২০১৯-২০ কর বছরে সেরা করদাতার স্বীকৃতি পেলেন যারা

২০১৯-২০ কর বছরে সেরা করদাতার স্বীকৃতি পেলেন যারা
২০১৯-২০ কর বছরে সেরা করদাতার স্বীকৃতি পেলেন যারা

পোস্টকার্ড ডেস্ক ।।

সেরা করদাতা হিসেবে ২০১৯-২০ কর বছরে ট্যাক্সকার্ড প্রাপ্তদের তালিকার গেজেট প্রকাশ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বিগত অর্থবছর অর্থাৎ ২০১৯-২০ সালে ব্যক্তিপর্যায়ে ৭৬, কোম্পানি পর্যায়ে ৫৩ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ১২টিসহ মোট ১৪১টি ট্যাক্সকার্ড দেয়া হয়েছে। জাতীয় ট্যাক্সকার্ড নীতিমালা, ২০১০ (সংশোধিত) অনুযায়ী তাদের এই স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।

এনবিআর’র নীতিমালা অনুযায়ী, ট্যাক্সকার্ডধারীদের সরকার বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান এবং সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ জানাবে। যেকোনো ভ্রমণে সড়ক, বিমান বা জলপথে টিকিট পাওয়ার ক্ষেত্রে তারা অগ্রাধিকার পাবেন। স্ত্রী-স্বামী, নির্ভরশীল পুত্র-কন্যা নিজেদের চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কেবিন সুবিধা দেয়া হবে তাদের।

ব্যক্তিপর্যায়ে ট্যাক্সকার্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে বিশেষ শ্রেণির ক্যাটাগরি পাঁচটি—সিনিয়র সিটিজেন, গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, নারী ও তরুণ। আর আয়ের উৎস বা পেশার মধ্যে ক্যাটাগরি ১৩টি- ব্যবসায়ী, বেতনভোগী, ডাক্তার, সাংবাদিক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, স্থপতি, হিসাববিদ, নতুন করদাতা, খেলোয়াড়, অভিনেতা-অভিনেত্রী, শিল্পী (গায়ক-গায়িকা) ও অন্যান্য।

ব্যক্তিপর্যায়ের সিনিয়র সিটিজেন ক্যাটাগরিতে সেরা করদাতা হয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, ট্রান্সকম গ্রুপের প্রয়াত চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান, উত্তরা মোটরসের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউর রহমান, ইস্পাত খাতের প্রতিষ্ঠান বিএসআরএম’র চেয়ারম্যান আলী হোসেন আকবর আলী, মোস্তাফিজুর রহমান এবং হাকিমপুরী জর্দার স্বত্বাধিকারী কাউছ মিয়া, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, মো. নুরুজ্জামান খান ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ কামাল।

এদিকে, খেলোয়াড় শ্রেণিতে সেরা করদাতা নির্বাচিত হয়েছে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তার পরেই রয়েছেন চট্টগ্রামের ছেলে তামিম ইকবাল। এরপরে তৃতীয় অবস্থানে আছেন নড়াইল এক্সপ্রেস খ্যাত ও নড়াইল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজা।

সাংবাদিক শ্রেণিতে এবারও সেরা করদাতা হয়েছেন ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম। এরপরেই আছেন চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজাদীর সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল মালেক ও প্রথম আলোর সম্পাদক ও প্রকাশক মতিউর রহমান। সাংবাদিক শ্রেণিতে সেরা সাংবাদিকের বাকিরা হচ্ছেন- চ্যানেল আই’র পরিচালক (বার্তা) শাইখ সিরাজ ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল।

সেরা করদাতার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন শোবিজের ছয় তারকা। এরা হলেন- শাকিব খান, তাহসান খান, বিদ্যা সিনহা মিম, শাহীন সামাদ, মমতাজ বেগম ও  রাইসুল ইসলাম আসাদ।

ব্যক্তিপর্যায়ের গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সেরা করদাতা হয়েছেন মো. নাসির উদ্দিন মৃধা, লে. জেনারেল আবু সালেহ মো. নাসিম (অব.), মো. জয়নাল আবেদীন, ইন্দুভূষণ ভৌমিক ও আবদুল মান্নান।

নারী ক্যাটাগরিতে সেরা করদাতা হয়েছেন ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী পরিবারের লায়লা হোসেন ও ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহনাজ রহমান, আনোয়ারা হোসেন, পারভীন হাসান এবং পপি রানি ভৌমিক।

কোম্পানি পর্যায়ে ব্যাংকিং ক্যাটাগরিতে সেরা করদাতা হয়েছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, দ্য হংকং এন্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি) ও ন্যাশনাল ব্যাংক।

টেলিকমিউনিকেশন ক্যাটাগরিতে সেরা করদাতা হয়েছে গ্রামীণফোন।

ওষুধ ও রসায়ন ক্যাটাগরিতে ইউনিলিভার বাংলাদেশ, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস ও রেনেটা সেরা করদাতা হয়েছে।

প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া ক্যাটাগরিতে সেরা করদাতা হয়েছে মিডিয়া স্টার, ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ, ট্রান্সক্রাফট ও মিডিয়া ওয়ার্ল্ড।

চামড়াশিল্প ক্যাটাগরিতে বাটা স্যু কোম্পানি, এপেক্স ফুটওয়্যার, লালমাই ফুটওয়্যার সেরা করদাতা হয়েছে।

অন্যান্য করদাতা পর্যায়ের ফার্ম ক্যাটাগরিতে চট্টগ্রামের মেসার্স এস এন করপোরেশন ও সাহারা এন্টারপ্রাইজ, সিলেটের মেসার্স এএসবিএস, ফেনীর মেসার্স ছালেহ আহমেদ সেরা করদাতা হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ক্যাটাগরিতে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ ও সেতু কর্তৃপক্ষ।

ব্যক্তিসংঘ ক্যাটাগরিতে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট ও সেনা কল্যাণ সংস্থা হেড অফিস এবং অন্যান্য ক্যাটাগরিতে আশা, ব্যুরো বাংলাদেশ (এনজিও), ওয়ালটন হাইটেক, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি সেরা করদাতা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে ব্যক্তিপর্যায়ে ট্যাক্সকার্ড দিতে ‘বিশেষ শ্রেণি’ ও ‘আয়ের উৎস বা পেশা’ নামে আলাদা দুটি ভাগ বা শ্রেণি করা হয়েছে। বিশেষ শ্রেণির মধ্যে রয়েছে সিনিয়র সিটিজেন, গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, নারী এবং ৪০ বছরের কম বয়সী তরুণ।

অন্যদিকে, ‘আয়ের উৎস বা পেশার’ আওতায় ১৩টি শ্রেণিতে রয়েছেন ব্যবসায়ী, বেতনভোগী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, স্থপতি, হিসাববিদ, নতুন করদাতা, খেলোয়াড়, অভিনেতা-অভিনেত্রী, শিল্পী (গায়ক/গায়িকা) এবং অন্যান্য। আর কোম্পানি পর্যায়ে করা হয়েছে ১৪টি শ্রেণি।