সন্দ্বীপে নেই মেডিকেল টেকনোলজিস্ট , পাঠানো হয়নি ডেঙ্গু পরীক্ষার কিটও

অপু ইব্রাহিম, সন্দ্বীপ

সন্দ্বীপে নেই মেডিকেল টেকনোলজিস্ট , পাঠানো হয়নি ডেঙ্গু পরীক্ষার কিটও
সন্দ্বীপে নেই মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পাঠানো হয়নি ডেঙ্গু পরীক্ষার কিটও
সারাদেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু। দেশে সবচেয়ে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে ডেঙ্গু শনাক্তকরণে। ঈদুল আযহা পরবর্তী সময়ে সারা দেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহতার আশংকা করছেন অনেকেই। বিভিন্ন উপজেলায় নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। গত ২৯ জুলাই জেলা সিভিল সার্জন অফিস জানিয়েছেন, চট্টগ্রামের ১৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার জন্য কিট, রিএজেন্টসহ সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সন্দ্বীপে ডেঙ্গু শনাক্ত করণের (এনআস ওয়ান) পরীক্ষার কিট পাঠানো হয়নি। যার ফলে জ্বরে আক্রান্ত হলে সেটা ডেঙ্গু কিনা তা নির্ণয় করা সম্ভব হচ্ছে না চিকিৎসকদের পক্ষে। ফলে বাধ্য হয়ে চট্টগ্রাম গিয়ে ডেঙ্গু জ্বর পরীক্ষা করাতে হবে। কোনো ব্যক্তি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে তা পরীক্ষা করার জন্য বৈরী আবহাওয়ায় ছুটতে হবে চট্টগ্রামে। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে নিরাপদ নৌ ব্যবস্থাজনিত কারণে চট্টগ্রামে পৌঁছানো হবে অনিশ্চিত। অপেক্ষা করতে হবে স্বাভাবিক আবহাওয়ার জন্য। হবে সময়ক্ষেপণ। কিন্তু ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর ৫-৭ দিনের মধ্যেই নির্ধারিত হয়ে যাবে রোগীর বাঁচা-মরার বিষয়। এই ৫-৭ দিনের প্রতিটি মুহূর্ত ডেঙ্গুরোগীর জন্য মহামূল্যবান। শনাক্তের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে সঠিক সময়ে ডেঙ্গু জ্বর শনাক্তকরণ না হলে জীবন হারানোর আতংকে ভূগছে সন্দ্বীপের বাসিন্দারা।
সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলুল করিম বলেন, ডেঙ্গু জ্বর পরীক্ষার করার জন্য যে ডিভাইস লাগে আমাদের কাছে নেই। আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ডিভাইস দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডিভাইস দিয়েও কি হবে! এখানে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ল্যাবরোটরির পদও শূন্য। তাহলে পরীক্ষা কে করবে!
এদিকে সন্দ্বীপের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সাথে যোগাযোগ করে জানা গেছে, শুধুমাত্র সিবিসি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) পরীক্ষা করে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন ডাক্তাররা। পরীক্ষা নির্ণয়ের ভালো কোন ডিভাইস নেই।
সন্দ্বীপ কালাপানিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মিরাজুর রহমান মিজান বলেন, আমার মা গত কয়েকদিন যাবত জ্বরে আক্রান্ত। বাড়ির পাশে সন্দ্বীপ উপজেলা কমপ্লেক্স হাসপাতাল কিন্তু সেখানে ডেঙ্গু পরীক্ষার কোন ডিভাইস নেই। জানতে পেরেছি বেসরকারি একটি হাসপাতালে পরীক্ষা করা যাবে। অনেক টাকা যাতায়াত খরচ দিয়ে সেখানে যেতে হবে। সরকারি হাসপাতালে থাকলে বিনামূল্যে করানো সম্ভব ছিল। মাদকমুক্ত তারুণ্য চাই এর আহবায়ক শামছুল আজম মুন্না বলেন, আমরা যে কেউ যে কোনো সময় জ্বরে আক্রান্ত হতে পারি। কিন্তু ডেঙ্গু জ্বর নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমাদের সন্দ্বীপের হাসপাতালগুলোতে নেই কোনো যন্ত্র। এটা খুবই দুঃখের বিষয়। এতে আমাদের জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। সম্মিলিত সন্দ্বীপ অধিকার আন্দোলনের আহবায়ক হাসানুজ্জামান সন্দ্বীপি আজাদীকে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এনএস ওয়ান পরীক্ষার ডিভাইসসহ ল্যাব টেকনলোজিস্ট দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।