
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েই চলেছে, যা হাসপাতালের ধারণক্ষমতাকে বহু আগেই ছাড়িয়ে গেছে। ২২শ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফলে শয্যা না পেয়ে অসংখ্য রোগীকে বাধ্য হয়ে ওয়ার্ডের বারান্দা এবং মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
শুধুমাত্র চট্টগ্রাম জেলা নয়, বরং বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লার মতো আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে জটিল ও গুরুতর রোগীরা উন্নত চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালে ছুটে আসেন। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গু এবং বিভিন্ন মৌসুমি রোগের প্রকোপ যুক্ত হওয়ায় হাসপাতালের ওপর চাপ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৬ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডের মহিলা ব্লককে ডেঙ্গু কর্নার করা হলেও সেখানে ৩২টি শয্যার বিপরীতে আড়াই গুণের বেশি রোগী ভর্তি থাকায় মেঝে ও বারান্দায় গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত মশারি, ফ্যান ও স্যালাইন স্ট্যান্ডের অভাবে ডেঙ্গু রোগীদের পাশাপাশি তাদের স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, যা থেকে নতুন করে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
শুধু শয্যা সংকট নয়, হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রমে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির ঘনঘন বিকল হওয়া। ১৫ থেকে ১৮ কোটি টাকা মূল্যের দামি এমআরআই মেশিনটি বছরের বেশিরভাগ সময়ই অকেজো থাকে। এছাড়া সিটি স্ক্যান, এনজিওগ্রাম মেশিন এবং কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের লাইফ সাপোর্ট ভেন্টিলেটর ও ওটি সরঞ্জামের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এর ফলে গরিব রোগীদের বাধ্য হয়ে চড়া মূল্যে বাইরের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করাতে হয়, যা তাদের আর্থিক কষ্টের পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
এদিকে, কিডনি রোগীদের জীবন রক্ষাকারী ডায়ালাইসিস সেবা নিয়েও চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। স্যান্ডর নামক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ডায়ালাইসিস সেন্টার পরিচালনার ১০ বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নামমাত্র মূল্যে বা সরকারি ভর্তুকিতে এখানে রোগীরা ডায়ালাইসিস সেবা পেলেও চুক্তি শেষ হওয়ার পর নতুন নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডায়ালাইসিস চালু করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। এতে মাঝখানের সময়ে নিয়মিত ডায়ালাইসিস নেওয়া শত শত রোগী চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
হাসপাতালের সার্বিক সংকট ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে চমেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন জানান, হাসপাতালে কোনো ওয়ার্ডেই খালি শয্যা নেই এবং জনবলসহ নানা ধরনের সংকট রয়েছে। তবে চমেক একটি রেফারেল হাসপাতাল হওয়ায় শয্যা না থাকলেও রোগীদের ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। তিনি বলেন, সীমাবদ্ধতার মধ্যে সেবা দেওয়া দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিটি পরিচালকের জন্যই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এরপরও আমরা এর মধ্যেই সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, আশা করছি ভালো কিছু ফল পাওয়া যাবে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি হাসপাতালের সংকট প্রসঙ্গে বলেন, চমেকে প্রয়োজনের তুলনায় শয্যা সংখ্যা অনেক কম। অতিরিক্ত পরীক্ষার চাপের কারণেই দামি যন্ত্রপাতিগুলো ঘনঘন বিকল হয়ে থাকে। চমেকের চাপ কমাতে সিআরবি রেলওয়ে হাসপাতাল ব্যবহারের বিষয়ে এবং পতেঙ্গায় ৫০০ শয্যার নতুন হাসপাতালসহ হাটহাজারীতে আলাদা হাসপাতাল করার পরিকল্পনা চলছে।
এছাড়াও ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও বিশেষ সতর্কতার বিষয়ে চমেকের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. এএসএম জাহেদ পরামর্শ দিয়েছেন, জ্বর হলেই অবহেলা না করে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো উচিত এবং জটিল রোগীদের ক্ষেত্রে হাসপাতালে নেওয়ার পাশাপাশি প্রচুর তরল খাবার ও পূর্ণ বিশ্রামে থাকা জরুরি।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সাজেদুর রহমানও ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার হাসপাতালগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখার কথা জানিয়েছেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিচারে ভোক্তা অধিকার সংস্থা ক্যাবের (সিএবি) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন মনে করেন, দ্রুত সিআরবির রেলওয়ে হাসপাতালকে ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে চালু করা গেলে চমেকে রোগীদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;
প্রধান সম্পাদক : খালেদ সরফুদ্দীন, সম্পাদক ও প্রকাশক : এসকে এম মেজবাহ উদ্দীন খালেদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রফিক টাওয়ার ( নীচ তলা ), ফকির হাট, জনতা ব্যাংকের নীচে, দক্ষিণ সলিমপুর, জাফরাবাদ, সীতাকুণ্ড , চট্টগ্রাম- ৪৩১৭।
ফোন : +৮৮০ ১৮২১৪৩১১৪৪, ই-মেইল : skmkhaled@gmail.com
All rights reserved © 2019 Postcardbd.Com