চট্টগ্রামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম বাঁশবাড়িয়া–গুপ্তছড়া নৌরুটে জোয়ার-ভাটার কারণে সৃষ্ট তীব্র নাব্যতা সংকট এবং নিয়মিত ফেরি ও স্টিমার চলাচল ব্যাহত হওয়ার দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনে গেছেন সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষ। গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ঘাট সরাসরি পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান এটিএম আব্দুল বারী। এ সময় তিনি নৌরুটের সার্বিক পরিস্থিতি সরজমিন দেখার পাশাপাশি সাধারণ যাত্রী, স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসির দায়িত্বে থাকা স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
যাত্রী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ও উন্মুক্ত মতবিনিময়ে বিআইডব্লিউটিসি চেয়ারম্যান এটিএম আব্দুল বারী গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘোষণা দেন। তিনি জানান, সন্দ্বীপ নৌরুটে যাত্রী ও যানবাহন চলাচলের চাপ কমাতে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আরও একটি অতিরিক্ত ফেরি এবং ‘নিঝুম দ্বীপ’ নামক সিট্রাক বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়া উপকূলীয় এলাকার যোগাযোগ আরও গতিশীল ও আধুনিক করতে ৫০ আসনের একটি বিশেষ ওয়াটার বাস এই রুটে চালু করা যায় কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে নৌরুট চালুর ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, আবহাওয়া খারাপ থাকলে বা ৩ নম্বর বিপদসংকেত জারি হলে যাত্রীদের জীবনের কথা চিন্তা করে বিআইডব্লিউটিসি কোনো ধরনের ঝুঁকি নেবে না।
সফরের শুরুতে চেয়ারম্যান বাঁশবাড়িয়া ঘাটে নবনির্মিত হাই ওয়াটার পয়েন্ট ও মিড ওয়াটার পয়েন্ট ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন এবং বাঁশবাড়িয়া ঘাটের হাই ওয়াটার পয়েন্টটি দ্রুত চালুর পাশাপাশি ওপারেরে গুপ্তছড়া ঘাটের দুটি পয়েন্ট জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের বিশেষ অনুরোধ জানান।
অন্যদিকে, বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাটের দীর্ঘদিনের সড়ক ও অবকাঠামোগত বেহাল দশা নিয়ে ঘাটের চালক ও পরিচালনাকারীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তারা জানান, ঘাটের পন্টুন ও তীরে ফেরি ঠিকমতো না ভিড়তে পারায় প্রায়ই মালামালবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যাত্রীবাহী যানবাহন মারাত্মক দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। এর ওপর প্রবল জোয়ারের পানিতে ফেরিঘাট পর্যন্ত যোগাযোগের মূল সড়কটির একটি অংশ পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। চেয়ারম্যান জানান, বাঁশবাড়িয়া থেকে কুমিরা ঘাট পর্যন্ত উপকূলীয় বেড়িবাঁধের ওপরের ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে এবং দ্রুত এর নির্মাণ কাজ শুরু করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সন্দ্বীপ ও সীতাকুণ্ডের এই জনবহুল নৌরুটের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বিআইডব্লিউটিসি চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রস্তাবিত নতুন ফেরি, সিট্রাক ও ওয়াটার বাস চালুর পাশাপাশি ঘাটের অবকাঠামোগত এই ত্রুটিগুলো দূর করা সম্ভব হলে দীর্ঘদিনের যাতায়াত যন্ত্রণার অবসান ঘটবে এবং নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত হবে।
পরিদর্শনকালে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান, বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক (চট্টগ্রাম) মোহাম্মদ সেলিম, সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাসেম ও আশরাফ উদ্দিন জনি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি ফোরকান উদ্দিন রিজভী, যুবদলের আহ্বায়ক নিঝুম খান, রহমতপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান মামুন এবং ‘আমরা সন্দ্বীপবাসী’র সমন্বয়ক খাদেমুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও নৌপরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;
প্রধান সম্পাদক : খালেদ সরফুদ্দীন, সম্পাদক ও প্রকাশক : এসকে এম মেজবাহ উদ্দীন খালেদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রফিক টাওয়ার ( নীচ তলা ), ফকির হাট, জনতা ব্যাংকের নীচে, দক্ষিণ সলিমপুর, জাফরাবাদ, সীতাকুণ্ড , চট্টগ্রাম- ৪৩১৭।
ফোন : +৮৮০ ১৮২১৪৩১১৪৪, ই-মেইল : skmkhaled@gmail.com
All rights reserved © 2019 Postcardbd.Com