শিবচতুর্দশী মেলা উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চন্দ্রনাথ ধামে দেশের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি বিদেশ থেকে হাজারো হিন্দু পুণ্যার্থী সমবেত হবেন। এ উপলক্ষ্যে সীতাকুণ্ডে তিন দিনব্যাপী মেলা চলে।
চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেছেন, সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ ধাম শিবচতুর্দশী মেলায় দোকান, যানবাহন বা অন্য কোনো কিছু থেকে যেন কোনো চাঁদাবাজি না হয়।
সেদিকে সকল রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ কর্মকর্তা ও মেলার স্বেচ্ছাসেবকদের কঠোরভাবে মনিটরিং করতে হবে। কেউ চাঁদাবাজি করলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। এক্ষেত্রে কোনো দলীয় তদবির গ্রহণ করা হবে না। বরং কেউ তদবির করলে তাকে তদবিরকারী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হবে। এজন্য আমি একটি ফরম তৈরি করেছি। সেখানে তদবিরকারীকে স্বাক্ষর করতে হবে। অপরাধীকে বাঁচানোর সহযোগী হিসেবে তদবিরকারীর নাম স্থায়ীভাবে লিখে রাখা হবে যেন ভবিষ্যতে তদবিরকারীও ভালো কোনো অবস্থানে যেতে না পারে।
সীতাকুণ্ডে চন্দ্রনাথ ধামে আসন্ন শিবচতুর্দশী ও দোল পূর্ণিমা মেলা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার আরও বলেন, আমি চাই এবারের মেলাটি হবে সম্প্রীতির উদাহরণ। এখানে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ পূণ্যার্থী আসেন। তাদেরকে নিরাপদে তীর্থ করে ফিরে যেতে আমরা কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেবো। পুলিশ ১১টি ভাগে বিভক্ত হয়ে পুরো নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেবে।
তিনি উপস্থিত রাজনৈতিক নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ৫ই আগস্টের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতি দুর্গাপূজাসহ সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আপনারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। মঠ-মন্দির পাহারা দিয়েছেন। শিবচতুর্দশী মেলা আমাদের দেশের ভাবমূর্তির বিষয়। ছোট ছোট ঘটনা বড় ঘটনার জন্ম দেয়। আন্তর্জাতিকভাবে আমাদেরকে বড় সমস্যায় ফেলে। এসব যেন না হয় তা দেখতে হবে সবাইকে।
পুলিশ সুপার বলেন, এই মেলাটিকে সুন্দরভাবে শেষ করে আমরা সবাইকে সম্প্রীতির মেসেজ দিতে চাই।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. সেলিমের সঞ্চালনায় এতে পুলিশ সুপার সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটি, মেলা কমিটি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছে জানতে চান এ মেলা সুষ্ঠু করতে তারা কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির সাধারণ সম্পাদক এড. চন্দন দাশ বলেন, মেলাকে নিরাপদ করতে স্রাইন কমিটি ও মেলা কমিটি যৌথভাবে কাজ করবে। মেলায় পাহাড় থেকে সমতলে থাকবে সিসি ক্যামেরা। রাতে পুরো তীর্থভূমিতে আলোর ব্যবস্থা করা হবে। থাকবে পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক। এ ছাড়া রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পুলিশ সদস্যরা মেলা তদারকি করবেন। সবার সহযোগিতায় একটি সুন্দর মেলা সম্পন্ন করতে চান বলে মন্তব্য করেন মেলা কমিটির নবনির্বাচিত সম্পাদক মনোজ কুমার নাথ।
এ সময় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ডা. কমল কদর, সদস্য সচিব কাজী মহিউদ্দিন, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু তাহের, সহ-সেক্রেটারি এড. আশরাফ হোসেন।
আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন বিভিন্ন অফিসার, সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মো. মজিবর রহমান, স্রাইন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সৌমিত্র চক্রবর্তী, সদস্য অশোক চক্রবর্তী, মেলা কমিটির অতিরিক্ত সম্পাদক বাবুল বাহাদুর শাস্ত্রী, যুগ্ম সম্পাদক অপু চৌধুরী আকাশ, যুগ্ম সম্পাদক মিটন রবি দাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন মল্লিক, অর্থ সম্পাদক পাবন কৃষ্ণ দাশ এবং স্রাইন কমিটির কর্মকর্তা তুষার চক্রবর্তী ও এড. রাজীব দাশ।
অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এ মেলাকে সুষ্ঠু করার জন্য সবরকম সহযোগিতা করার ব্যাপারে পুলিশ সুপার এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করেন।
প্রসঙ্গত: সীতাকুণ্ড শিবচতুর্দশী মেলা কমিটি প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের শিবচতুর্দশী তিথিতে চন্দ্রনাথ ধামে শিব পূজা উপলক্ষে মেলার আয়োজন করে। ভক্তরা ব্রত (ধর্মীয় আচার), বিশেষ প্রার্থনা ও পূজার মাধ্যমে দিনটি পালন করে। অনেক ভক্ত মহাশিবরাত্রিতে সারা রাত জেগে প্রার্থনা ও ব্রত পালন করেন।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;