
কন্নড় সুপারস্টার যশের চার বছর পরের বহুল প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তন, গীতু মোহনদাসের ভিন্নধর্মী নির্দেশনা এবং নয়নতারা-কিয়ারা আদভানির মতো তারকা বহর—সব মিলিয়ে ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’ ঘিরে উন্মাদনার শেষ ছিল না। কিন্তু মুক্তির দুই সপ্তাহ পার হতেই সিনেমাটি বক্স অফিসে রূপ নিয়েছে মহা আর্থিক বিপর্যয়ে। মুক্তির প্রথম দিন বিশ্বব্যাপী ১৪০ কোটি রুপি দিয়ে স্বপ্নের মতো সূচনা করলেও, এরপর এমন অবিশ্বাস্য পতন ঘটেছে যে ছবিটি এখন ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম বড় লোকসানি প্রজেক্ট হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
বক্স অফিসের উল্টো রথ: মুক্তির প্রথম দিন ভারতে ১০১ কোটিসহ বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৪০ কোটি রুপি আয় করে প্যান-ইন্ডিয়ান ব্লকবাস্টারের আভা দিয়েছিল ‘টক্সিক’। কিন্তু দ্বিতীয় দিন থেকেই পতন শুরু হয়। দ্বিতীয় দিনে ভারতের আয় কমে দাঁড়ায় ৩৭ কোটিতে এবং প্রথম সোমবারে তা ১০ কোটি রুপির নিচে নেমে যায়। ১৬তম দিন শেষে ভারতে ছবিটির আয় মোটে ২৪৮ কোটি ২৪ লাখ রুপি এবং বিশ্বব্যাপী মোট সংগ্রাহ দাঁড়ায় প্রায় ৩৩৯ কোটি ৩২ লাখ রুপি। বিশ্লেষকদের মতে, সিনেমাটির বিশ্বব্যাপী মোট আয় হয়তো ৩৫০ কোটি রুপির কোঠাও স্পর্শ করতে পারবে না।
ক্ষতির পাহাড় কত বড়? চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, ছবিটি নির্মাণে খরচ হয়েছিল প্রায় ৪৫০ কোটি রুপি, আর প্রচার ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে মোট বিনিয়োগ ছিল ৫০০ কোটি রুপির বেশি।
শেয়ার আয়: ৩৪০ কোটি রুপির মতো গ্রস আয় হলেও পরিবেশক ও হল মালিকদের অংশ বাদ দিয়ে প্রযোজকের পকেটে বিশ্বব্যাপী শেয়ার গেছে মাত্র ১৫০ কোটি রুপির কাছাকাছি।
সম্ভাব্য ক্ষতি: ট্রেড বিশ্লেষক রমেশ বালার হিসাব অনুযায়ী, সিনেমাটি তার আসল বাজেটের প্রায় ৬০ শতাংশই তুলতে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে নিট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি রুপি।
‘আদিপুরুষ’ ও ‘গেম চেঞ্জার’কেও ছাপিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা: সাম্প্রতিক সময়ে বড় বাজেটের মহাফ্লপ ছবিগুলোর তালিকায় রামচরণের ‘গেম চেঞ্জার’ (লোকসান প্রায় ২০০ কোটি) এবং প্রভাসের ‘আদিপুরুষ’-এর (বাজেট ৫০০-৭০০ কোটি) নাম শীর্ষস্থানে ছিল। তবে ‘টক্সিক’-এর ক্ষেত্রে ক্ষতি আরও করুণ। যেখানে ‘আদিপুরুষ’ বা ‘গেম চেঞ্জার’-এর শুরুটাই থমকে ছিল, সেখানে ‘টক্সিক’ ১০০ কোটি টাকার উদ্বোধনের পর যেভাবে আছড়ে পড়েছে, তা অভাবনীয়।
ব্যর্থতার নেপথ্যে যেসব ভুল হিসাব:
১. ওটিটি স্বত্ব বিক্রির মারাত্মক ভুল: সিনেমাটি মুক্তির আগে ওটিটি (OTT) স্বত্ব বিক্রি করেনি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। ভেবেছিল প্রেক্ষাগৃহে হিট করার পর ২০০ কোটি রুপিতে ডিজিটাল রাইটস বিক্রি করবে। কিন্তু ফ্লপ করার পর এখন ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো মাত্র ৩০ কোটি রুপি দর হাঁকাচ্ছে। রমেশ বালার মতে, আগে ওটিটি বিক্রি করা থাকলে ক্ষতি অন্তত ১০০ কোটি রুপি কম হতো।
২. প্রতিযোগীদের দাপট: প্রথম সপ্তাহের পর ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’ ও ‘হনুমান অংশ’-এর মতো সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে চলে আসায় ‘টক্সিক’ দ্রুত তার স্ক্রিন ও শো হারাতে থাকে।
৩. দর্শকদের নেতিবাচক মতামত: যশের তারকা-ম্যানিয়া উদ্বোধনী দিনে দর্শক টানলেও গল্প ও চিত্রনাট্য দুর্বল হওয়ায় ‘ওয়ার্ড অব মাউথ’ বা দর্শকদের মতামত বিরূপ রূপ নেয়, যা দ্বিতীয় দিন থেকেই টিকিট বিক্রি তলানিতে নামিয়ে দেয়।
‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’-এর অবিশ্বাস্য সাফল্যের পর যশের কাছে বিশ্বব্যাপী দর্শকের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। কিন্তু ‘টক্সিক’-এর এই চরম ব্যবসায়িক ব্যর্থতা প্রমাণ করল, কেবল তারকা খ্যাতি দিয়ে ৫০০ কোটি টাকার বাজেটের ধস ঠেকানো সম্ভব নয়।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;
প্রধান সম্পাদক : খালেদ সরফুদ্দীন, সম্পাদক ও প্রকাশক : এসকে এম মেজবাহ উদ্দীন খালেদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রফিক টাওয়ার ( নীচ তলা ), ফকির হাট, জনতা ব্যাংকের নীচে, দক্ষিণ সলিমপুর, জাফরাবাদ, সীতাকুণ্ড , চট্টগ্রাম- ৪৩১৭।
ফোন : +৮৮০ ১৮২১৪৩১১৪৪, ই-মেইল : skmkhaled@gmail.com
All rights reserved © 2019 Postcardbd.Com