁদের মহাকাশযানটির দরজা বন্ধ হবে। শুরু হবে মহাকাশ স্টেশন থেকে সরে আসার প্রক্রিয়া। তাতেও বেশ খানিকটা সময় লাগবে। ওই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে শুরু হবে অবতরণ।

রবিবার সকালে সুনীতাদের ফেরাতে মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছেছিল স্পেসএক্সের ড্র্যাগন যান। তাতে ছিলেন আরও চার নভশ্চর। সুনীতারা তাঁদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে ফিরবেন। আগামী কিছু দিনের জন্য মহাকাশ স্টেশন পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে ওই চার মহাকাশচারীর উপর। তাঁরা হলেন নাসার অ্যান ম্যাক্লেন, নিকোল আইয়ার্স, জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জাক্সার প্রতিনিধি টাকুয়া ওনিশি এবং রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা রসকসমসের প্রতিনিধি কিরিল পেসকভ। এ ছাড়া, সুনীতা এবং বুচের সঙ্গে পৃথিবীতে ফিরছেন নাসার নিক হগ এবং রুশ নভশ্চর আলেকজ়ান্ডার গর্বুনভ।

রবিবার থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত সহকর্মীদের দায়িত্ব বুঝিয়েছেন সুনীতা-সহ বাকিরা। এখনও সেই প্রক্রিয়াই চলছে। মহাকাশে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি না-থাকায় যে কোনও কাজেই তুলনামূলক বেশি সময় লাগছে তাঁদের।

গত বছরের জুন মাসে মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিলেন সুনীতা এবং বুচ। আট দিন পরেই তাঁদের পৃথিবীতে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু যে যানে চড়ে তাঁরা গিয়েছিলেন, সেই বোয়িং স্টারলাইনারে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। মহাকাশেই তাঁরা আটকে পড়েন। আট দিনের মহাকাশ সফর ন’মাসে দীর্ঘায়িত হয়। এই সময়ের মধ্যে বার বার নানা কারণে তাঁদের প্রত্যাবর্তন পিছিয়ে গিয়েছে। মহাকাশ থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা ভাবে বার্তা দিয়েছেন সুনীতা এবং বুচ। সাংবাদিক বৈঠকও করেছেন। তাঁদের ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে সারা বিশ্ব।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান মহাকাশচারী সুনীতা লিন উইলিয়ামস জন্মগ্রহণ করেন ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৬৫ সালে ওহিওতে। তার বাবা দীপক পান্ড্য একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসক এবং মা বোনি পান্ড্য ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত। ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি তার আগ্রহ ছিল প্রবল। শিক্ষাজীবনে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল একাডেমি থেকে স্নাতক এবং ফ্লোরিডা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স করেন। ১৯৮৭ সালে মার্কিন নৌবাহিনীতে হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে যোগ দেন এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক মিশনে অংশ নেন।

মহাকাশ যাত্রা ও রেকর্ড
১৯৯৮ সালে নাসার মহাকাশচারী প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে নির্বাচিত হন তিনি। ২০০৬ সালে প্রথমবারের মতো মহাকাশে পাড়ি দেন এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) ১৯৫ দিন অবস্থান করে নতুন রেকর্ড গড়েন। ২০১২ সালে দ্বিতীয়বার মহাকাশ মিশনে অংশ নেন, যেখানে তিনি সর্বাধিক সময় স্পেসওয়াকের (মহাকাশে হাঁটার) রেকর্ড গড়েন। ২০২৪ সালে বোয়িং স্টারলাইনারের পরীক্ষামূলক মিশনে অংশ নেন, যা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে প্রত্যাশার চেয়ে দীর্ঘ হয়ে যায়।

বুচ উইলমোর: সামরিক ক্যারিয়ার থেকে মহাকাশ অভিযানে
ব্যারি ইউজিন “বুচ” উইলমোর, জন্ম ২৯ ডিসেম্বর ১৯৬২, টেনেসির এক ছোট শহরে। শিক্ষাজীবনে তিনি টেনেসি টেক ইউনিভার্সিটিতে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং পরে নেভাল পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্কুল থেকে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন।

মহাকাশ অভিযানের শুরু
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে টেস্ট পাইলট হিসেবে যোগ দেন এবং বিমানবাহিনীতে দীর্ঘদিন কাজ করেন। ২০০০ সালে নাসার মহাকাশচারী প্রোগ্রামে নির্বাচিত হন এবং ২০০৯ সালে STS-129 মিশনে প্রথম মহাকাশে যান।

২০১৪ সালে তিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) মিশন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০২৪ সালে সুনীতা উইলিয়ামসের সঙ্গে বোয়িং স্টারলাইনারের পরীক্ষামূলক মিশনে অংশ নেন।

দীর্ঘ ৯ মাস পর প্রত্যাবর্তন
সুনীতা ও বুচের এবারের মহাকাশ মিশন ছিল মূলত বোয়িং স্টারলাইনার ক্যাপসুলের কার্যকারিতা যাচাই করা। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পরিকল্পনার চেয়ে অনেক বেশি সময় তারা মহাকাশে অবস্থান করতে বাধ্য হন। অবশেষে নাসার প্রকৌশলীরা সমস্যাগুলো সমাধান করায় তারা শীঘ্রই পৃথিবীতে ফিরতে চলেছেন।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

আপনার সামাজিক প্ল্যাটফর্ম এই পোস্ট শেয়ার করুন