চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) এক মেধাভী ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও সংলগ্ন রেলপথ। ৬ ঘণ্টাব্যাপী মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধের পর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সশরীরে উপস্থিতি ও ৮ দফা দাবি পূরণের সুনির্দিষ্ট আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) বিকেল ৪টা.৩০ মিনিটে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিলে মহাসড়কে যানবাহন ও রেলে চলাচল স্বাভাবিক হয়।
মঙ্গলবার সকালে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় সড়ক পারাপারের সময় একটি দ্রুতগামী লরির ধাক্কায় একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে সেটির নিচে চাপা পড়ে পিষ্ট হন আইআইইউসি-র ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাত। ঘটনাস্থলেই তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। এ সময় রাজিয়া নামে আরও এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। নিহতের গ্রামের বাড়ি মিরসরাই উপজেলায়। সড়ক দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সহপাঠীদের অকাল মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাজপথে নেমে আসে এবং দুর্ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে মহাসড়ক ও রেলপথ অবরুদ্ধ করে ফেলে।
সহপাঠীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ ও শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেকে) ময়নাতদন্ত শেষে নিহত মাইশার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেখান থেকে মরদেহ গ্রামে নিয়ে যাওয়ার পথে আইআইইউসি-র মূল ফটকসংলগ্ন মহাসড়কে মাইশার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, স্থানীয় প্রশাসন ও হাজারো সহপাঠীর উপস্থিতিতে এক হূদয়বিদারক দৃশ্য তৈরি হয়। একমাত্র কন্যাসন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন প্রবাসী বাবা দিদারুল আলম ও তাঁর মা। গত শুক্রবারও আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে মাইশার জন্মদিন উদযাপন করা হয়েছিল বলে স্বজনেরা অশ্রুসজল চোখে স্মৃতিচারণ করেন।
উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম ও সীতাকুণ্ড থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রথমে ঘটনাস্থলে যান। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সরাসরি জেলা প্রশাসকের উপস্থিতির দাবি জানায়। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সশরীরে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শিক্ষকবৃন্দ। জেলা প্রশাসক নিজে জানাজায় অংশ নেন এবং চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত শিক্ষার্থীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ৮ দফা দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে প্রশাসনিক পদক্ষেপের আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে ছিল— ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দায়ী লরিচালক ও মালিককে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ ও মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান, আইআইইউসি-র প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভার ব্রিজের দ্রুত নির্মাণ, সড়ক প্রশস্তকরণ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করা।
জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, মন্ত্রণালয় ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ ও অন্যান্য অবকাঠামোগত নিরাপত্তার বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া গেছে। কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অবৈধ পার্কিং মহাসড়কে সহ্য করা হবে না বলেও কঠোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি। একই সঙ্গে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম মামলা গ্রহণ এবং ঘাতক চালককে দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী ও শিক্ষার্থীদের সম্মতিক্রমে ৬ ঘণ্টা পর মহাসড়কে গাড়ি চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;
প্রধান সম্পাদক : খালেদ সরফুদ্দীন, সম্পাদক ও প্রকাশক : এসকে এম মেজবাহ উদ্দীন খালেদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রফিক টাওয়ার ( নীচ তলা ), ফকির হাট, জনতা ব্যাংকের নীচে, দক্ষিণ সলিমপুর, জাফরাবাদ, সীতাকুণ্ড , চট্টগ্রাম- ৪৩১৭।
ফোন : +৮৮০ ১৮২১৪৩১১৪৪, ই-মেইল : skmkhaled@gmail.com
All rights reserved © 2019 Postcardbd.Com