Dhaka ০৯:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আইএমও নম্বর জালিয়াতি, নিষিদ্ধ জাহাজ ভাঙ্গার জন্য আনা হলো চট্টগ্রামে! 

আইএমও নম্বর জালিয়াতি ,  নিষিদ্ধ জাহাজ ভাঙ্গার জন্য আনা হলো চট্টগ্রামে! 

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত একটি বিতর্কিত তেলবাহী জাহাজ সীতাকুণ্ডে ভাঙার জন্য কেনা হয়েছে। একই সময় আরো একটি সন্দেহজনক তেলবাহী জাহাজ আনা হয়েছে যার আইএও নম্বর জালিয়াতি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, জাহাজ দু’টি ইরানের গোপন “ছায়া বহরের” অংশ, যা বিশ্বজুড়ে গোপনে ইরানি তেল সরবরাহ করছিল।

ভারত ও পাকিস্তান ভাঙতে অস্বীকৃতি জানানোর পর কমদামে পাওয়ায় অধিক লাভের আশায় চট্টগ্রাম বড় একটি জাহাজভাঙ্গা প্রতিষ্ঠান জাহাজ দ’টি ভাঙ্গার জন্য নিয়ে আসার অভিযোগ উঠেছে।

কমরোসের পতাকাবাহী ইতায়ুগুয়া (আইএমও নং- ৯১০২২৭৭) নামের জাহাজটি ১৯৯৭ সালে তৈরি হয় এবং এর ২২ বছরের কার্যকারিতা বহু আগেই শেষ হয়েছে। জাহাজটি বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। তবে  Terrestrial & Satellite AIS Tracking Service in Realtime – vesseltracker.com নামের আন্তর্জাতিক মেরিটাইম ওয়েবসাইটে তথ্যমতে একই আইএমও নম্বরের (৯১০২২৭৭) SAFANIYAH নামের একটি জাহাজ বর্তমানে লোহিত সাগরে (Red Sea) অবস্থান করছে। এতে ওই জাহাজের আইএমও নম্বরও জালিয়াতি হওয়ার বিষয় সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মেরিটাইম বিশেষজ্ঞরা।

অন্যদিকে ARTEMiS III (আইএমও নং- ৯১০২২৪১) জাহাজটিও চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে বলে নিশ্চিত করেছে  Terrestrial & Satellite AIS Tracking Service in Realtime – vesseltracker.com পানামা পতাকাবাহী জাহাজটি সম্পর্কে অনুসন্ধানে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জাহাজটির আইএমও নাম্বর (৯১০২২৪১) ২০২১ সালে বাংলাদেশে ভাঙা MT HAPON নামের আরেকটি জাহাজের সঙ্গে মিলে যায়। প্রশ্ন উঠেছে, একই আইএমও নাম্বার দিয়ে কীভাবে দুটি আলাদা জাহাজ থাকতে পারে? ২০২২ সালে এই ক্যাটাগরির একটি জাহাজ গোল্ডেন আইরন ওয়ার্কস নামের প্রতিষ্ঠান ভেঙেছিল। চট্টগ্রাম বন্দরের ওয়েবসাইটে এই জাহাজটি ভাঙ্গার জন্য আনা হয়েছিল এমন তথ্য পাওয়া যায়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ট্রেডউইন্ডের তথ্যমতে, দুটি জাহাজই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা ইরানের জ্বালানি তেল পরিবহনে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার হয়ে আসছিল।

গত বছরের ২৪ অক্টোবর ARTEMiS III জহাজটিকে সন্দেহজনক ও অবৈধভাবে অন্য জাহাজে তেল খালাসের সময় সরবরাহকৃত জ্বালানি তেলে বৈধ কোন কাগজপত্র দেখাতে না পারায় Johor বন্দরের বহির্নোঙর থেকে মালয়েশিয়ান মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি গ্রেফতার করেছিল।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘদিন অবৈধ তেল পরিবহনের কারণে জাহাজগুলো যথাযথভাবে পরিচর্যা করা হয় নি। তাই অপরিষ্কার এই ট্যাংকারটি একদিকে যেমন বিষাক্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে, তেমনি কাটার সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে, যা বাংলাদেশের নাজুক অবস্থার জাহাজভাঙা শিল্পকে আরও সংকটে ফেলতে পারে।

জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট থাকার সময়, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের তেল রপ্তানিকে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, ইরান তেল বিক্রির অর্থ দিয়ে তাদের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করছে এবং সাধারণ জনগণের কল্যাণের পরিবর্তে সরকার নিজ স্বার্থ রক্ষা করছে। নিষিদ্ধ এসব তেলবাহী জাহাজের মালিক ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে মার্কিন কর্তৃপক্ষ চিহ্নিত করেছে। তাদের দাবি, এগুলো চীন ও ভারতের বিভিন্ন বন্দরে অবৈধভাবে তেল সরবরাহ করছিল।

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সীতাকুণ্ডে ভাঙার জন্য কেনা নিষিদ্ধ জাহাজটির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা তেলবাহী জাহাজটি চট্টগ্রাম উপকূলে অবস্থান করছে। অন্যদিকে জাহাজটি ভাঙার জন্য সীতাকুণ্ড শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে আনার অনাপত্তিপত্র পেতে শিল্প মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।

সমুদ্রে চলাচলকারী সব জাহাজের ভৌগোলিক অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে ভেসেল ফাইন্ডার নামের একটি ওয়েবসাইট। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জাহাজটির অবস্থান চট্টগ্রাম উপকূলে দেখা যাচ্ছিল।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়া শাখার যুগ্ম সচিব সুলতানা ইয়াসমিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ইতাগুয়া নামের জাহাজটি চট্টগ্রামের একটি শিপইয়ার্ডে আনতে অনাপত্তিপত্রের জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় এখনো অনাপত্তিপত্র দেয়নি বলেন জানান তিনি।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

আপনার সামাজিক প্ল্যাটফর্ম এই পোস্ট শেয়ার করুন
ট্যাগ:
লেখক তথ্য সম্পর্কে

চট্টগ্রামের মহাসড়কে বিআরটিএর অভিযান, মামলা ও জরিমানা

আইএমও নম্বর জালিয়াতি, নিষিদ্ধ জাহাজ ভাঙ্গার জন্য আনা হলো চট্টগ্রামে! 

আপডেটের সময় : ০৫:৫০:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ মার্চ ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত একটি বিতর্কিত তেলবাহী জাহাজ সীতাকুণ্ডে ভাঙার জন্য কেনা হয়েছে। একই সময় আরো একটি সন্দেহজনক তেলবাহী জাহাজ আনা হয়েছে যার আইএও নম্বর জালিয়াতি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, জাহাজ দু’টি ইরানের গোপন “ছায়া বহরের” অংশ, যা বিশ্বজুড়ে গোপনে ইরানি তেল সরবরাহ করছিল।

ভারত ও পাকিস্তান ভাঙতে অস্বীকৃতি জানানোর পর কমদামে পাওয়ায় অধিক লাভের আশায় চট্টগ্রাম বড় একটি জাহাজভাঙ্গা প্রতিষ্ঠান জাহাজ দ’টি ভাঙ্গার জন্য নিয়ে আসার অভিযোগ উঠেছে।

কমরোসের পতাকাবাহী ইতায়ুগুয়া (আইএমও নং- ৯১০২২৭৭) নামের জাহাজটি ১৯৯৭ সালে তৈরি হয় এবং এর ২২ বছরের কার্যকারিতা বহু আগেই শেষ হয়েছে। জাহাজটি বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। তবে  Terrestrial & Satellite AIS Tracking Service in Realtime – vesseltracker.com নামের আন্তর্জাতিক মেরিটাইম ওয়েবসাইটে তথ্যমতে একই আইএমও নম্বরের (৯১০২২৭৭) SAFANIYAH নামের একটি জাহাজ বর্তমানে লোহিত সাগরে (Red Sea) অবস্থান করছে। এতে ওই জাহাজের আইএমও নম্বরও জালিয়াতি হওয়ার বিষয় সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মেরিটাইম বিশেষজ্ঞরা।

