মাসজিদুল আকসা মুসলমানদের কাছে সবসময় সম্মানিত, নির্যাতিত আল আকসা ও ফিলিস্তিনের ইতিহাস

মাসজিদুল আকসা মুসলমানদের কাছে সবসময় সম্মানিত, নির্যাতিত আল আকসা ও ফিলিস্তিনের ইতিহাস
মাসজিদুল আকসা মুসলমানদের কাছে সবসময় সম্মানিত, নির্যাতিত আল আকসা ও ফিলিস্তিনের ইতিহাস

শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী ।।

‘কুদস’ অর্থ পবিত্র। ‘আল কুদস’ ফিলিস্তিনের জেরুজালেম পুণ্যভূমিতে অবস্থিত পবিত্র মসজিদ, যা ‘মাসজিদুল আকসা’ ও ‘বাইতুল মুকাদ্দাস’ নামে সমধিক পরিচিত। বাইতুল মুকাদ্দাস তথা মাসজিদুল আকসা মুসলমানদের কাছে সবসময় সম্মানিত। হজরত আদম (আ.) মক্কায় পৃথিবীর আদিগৃহ কাবা ঘর নির্মাণের ৪০ বছর পর ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে বাইতুল মুকাদ্দাস নির্মাণ করেন। এ যাবৎ কাবা ঘরের সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ হয়েছে ১২ বার, বাইতুল মুকাদ্দাসের সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ হয়েছে ২২ বার। হজরত ইবরাহীম (আ.) কর্তৃক কাবা ঘর পুনর্নির্মাণের ৪০ বছর পর, তদ্বীয় পুত্র হজরত ইসহাক (আ.)-এর সন্তান হজরত ইয়াকুব (আ.) ফিলিস্তিনের জেরুজালেম নামক স্থানে ‘আল আকসা’ মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করেন। অতঃপর তদ্বীয় পুত্র হজরত ইউসুফ (আ.)-এর বংশধর হজরত দাঊদ (আ.)-এর সন্তান হজরত সুলাইমান (আ.) তা (১০০৪ খ্রিস্টপূর্ব) পুনর্নির্মাণ করেন। এই কাজে তিনি জিনদের নিয়োজিত করেছিলেন এবং আল্লাহর কুদরতে গলিত তামার ঝরনা প্রবাহিত হয়েছিল। তিনি রমজান মাসের শেষ শুক্রবার জেরুজালেম নগর প্রতিষ্ঠা করেন।

বাইতুল মুকাদ্দাস বা আল আকসা বেশ কিছু স্থাপনার সমন্বয়ে গঠিত, এতে মোট ২টি বড় ও ১০টি ছোট গম্বুজ রয়েছে। যেমনÑ কিবলী মসজিদ, মারওয়ানী মসজিদ, বুরাক মসজিদ, কুব্বাদ আস-সিলসিলা, কুব্বাদ আন-নাবী, কুব্বাদ আস-সাখরা ইত্যাদি। দেওয়াল বেষ্টিত পুরো মসজিদ কমপ্লেক্সকে হারাম শরীফ বলা হয়। দক্ষিণ পাশের রূপালী রঙের (বর্তমানে বিবর্ণ) মসজিদ ও গম্বুজ হলো মূল আকসা মসজিদ। উত্তর পাশে সোনালি রঙের কুব্বাদ আস-সাখরা (ডোম অব রক), এটি মিরাজ যাত্রার স্মৃতি হিসেবে নির্মিত। আল আকসা ইহুদিদের কাছে টেম্পল মাউন্ট নামে এবং খ্রিস্টানদের কাছে সুলাইমানী মসজিদ নামে পরিচিত। বিভিন্ন শাসকের সময় মসজিদ কমপ্লেক্সে বিভিন্ন অংশ যুক্ত করা হয়, এর মধ্যে রয়েছে গম্বুজ, আঙ্গিনা, মিম্বার, মিহরাব ইত্যাদি।

আল আকসার নির্মাণসামগ্রী অন্যতম হলো মূল্যবান পাথর, সিসা (লিড) ও স্বর্ণ। এর আয়তন ৩ হাজার ৫০০ বর্গমিটার, এতে ৫ হাজার মুসল্লি একত্রে নামাজ আদায় করতে পারেন।

৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে জেরুজালে রোমান সম্রাজ্যের কাছ থেকে মুসলমানদের অধিকারে আসে, ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে খলিফা উমর (রা.) এ স্থানে ধ্বংসাবশেষের ওপর একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিক পুনর্নির্মাণ ও সম্প্রসারণ করেন। তার পুত্র খলিফা ওয়ালিদ ৭০৫ খ্রিস্টাব্দে তা সম্পূর্ণ করেন। এই সময় কুব্বাদ আস-সাখরা (সোনালি গম্বুজ) স্থাপনাটি মির্মিত হয়। এই সোনালি স্থাপনাটি মূল আকসা নয়, বরং স্বতন্ত্র কোনো মসজিদ বা ইবাদতগৃহও নয়। এখানে স্বতন্ত্রভাবে নামাজের জামাতও অনুষ্ঠিত হয় না। জেরুজালেম শহরের সংস্কৃতি কেন্দ্ররূপে এটি ব্যবহৃত হয়, বিয়েশাদিসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড এখানে সম্পন্ন হয় এবং বর্তমানে এটি ফিলিস্তিনের প্রতীক রূপে পরিচিত।

৭৪৬ খ্রিস্টাব্দে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হলে ৭৫৪ খ্রিস্টাব্দে আব্বাসীয় খলিফা আল মনসুর এটি পুনর্নির্মাণ করেন। তার উত্তরসুরি খলিফা আল মাহদী ও খলিফা আল মামুন এটি সংস্কার করেন। ১০৩৩ খ্রিস্টাব্দে আবার ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হলে ফাতিমী খলিফা আলী আয-যাহির তা পুনর্নির্মাণ করেন। এটিই বর্তমান মসজিদ।

এ এলাকা অসংখ্য নবী-রাসুলগণের স্মৃতিবিজড়িত, এর আশপাশে অনেক নবী-রাসুলগণের সমাধি রয়েছে। এটি দীর্ঘকালের ওহী অবতরণের স্থল, ইসলামের কেন্দ্র এবং ইসলামী সংস্কৃতির সূতিকাগার ও ইসলাম প্রচারের লালন ক্ষেত্র। এই পবিত্র ভূমির ভালোবাসা প্রোথিত রয়েছে প্রত্যেক মুমিনের হৃদয়ের গভীরে।

‘কাবা’ শরীফ প্রথমে কিবলা থাকলেও মাসজিদুল আকসা বা ‘বাইতুল মুকাদ্দাস’ নির্মাণের পর এটি কিবলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। আমাদের প্রিয়নবী (সা.) ওহী লাভ ও নবুওয়াত প্রকাশের সময় ‘বাইতুল মুকাদ্দাস’ই কিবলা ছিল। নবীজি (সা.) মদিনায় হিজরতের প্রায় দেড় বছর পর এই কিবলা পরিবর্তন হয়ে পুনরায় ‘কাবা’ কিবলা হিসেবে নির্ধারিত হয়। মদিনা শরীফে মাসজিদুল কিবলাতাইন বা দুই কিবলার মসজিদটি আজও বিদ্যমান রয়েছে। ঐতিহাসিক এই ঘটনাকে ‘তাহবীলে কিবলা’ বা কিবলা পরিবর্তন বলা হয়। (সুরা বাকারা : আয়াত ১৪২-১৫১)। এ থেকেই ইসলামের দ্বিতীয় কিবলা বাইতুল মুকাদ্দাস মুসলমানদের প্রথম কিবলা হিসেবে পরিচিত হয়। হাদিস শরিফে রয়েছে: ‘কাবা শরীফ তথা মাসজিদুল হারামে নামাজে এক লাখ গুণ সওয়াব, মদিনা শরীফে মসজিদে নববীতে নামাজে পঞ্চাশ হাজার গুণ সওয়াব, বাইতুল মুকাদ্দাসে নামাজে পঁচিশ হাজার গুণ সওয়াব।’

রাসুলুল্লাহ (সা.) মিরাজ রজনীতে প্রথম মাসজিদুল হারাম তথা কাবা শরীফ থেকে মাসজিদুল আকসা তথা বাইতুল মুকাদ্দাস সফর করেন, যা ইসরা নামে পরিচিত। (সুরা ইসরা : আয়াত ১)। প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) মিরাজ গমনের সময় এই মসজিদে সব নবী-রাসুলগণের ইমামতি করে নামাজ আদায় করেন। এতে তিনি ‘ইমামুল আম্বিয়া’ সব নবীগণের ইমাম ও ‘সায়্যিদুল মুরসালীন’ সব রাসুলগণের সরদার হিসেবে স্বীকৃত হন।

মুসলিমদের এই পুণ্যভূমি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সাম্রাজ্যের অধীন ছিল। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা আমীরুল মুমিনীন হজরত উমর ফারুক (রা.)-এর খিলাফতকালে ৬৪৮ সালে বাইতুল মুকাদ্দাস ও জেরুজালেমসহ পুরো ফিলিস্তিন সম্পূর্ণরূপে মুসলমানদের অধিকারে আসে।

