
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আলোচিত চন্দনা রানী শীল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত নিহত চন্দনার স্বামী শিমুল শীল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত শনিবার চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাখাওয়াত হোসেনের আদালতে দেওয়া এই জবানবন্দিতে তিনি আরও দুই তরুণকে সঙ্গে নিয়ে স্ত্রীকে হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন। ভালোবেসে বিয়ের মাত্র এক বছরের মাথায় পারিবারিক সন্দেহের বশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, ঘটনার পর গত শুক্রবার বিকেলে সীতাকুণ্ডের টেরিয়াইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে শিমুল শীল ও তাঁর ভাই পীযূষ শীলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে স্বামী শিমুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে নজরুল ইসলাম ও ইলিয়াস হোসেন নামের অপর দুই তরুণকে ভাটিয়ারী ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে আটক করা হয়। গত শনিবার চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ধৃত আসামিদের মধ্যে শিমুল ও পীযূষ কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ডাম্পিং স্টেশনে প্রহরীর কাজ করতেন, অন্যদিকে নজরুল সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক এবং ইলিয়াস মিনিবাসের চালক হিসেবে কাজ করেন।
[caption id="attachment_872" align="alignnone" width="755"]
পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার (বাঁ থেকে) পীযুষ শীল, নজরুল ও ইলিয়াস।
ছবি: ছবি: সংগৃহীত[/caption]
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে স্বামী শিমুল শীল জানান, সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক নজরুলের যাতায়াতের সুবাদে তাঁর স্ত্রী চন্দনা রানীর সঙ্গে নজরুলের একটি পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে বলে তিনি সন্দেহ করতেন। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। ঘটনার রাতে বিষয়টি নিয়ে চন্দনাকে জেরা করা হয় এবং সে সময় সেখানে নজরুলও উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে চন্দনা তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিলে শিমুল, নজরুল ও নজরুলের বন্ধু ইলিয়াস মিলে যৌথভাবে চন্দনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
এর আগে গত শুক্রবার সকালে উপজেলার বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের টেরিয়াইল উচ্চবিদ্যালয়ের পেছন থেকে হাত বাঁধা অবস্থায় চন্দনা রানী শীলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত চন্দনা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের তেজেন্দ্র দাশের মেয়ে। প্রায় এক বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে শিমুলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে পরিবার অভিযোগ করে আসছিল। ঘটনার আগের দিন নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি বাবার বাড়ি চলে গেলেও পরে স্বামী তাঁকে পুনরায় ডেকে নিয়ে আসেন এবং এর পরই এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;
প্রধান সম্পাদক : খালেদ সরফুদ্দীন, সম্পাদক ও প্রকাশক : এসকে এম মেজবাহ উদ্দীন খালেদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রফিক টাওয়ার ( নীচ তলা ), ফকির হাট, জনতা ব্যাংকের নীচে, দক্ষিণ সলিমপুর, জাফরাবাদ, সীতাকুণ্ড , চট্টগ্রাম- ৪৩১৭।
ফোন : +৮৮০ ১৮২১৪৩১১৪৪, ই-মেইল : skmkhaled@gmail.com
All rights reserved © 2019 Postcardbd.Com