
ফ্যাশন সচেতন নারীদের কাছে জেল নেইলপলিশ এবং অ্যাক্রেলিক কৃত্রিম নখের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়লেও এগুলো ডেকে আনছে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি। ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশন অব ডার্মাটোলজিস্টের বিশেষজ্ঞদের মতে, জেল, অ্যাক্রেলিক ও জেল পলিশ—এই তিন ধরনের প্রোজনেই ‘মেথাক্রিলেট’ নামক একটি ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ থাকে। এই রাসায়নিকের সংস্পর্শে এলে শুধু আঙুল নয়, বরং মুখ, ঘাড়, চোখের পাতা কিংবা শরীরের সংবেদনশীল স্থানেও তীব্র চুলকানি, ফুসকুড়ি বা র্যাশ হতে পারে। এমনকি অনেকের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দেওয়ারও আশঙ্কা থাকে।
যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের ১৩টি ডার্মাটোলজি ইউনিটে প্রায় ৫ হাজার রোগীর ওপর চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম নখ, নেইল এনহান্সমেন্ট এবং কৃত্রিম চোখের পাপড়ির আঠা ব্যবহারের কারণেই বেশিরভাগ মানুষ এই অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হয়েছেন। বিশেষ করে বাড়িতে নিজে নিজে হোম কিটস ব্যবহার করে কিংবা কোনো অদক্ষ টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে এসব নখ ও পলিশ লাগালে অ্যালার্জির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এছাড়া বিউটিশিয়ান বা যারা নিয়মিত এই পণ্য নিয়ে কাজ করেন, তারাও পেশাগত কারণে মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকেন।
জেল পলিশ যেভাবে করা হয়
কৃতি ও পরিচ্ছন্নতা -শুরুতেই যার জেল পলিশ করা হবে, তাঁর পছন্দ অনুযায়ী নখগুলোকে ডিম্বাকার, চারকোনা কিংবা কফিনের আকৃতি দেওয়া হয়। এরপর বাফারের সহায়তায় কিউটিকল পরিষ্কার করে, বিশেষ জীবাণুনাশক উপাদান দিয়ে নখের উপরিভাগ আর্ট ও রঙের জন্য প্রস্তুত করা হয়।
বেজ কোট ও রং - রং যাতে নখে মজবুতভাবে বসে, সে জন্য প্রথমে লাগানো হয় বেজ কোট। এরপর মূল জেল কালার কিংবা পছন্দের নেল আর্ট নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়।
আলোর সংস্পর্শে কিউরিং - কোট লাগানোর পর ৬০ থেকে ৯০ সেকেন্ড এলইডি আলোর নিচে নখের ওপর জেলটিকে রেখে শুকিয়ে শক্ত করা হয়।
টপ কোটের সুরক্ষা - সবশেষে একটি টপ কোট দিয়ে আবারও লাইটে দুই মিনিট মতো রাখা হয়, যা নখের পুরো নকশাকে একসঙ্গে রাখতে ও মজবুত করতে সাহায্য করে।
জেল পলিশ তোলার নিয়ম
জেল পলিশ তোলার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা মেনে চলা আবশ্যক। যেমন:
খুঁচিয়ে তোলার চেষ্টা না করা - নখ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গোড়ায় ফাঁকা জায়গা তৈরি হলেও পলিশটি নিজে নিজে টেনে বা দাঁত দিয়ে খুঁটে তোলার চেষ্টা করা অনুচিত। এতে নখের স্বাভাবিক স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
দক্ষ হাতে অপসারণ - জেল পলিশ সাধারণ উপায়ে তোলা সম্ভব নয়। অভিজ্ঞ সেলুনে গিয়ে বিশেষ উপাদান ও নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে বেশ কিছুটা সময় নিয়ে এটি তুলতে হয়। এই জন্য দক্ষ কারও সাহায্য নিতে হবে। সাধারণত যেখান থেকে লাগানো হয়, সেখানে গিয়ে ওঠানোই ভালো।
মানসম্মত সেলুন নির্বাচন - মানহীন পণ্য বা অনভিজ্ঞ কারও মাধ্যমে এই সেবা নিলে নখ পাতলা ও ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, নখের এই আলপনার কারণে শরীরে অ্যালার্জি দেখা দিলেও অনেকেই বুঝতে পারেন না যে এর পেছনে আসল কারণ নখের প্রসাধন। আর একবার এই অ্যালার্জি শরীরে বাসা বাঁধলে এর প্রভাব সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হতে পারে। তাই ডেন্টিস্ট্রি বা সার্জারিতে ব্যবহৃত এই উপাদানের ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি:
মেথাক্রিলেটযুক্ত নেইল পণ্যগুলো কোনোভাবেই যেন সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে না আসে, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।
স্যালন বা বিউটিশিয়ানদের কাজের সময় অবশ্যই নিট্রাইল গ্লাভস পরার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাড়িতে জেল পলিশ ব্যবহারের সময় অবশ্যই প্রস্তাবিত সঠিক ইউভি ল্যাম্প ব্যবহার করতে হবে এবং ব্যবহারের নির্দেশাবলি ভালোভাবে পড়ে নিতে হবে। ভুল ইউভি ল্যাম্প ব্যবহারের ফলে পলিশ ঠিকমতো না শুকিয়ে অ্যালার্জির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
স্যালন মালিকদের নিশ্চিত করতে হবে যে সেখানে কর্মরত কর্মীরা এসব কেমিক্যাল ব্যবহারের ওপর পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কি না।
অনভিজ্ঞ হাতে বা মানহীন উপায়ে জেল পলিশ ব্যবহার না করে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বিশ্বস্ত ও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;
প্রধান সম্পাদক : খালেদ সরফুদ্দীন, সম্পাদক ও প্রকাশক : এসকে এম মেজবাহ উদ্দীন খালেদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রফিক টাওয়ার ( নীচ তলা ), ফকির হাট, জনতা ব্যাংকের নীচে, দক্ষিণ সলিমপুর, জাফরাবাদ, সীতাকুণ্ড , চট্টগ্রাম- ৪৩১৭।
ফোন : +৮৮০ ১৮২১৪৩১১৪৪, ই-মেইল : skmkhaled@gmail.com
All rights reserved © 2019 Postcardbd.Com