১০৯৬ সালে ক্রুসেড যুদ্ধ শুরু হলে ১০৯৯ সালে খ্রিস্টান ক্রুসেডারেরা সিরিয়া ও ফিলিস্তিন জবর দখল করে নেয়। এ সময় তারা মসজিদটিকে প্রাসাদ হিসেবে এবং সোনালি গম্বুজের স্থাপনাটিকে গির্জা হিসেবে ব্যবহার করে। ১১১৯ খ্রিস্টাব্দে ক্রুসেডাররা আল আকসা কমপ্লেক্সটি তাদের সামরিক সদর দফতরে পরিণত করে।

১১৮৭ সালে মুসলিম বীর সিপাহসালার সুলতান সালাহুদ্দীন আইয়ুবী (রহ.) আবার জেরুজালেম শহর মুসলমানদের অধিকারে নিয়ে আসেন। এ সময় তিনি তাঁর পূর্বসুরী সুলতান নূরুদ্দীন (রহ.) নির্মিত মিম্বার যুক্ত করেন। পরবর্তীতে আইয়ুবী ও মামলুক শাসনামলে এতে বিবিধ সংস্কার করা হয়। উসমানীয় সুলতান সুলাইমানের আমলে মসজিদটির নির্মাণ পূর্ণতা পায়। মূল্যবান সামগ্রী দ্বারা তিনি এর শোভাবর্ধন করেন। পরবর্তী উসমানীয় সুলতানদের শাসনামলেও এই ধারাবাহিকতা চলতে থাকে।

হজরত ইবরাহীম (আ.) হিজরত করে ফিলিস্তিন আসেন, তাঁর নাতি হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর উপাধি ছিল ইসরাইল, তাঁর সন্তানদের বনী ইসরাইল বলা হয়। হজরত ইউসুফ (আ.) সময় বনী ইসরাইলরা এখান থেকে মিসর চলে যায়। ৫৮৬ খ্রিস্টপূর্ব ব্যাবিলনের সম্রাট নেবুচাঁদ নেজার ফিলিস্তিন দখল করেন এবং অবশিষ্ট ইহুদিদেরও বিতাড়িত করেন। ৫৩৮ খ্রিস্টপূর্ব পারস্যের সম্রাট সাইরাস ব্যাবিলন জয় করেন। তখন ফিলিস্তিন পারস্য সাম্রাজ্যের অংশ হয়। কালক্রমে এই ভূখণ্ড গ্রিকদের হাত হয়ে রোমানদের অধীনে আসে। ৬৬ খ্রিস্টাব্দে ইহুদিরা রোমানদের সঙ্গে বিদ্রোহ করলে তা দমন করে ৭০ খ্রিস্টাব্দে ইহুদিদের নির্বাসনে দেওয়া হয়।

উনবিংশ শতকে থিওডোর হার্জেলের পরিকল্পনায় ইয়াহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা শুরু হয়। ইহুদি ও খ্রিস্টান চক্র ফিলিস্তিনে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র করতে থাকে। এ অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য ইহুদিরা তৎকালীন মুসলিম তুর্কি সাম্রাজ্যের সর্বশেষ খলিফা সুলতান আবদুল হামীদের নিকট ফিলিস্তিনে বসতি স্থাপনের অনুমতি চায়। দূরদর্শী সুলতান তাদের এ দুরভিসন্ধিমূলক প্রস্তাবে সম্মতি দেননি। ১৯১৭ সালে ব্রিটিশরা ফিলিস্তিনে অনুপ্রবেশ করে এবং ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে; অল্প সময়ের মধ্যে ইহুদিরা ফিলিস্তিনে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন শুরু করে। ফিলিস্তিনের পবিত্র ভূমিতে ইহুদি সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুসলমানদের সঙ্গে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দাঙ্গা নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়। এ সময় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীরা অন্যায়ভাবে মুসলমানদের ফিলিস্তিন ভূমিকে মুসলমান ও ইহুদিদের মাঝে ভাগ করে দেয়।

প্রথম বিশ^যুদ্ধের সময় ব্রিটেন ইহুদিদের জন্য আবাসনের প্রতিশ্রুতি দেয়। ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের ২ নভেম্বর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার বেলফোরের সহযোগিতায় ইহুদি ধনকুবের লর্ড ওয়াল্টার রকচাইল্ডের বদান্যতায় বিশে^র বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ইহুদিরা ফিলিস্তিনে আসতে থাকে। দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধে ইউরোপে হিটলার কর্তৃক ইহুদি নিধনের সময় অবশিষ্ট ইহুদিরা ফিলিস্তিনিতে আশ্রয় নেয়।