অন্যদিকে ARTEMiS III (আইএমও নং- ৯১০২২৪১) জাহাজটিও চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে বলে নিশ্চিত করেছে  Terrestrial & Satellite AIS Tracking Service in Realtime – vesseltracker.com পানামা পতাকাবাহী জাহাজটি সম্পর্কে অনুসন্ধানে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জাহাজটির আইএমও নাম্বর (৯১০২২৪১) ২০২১ সালে বাংলাদেশে ভাঙা MT HAPON নামের আরেকটি জাহাজের সঙ্গে মিলে যায়। প্রশ্ন উঠেছে, একই আইএমও নাম্বার দিয়ে কীভাবে দুটি আলাদা জাহাজ থাকতে পারে? ২০২২ সালে এই ক্যাটাগরির একটি জাহাজ গোল্ডেন আইরন ওয়ার্কস নামের প্রতিষ্ঠান ভেঙেছিল। চট্টগ্রাম বন্দরের ওয়েবসাইটে এই জাহাজটি ভাঙ্গার জন্য আনা হয়েছিল এমন তথ্য পাওয়া যায়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ট্রেডউইন্ডের তথ্যমতে, দুটি জাহাজই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা ইরানের জ্বালানি তেল পরিবহনে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার হয়ে আসছিল।

গত বছরের ২৪ অক্টোবর ARTEMiS III জহাজটিকে সন্দেহজনক ও অবৈধভাবে অন্য জাহাজে তেল খালাসের সময় সরবরাহকৃত জ্বালানি তেলে বৈধ কোন কাগজপত্র দেখাতে না পারায় Johor বন্দরের বহির্নোঙর থেকে মালয়েশিয়ান মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি গ্রেফতার করেছিল।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘদিন অবৈধ তেল পরিবহনের কারণে জাহাজগুলো যথাযথভাবে পরিচর্যা করা হয় নি। তাই অপরিষ্কার এই ট্যাংকারটি একদিকে যেমন বিষাক্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে, তেমনি কাটার সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে, যা বাংলাদেশের নাজুক অবস্থার জাহাজভাঙা শিল্পকে আরও সংকটে ফেলতে পারে।

জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট থাকার সময়, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের তেল রপ্তানিকে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, ইরান তেল বিক্রির অর্থ দিয়ে তাদের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করছে এবং সাধারণ জনগণের কল্যাণের পরিবর্তে সরকার নিজ স্বার্থ রক্ষা করছে। নিষিদ্ধ এসব তেলবাহী জাহাজের মালিক ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে মার্কিন কর্তৃপক্ষ চিহ্নিত করেছে। তাদের দাবি, এগুলো চীন ও ভারতের বিভিন্ন বন্দরে অবৈধভাবে তেল সরবরাহ করছিল।

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সীতাকুণ্ডে ভাঙার জন্য কেনা নিষিদ্ধ জাহাজটির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা তেলবাহী জাহাজটি চট্টগ্রাম উপকূলে অবস্থান করছে। অন্যদিকে জাহাজটি ভাঙার জন্য সীতাকুণ্ড শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে আনার অনাপত্তিপত্র পেতে শিল্প মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।

সমুদ্রে চলাচলকারী সব জাহাজের ভৌগোলিক অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে ভেসেল ফাইন্ডার নামের একটি ওয়েবসাইট। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জাহাজটির অবস্থান চট্টগ্রাম উপকূলে দেখা যাচ্ছিল।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়া শাখার যুগ্ম সচিব সুলতানা ইয়াসমিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ইতাগুয়া নামের জাহাজটি চট্টগ্রামের একটি শিপইয়ার্ডে আনতে অনাপত্তিপত্রের জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় এখনো অনাপত্তিপত্র দেয়নি বলেন জানান তিনি।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

আপনার সামাজিক প্ল্যাটফর্ম এই পোস্ট শেয়ার করুন