যথাযথ মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৫ উদযাপন করা হয়েছে। এ দিবস উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন নানা কর্মসূচির আয়োজন করে।
দিবসের কর্মসূচি শুরু হয় ২০শে ফেব্রুয়ারি বিকাল ২.৩০টায় জেলা শিল্পকলায় ও ৪.০০টায় শিশু একাডেমিতে শুদ্ধ বানান, সুন্দর হাতের লেখা, কুইজ ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। দিবসের মূল কর্মসূচি শুরু হয় একুশের প্রথম প্রহরে রাত ০০.০১ টায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার মধ্য দিয়ে এবং সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।
সকাল ৭টায় শহিদ মিনারের উদ্দেশ্যে স্ব স্ব বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, বিশ^বিদ্যালয়, বিভাগ, দপ্তর, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান থেকে একুশের প্রভাতফেরি আয়োজিত হয়। সেখানে সর্বস্তরের জনসাধারণ অংশ গ্রহণ করে।
নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন চট্টগ্রাম কর্তৃক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ডিআইজি, চট্টগ্রাম রেঞ্জ মোঃ আহসান হাবীব পলাশ, অতিরিক্ত ডিআইজি মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ, পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম সানতু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ একরামুল করিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বক্তৃতা করেন। সভায় বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে মাতৃভাষায় কবিতা আবৃতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং জেলা শিল্পকলা ও শিশু একাডেমি কর্তৃক আয়োজিত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, দেশের প্রতিটি জেলায় ভাষা শিক্ষা ইনিস্টিটিউট তৈরি করা দরকার। এতে মানুষ শুদ্ধ বাংলা ভাষা শেখার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ভাষাও আয়ত্ত করতে পারবে। ফলে দেশের মানুষ যখন বিদেশে যাবে তখন তারা সেখানে বোঝা না হয়ে সম্পদে পরিণত হবে। ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠীদের ভাষাকে সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তাদের ভাষাকে রেকর্ড করা হবে এবং তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড ও ভাষার ব্যাকরণকে স্থায়ীভাবে আর্কাইভ করা হবে। যদি কখনো এ ভাষা বলার মত কেউ না থাকে, এগুলো যাতে হারিয়ে না যায়, সেজন্য দলিল হিসেবে সংরক্ষণ করে রাখা হবে। ভাষা দেশের মানুষের মাঝে জাতীয়তাবাদের সৃষ্টি করে। বাংলাদেশেও তাই হয়েছিল ১৯৫২ সালে। চীন, জাপান ও ফ্রান্সের মানুষরা তাদের মাতৃভাষায় কথা বলতে পছন্দ করে।
তিনি আরো বলেন, প্রযুক্তি অন্য ভাষায় কথা বলার প্রতিবন্ধকতাকে কাটিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আপনারা দেখবেন বিভিন্ন এ্যাপ্স রয়েছে যেগুলো মাতৃভাষা থেকে অন্য ভাষায় অনুবাদ করে দিচ্ছে। ভবিষ্যতে ভাষার কোন প্রতিবন্ধকতা থাকবে না। তাই আমাদেরও মাতৃভাষার পাশাপাশি বিভিন্ন ভাষা শেখার প্রতি জোর দিতে হবে।
এছাড়াও বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপসনালয়ে ভাষা শহিদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও প্রার্থনা করা হয়।
তাছাড়া কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ও আউটার স্টেডিয়ামে ভাষা আন্দোলন সংশ্লিষ্ট সংবাদ, আলোকচিত্র তথ্য ও ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;