সীতাকুন্ডে আখের বাম্পার ফলন , হাসি কৃষকের মুখে

পোস্টকার্ড প্রতিবেদন ।।

সীতাকুন্ডে আখের বাম্পার ফলন , হাসি কৃষকের মুখে
সীতাকুন্ডে আখের বাম্পার ফলন , হাসি কৃষকের মুখে

সীতাকুন্ড উপজেলায় আখের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। পাশাপাশি ন্যায্য দাম পেয়ে খুশী কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন বাজারগুলোতে আখের বেশ চাহিদা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সীতাকুন্ড উপজেলার আখ সুস্বাদু ও মিষ্টি বেশি হওয়ায় পাইকারদের কাছে এ আখের কদর অনেক বেশি।

আশানুরূপ ফলন ও ন্যায্য দাম পাওয়ায় এবার আখ চাষে সাবলম্বী হয়েছেন সীতাকুন্ডের অর্ধশতাধিক কৃষক। গতবারের তুলনায় এবার রোগবালাই কম হওয়ায় ও সঠিক সময়ে সেচের পানি পাওয়ার কারণে আখের দ্বিগুণ ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। পাশাপাশি বাম্পার ফলনের কারণে সীতাকুন্ডের সর্বত্র আখের চাহিদামতো সরবরাহ থাকায় সমান তালে আখ কিনছেন ক্রেতারা। পাইকাররা এ সব আখ সীতাকুন্ড উপজেলার বিভিন্ন বাজার থেকে ক্রয় করে বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাচ্ছে।
 
কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, কার্ত্তিক ও অগ্রাহায়ণের মাঝামাঝিতে আখের চারা রোপণের উপযুক্ত সময় । চারা রোপণের আগে প্রথমে জমির আগাছা ভালোভাবে  পরিষ্কার করতে হয়। প্রতি তিন হাত পরপর মাটি কেটে উঁচু জমিতে আঁটি তৈরি  করে  কয়েকদিন পর বিভিন্ন সার ও ওষুধ যেমন- পটাশ, ফসফেট, বাসুডিন ও গোবর একত্রে মিশিয়ে আঁটিতে পরিমাণমতো ছিটিয়ে দিতে হয়। এর পর মাটিকে কোদাল দিয়ে আলতো করে কুপিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে পানি প্রয়োগের পর প্রতি এক হাত অন্তর একটি করে আখের চারা লাগানো হয়। একমাস পর আগাছা পরিষ্কার করে পুনরায় মাটি ঝুরঝুরে করতে হয় এবং প্রতি তিনমাস পর পুনরায় আগাছা পরিষ্কার করে আখের আঁটিতে উত্তমরূপে মাটি দিতে হয়। এরপর প্রতিমাসে অন্তত দু'বার করে শুকিয়ে যাওয়া পাতা পরিষ্কার করতে হয়। এ ছাড়া ঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে আখ সুরক্ষিত রাখতে চার হাত পরপর বাঁশের কঞ্চি পুঁতে আখগুলোকে শক্তভাবে বেঁধে দেয়। প্রায় ১০ মাস পর শ্রাবণের শেষের দিকে জমি থেকে উৎপাদিত আখ কেটে বাজারে বিক্রি করা হয়।

সীতাকুন্ড উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার সীতাকুন্ডের পৌর এলাকা, বাড়বকুন্ড ইউনিয়ন, মরাদপুর ইউনিয়ন ও বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে অর্ধশতাধিক কৃষক আখের চাষ করেছেন। তবে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে আখের চাষ হয়েছে বাড়বকুন্ডের হাতিলোটা গ্রামে। এই গ্রামের আলমগীর,সাইদুল, মনির , হাসান উদ্দিন, জামাল উদ্দিন, সোলাইমান, কেরামত আলীসহ প্রায় ২০ জন কৃষক চার হেক্টর জমিতে আখের চাষাবাদ করেছেন। কৃষি কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীর কারিগরি সহযোগিতায় রোগবালাই দমনে সঠিক সময়ে কীটনাশক প্রয়োগসহ সময়পোযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ফলন হয় আশানুরূপ। এতে ১০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৭০ টন আখ উৎপাদিত হয়ে ।

বাঁশবাড়িয়া গ্রামের কৃষক শরিফুলের সাথে কথা বললে তিনি জানান, 'এবার ২৫ শতক জমিতে তিনি আখের চাষ করেছেন। আখের চারা রোপণ, বাঁশ, কীটনাশক ও শ্রমিকের বেতন বাবদ তার ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সঠিক সময়ে রোগবালাই দমন করায় তার জমি থেকে ৪ হাজার পিচ আখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। এতে তার খরচ বাদে প্রায় ৪০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে।'

সীতাকুন্ড উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাফকাত রিয়াদ জানান, 'সীতাকুন্ডের পৌরসভাসহ তিনটি ইউনিয়নে এবার ১০ হেক্টর জমিতে ৬০/৭০ টন আখের আবাদ হয়েছে। রোগবালাই দমনে কৃষি অফিসের কারিগরি সহযোগিতায় আশানুরূপ ফলনে লাভবান হয়েছে কৃষক। তিনি আরো জানান, বিভিন্ন রোগবালাই থেকে কৃষকরা যেন তাদের ফসল বাঁচাতে পারে সে জন্য যথাসময়ে কৃষি অফিসের মাধ্যমে সঠিক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফলন ভাল হওয়ায় আখ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।