১৯২৩ সালে উসমানীয় খিলাফতের অবসানের পর, ব্রিটিশ দখলদারিত্বের সময় ‘ফিলিস্তিন সুপ্রিম মুসলিম কাউন্সিল’ আল আকসা মসজিদ কমপ্লেক্সের দেখাশোনার দায়িত্বে ছিল।

১৯৪৮ সালে আরব-ইসরাইল প্রথমযুদ্ধে জর্ডান বাইতুল মুকাদ্দাসসহ পশ্চিমতীর এলাকাটি অধিকার করে নেয়। ১৯৫১ সালে ‘ফিলিস্তিন সুপ্রিম মুসলিম কাউন্সিল’ বিলুপ্ত করে এবং ‘জর্ডান ওয়াকফ মন্ত্রণালয়’ কমপ্লেক্সটি দেখাশোনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে।

১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল দ্বিতীয়যুদ্ধে ইসরাইল পশ্চিমতীর দখল করে নিলে জর্ডান বাইতুল মুকাদ্দাসের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারায়। তবুও ‘জর্ডান ওয়াকফ মন্ত্রণালয়’ এর মাধ্যমে ‘ইসলামিক ওয়াকফ ট্রাস্ট’ কমপ্লেক্সটির দেখাশোনা করে আসছিল। ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে ড্যানিস রোহান নামে এক উগ্রবাদী খ্রিস্টান মসজিদে আগ্সি সংযোগ করলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সুলতান নূরুদ্দীন (রহ.) নির্মিত মিম্বারটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এরপর আল আকসা রক্ষার স্বার্থে গঠিত হয় মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের সংগঠন ‘ওআইসি’। তখন থেকে আল আকসা কমপ্লেক্স দেখাশোনার দায়িত্ব ‘ইসলামিক ওয়াকফ ট্রাস্ট’ পালন করলেও এর নিরাপত্তার দায়িত্ব ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ তাদের হাতেই নিয়ে নিয়েছে। এ সময় থেকে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফিলিস্তিনি জনগণের সংঘাত ও সংঘর্ষ চলে আসছে। সর্বশেষ ১৯৭৪ সালে এ নিয়ে আরব-ইসরাইল তৃতীয়যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

১৯৪৭ সালে ১৯ নভেম্বর জাতিসংঘে ইসরাইল রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব পাস করা হয়। ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের ৫৬ শতাংশ ভূমি নিয়ে ১৯৪৮ সালের ১৪ মে বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে যায়নবাদী অবৈধ ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয় (ইহুদিরা তাদের জাতীয় দিবস হিব্রু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পালন করে বিধায় কোনো কোনো বছর তা ১৫ মে হয়)। তখন থেকে মুসলমানদের প্রতি ইহুদিদের জুলুম নির্যাতন ও অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়তে থাকে, যা আজও চলছে।

১৯৬৭ সালে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল ‘মসজিদুল আকসা’ জবর দখল করে নেয়। এরপর থেকে মুসলিম জনগণ স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ সূচনা করে। জালিম ইসরাইল একের পর এক মুসলিম এলাকা জবর দখল করে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখে এবং হত্যা-গুম চালিয়ে যাচ্ছে। ইহুদিদের ঘৃন্য পরিকল্পনা সচেতন মুসলমানদের সংগ্রামী প্রতিরোধ আন্দোলনের মুখে পরিপূর্ণভাবে সফল হতে পারেনি। সারা বিশে^র বিভিন্ন দেশের জনগণ ফিলিস্তিনি মুসলিমদের প্রতিরোধ আন্দোলন সমর্থন করেছে। ১৯৭৯ সাল থেকে ‘আল আকসা’ মসজিদ মুক্তির লক্ষে মুসলিম উম্মাহ প্রতিবছর রমজান মাসের শেষ দশকের শুক্রবারে ‘আল কুদস’ দিবস পালন করে। তখন থেকে সারা বিশে^ এ দিনটি মুসলিম উম্মাহর মুক্তির ও ঐক্যের প্রতীকরূপে পালিত হয়। কোরআন কারীমে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে সম্মিলিতভাবে দৃঢ়রূপে ধারণ করো, আর পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।’ (সুরা আলে ইমরান : আয়াত ১০৩)

লেখকঃ সহকারী অধ্যাপক, আহছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সূফীজম