
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া সারবোঝাই ট্রাক আটকাতে গিয়ে উল্টো চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলায় কারাবাস করতে হয়েছে আইয়ুব আলী নামের এক কৃষককে। সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় শ্রমিক দলের এই নেতাকে সম্প্রতি আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। অথচ চাঞ্চল্যকর এই মামলার বাদী নিজেই স্বীকার করেছেন যে, ওই কৃষক তাঁর কাছে কোনো চাঁদা চাননি এবং পুলিশ যা লিখে দিয়েছে তিনি কেবল তাতে স্বাক্ষর করেছেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে আইয়ুব আলীর স্ত্রী ফাতেমা মনি জানান, গত মঙ্গলবার দুপুরে চারটি ট্রাকে করে সারগুলো গুলিয়াখালী নৌঘাটের দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহ হলে তা আটকান তার স্বামী। এর আগে বিষয়টি উপজেলা কৃষি দপ্তরকে জানানো হলে তারাই সারগুলো আটকাতে বলেছিল। কিন্তু ঘটনাস্থলে ট্রাকচালকরা কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এর কিছুক্ষণ পরই সেখানে কৃষি কর্মকর্তা ও পুলিশের একটি দল উপস্থিত হয়।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের সহকারী কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদও কৃষকের দাবি সত্য বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কৃষকের তথ্যের ভিত্তিতেই তারা ঘটনাস্থলে যান এবং চালকরা কোনো বৈধ ডকুমেন্ট দেখাতে ব্যর্থ হন। সেখানে চাঁদাবাজির কোনো ঘটনাই ঘটেনি। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পুলিশের এসআই শফিউল করিমের নেতৃত্বে একটি দল কৃষকের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে হাতকড়া পরিয়ে তাকে থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে মামলার বাদী ও ট্রাকচালক মোহাম্মদ পাবেল গণমাধ্যমের কাছে স্পষ্ট করেছেন যে, আইয়ুব আলী তাঁর কাছে কোনো চাঁদা দাবি করেননি, কেবল গাড়ির চাবি নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এজাহারে চাঁদাবাজির অভিযোগ কীভাবে এল, সে বিষয়ে তার কোনো ধারণাই নেই। পুলিশ যেভাবে এজাহার তৈরি করেছে তিনি কেবল তাতে সই করেছেন মাত্র।
অন্যদিকে সীতাকুণ্ড মডেল থানার এসআই মো. শফিউল করিমের দাবি, সার নেওয়ার সময় কৃষকরা দুই লাখ টাকা এবং পরবর্তীতে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। পুলিশ জানায়, জব্দকৃত এই সারগুলো আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল এবং সন্দ্বীপের এক ব্যক্তি তা পেয়েছিলেন। উল্লেখ্য, সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন পয়েন্ট ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সাগরে মিয়ানমারে সার পাচার হয়ে আসছে, যার ধারাবাহিকতায় গত সেপ্টেম্বরেও বড় চালান জব্দ করা হয়েছিল।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;
প্রধান সম্পাদক : খালেদ সরফুদ্দীন, সম্পাদক ও প্রকাশক : এসকে এম মেজবাহ উদ্দীন খালেদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রফিক টাওয়ার ( নীচ তলা ), ফকির হাট, জনতা ব্যাংকের নীচে, দক্ষিণ সলিমপুর, জাফরাবাদ, সীতাকুণ্ড , চট্টগ্রাম- ৪৩১৭।
ফোন : +৮৮০ ১৮২১৪৩১১৪৪, ই-মেইল : skmkhaled@gmail.com
All rights reserved © 2019 Postcardbd.Com