সীতাকুণ্ডে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উপজেলা শাখার উদ্যোগে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিগত রাজনৈতিক আমলে নিহত জামায়াত-শিবির কর্মীদের হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টায় সীতাকুণ্ডের রাজবাড়ী রেস্তোরাঁয় এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জামায়াতের সীতাকুণ্ড থানা আমীর মো. তাহের।
উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের উপজেলা সেক্রেটারি কুতুবউদ্দিন শিবলি, জেলা আইন বিষয়ক দায়িত্বশীল জসিমউদ্দীন আজাদ, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের থানা সভাপতি আবদুর রহমান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মেজবাউল আলম রাসেল এবং মিডিয়া বিভাগের প্রধান আবুল হোসেনসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
১১ জন কর্মীকে স্মরণ ও তদন্ত ভিন্নখাতে প্রবাহের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে বিগত বিভিন্ন সময়ে সীতাকুণ্ডে নিহত ১১ জন জামায়াত-শিবির কর্মীকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়। তাঁরা হলেন— মো. রাসেল, মো. ওসমান, আমিনুল ইসলাম আমিন, আব্দুল্লাহ আল রাসেল বাবু, আলমগীর হোসেন, সাকিফুল ইসলাম রাসেল, মো. শাহায়াত উল্লাহ ভূঁইয়া, মো. শাহজাহান, মো. মোশারফ হোসাইন, আবু বকর ছিদ্দিক পারভেজ ও রেজাউল হায়াত রোমান।
লিখিত বক্তব্যে থানা আমীর মো. তাহের অভিযোগ করে বলেন, "এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা করা হলেও তদন্তের গতিধারা বিভিন্নভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হচ্ছে। অর্থের বিনিময়ে এজাহার থেকে আসামির নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং মূল অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না।"
জেলা আইন বিষয়ক দায়িত্বশীল জসিমউদ্দীন আজাদ বলেন, "বিগত আমলে আমাদের যেসব কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, তাদের মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় পুলিশ ও অপরাধীরা যোগসাজশ করছে। বাদীদের নানাভাবে চাপ প্রয়োগ ও হয়রানি করা হচ্ছে।"
বিএনপির সংঘর্ষের মামলায় শিবির কর্মী আসামি: অব্যাহতির দাবি
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সীতাকুণ্ডে বিএনপির দুই পক্ষের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি মামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় কেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছাত্রশিবিরের এক কর্মীকে আসামি করা হলো? জামায়াত নেতারা অবিলম্বে উক্ত শিবির কর্মীকে মামলা থেকে অব্যাহতির জোর দাবি জানান।
বক্তারা সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক বিরোধের কারণে নিরপরাধ ব্যক্তিদের মামলায় জড়ানো হলে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান ও থানা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি
পুলিশ প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষভাবে অভিযোগগুলোর তদন্তের আহ্বান জানিয়ে জামায়াত নেতারা বলেন, পুলিশ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আইনি ব্যবস্থা নিলে তা মেনে নেওয়া হবে। তবে তদন্তের নামে কোনো জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীকে হয়রানি বা রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হলে তা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করা হবে। প্রয়োজনে সীতাকুণ্ড থানা ঘেরাও কর্মসূচির মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ারও ঘোষণা দেন তাঁরা।
জামায়াতের চার দফা দাবি:
১. বিগত আমলে নিহতদের হত্যা মামলার নিরপেক্ষ ও পেশাদার তদন্ত নিশ্চিত করা। ২. হত্যা মামলাগুলোর চিহ্নিত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা। ৩. মামলার বাদী, আইনজীবী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ৪. রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হয়রানি বন্ধ করে নির্দোষ ব্যক্তিদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া।