সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাব : '৮৯ থেকে '৯৯

সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাব : '৮৯ থেকে '৯৯
সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাব : '৮৯ থেকে '৯৯

পোস্টকার্ড ডেস্ক ।।

সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাব- একটি স্বপ্ন, একটি বাস্তবতার নাম। প্রেস ক্লাব একটি জনপদের অসহায়, নির্যাতিত, অধিকার-বঞ্চিত মানুষদের শেষ আশ্রয়স্থল। আবার শােষক, সমাজবিরােধী ও দুর্নীতিবাজ চক্রের জন্য এ এক আতঙ্কের নাম। সংবাদকর্মীদের জন্য প্রেস ক্লাবকে বলা হয় দ্বিতীয় আবাসস্থল।

সীতাকুণ্ড কেন্দ্রিক সাংবাদিকতার সূচনার সঠিক দিনক্ষণ জানা নেই। ৮০'র দশকের আগে পুরােপুরি পেশানির্ভর হয়ে এখানে সাংবাদিক হিসেবে কেউ কাজ করেছেন কিনা তাও বলা মুশকিল। সীতাকুণ্ড থেকে পত্রিকা প্রকাশ এবং জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন খবর নিয়মিত মুদ্রিত হয় বলা চলে ৮০'র দশকের মধ্যভাগ থেকে। এক ঝাঁক তরুণ লিখিয়ে সে সময় পত্রিকা প্রকাশ করে, আঞ্চলিক-জাতীয় দৈনিকে সীতাকুণ্ডকে নিয়ে লিখে বেশ নজর কেড়েছিল জন মানুষের। ৯০'র দশকের গােড়া পর্যন্ত তরুণ লিখিয়েদের এক রমরমা অবস্থা ছিল এখানে। লেখা-লেখি, সাংবাদিকতায় সে এক অন্যরকম প্রতিযােগিতা! মূলত: তখনকার লিখিয়ে তরুণদের ঘিরেই গােড়াপত্তন হয় আজকের সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাব’এর। না! যৌথ নয়, গােড়াতেই সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাব’এর যাত্রা হয় বিভক্তির মধ্য দিয়ে। কোন কাজে সফলতার জন্য একতা এক অপরিহার্য শর্ত। কিন্তু প্রেস ক্লাবের মত জনহিতকর প্রতিষ্ঠান গড়তে সে সময় বড় হয়ে দেখা দিয়েছিল ব্যক্তিস্বার্থ, আপন মতের প্রাধান্য ও নেতৃত্ব-কর্তৃত্বের বিষয়টি। ফলে গােড়া থেকেই বিভাজন এবং অনৈক্যের রেখাটিই বড় হয়ে দেখা দিয়েছিল। হুট করে কমিটি গঠন, কার্যক্রমবিহীন কিছুদিন যাবার পর নিয়ম নীতির বালাই না করে আবার নতুন কমিটি গঠন এক রেওয়াজে পরিণত হয়েছিল। একতা ও পেশাগত উৎকর্ষের জন্য ৮০’র দশকের শেষের দিকে সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাব গঠনের বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে বেশ গুরুত্ব পায়। এ জন্যে প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করেন দৈনিক সংগ্রাম’র সীতাকুণ্ডস্থ নিজস্ব সংবাদদাতা মাহমুদুল হক। সীতাকুণ্ড থেকে যারা সে সময় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লিখতেন, এদের মধ্যে মাহমুদুল হক ছাড়া অন্যরা পেশা ও বয়সে ছিলেন একেবারেই নবীন ও তরুণ। তখন মাহমুদুল হকের সমকক্ষ বলা চলে আরেক জনকে তিনি হলেন, আব্দুল আজিজ মাহফুজ। মুন্সিগঞ্জ জেলার অধিবাসী মাহফুজ’র চাকুরীর সূত্রে সীতাকুণ্ডে অবস্থান এবং সাংবাদিকতা। তিনি মূলত: বারূদ’ ও ‘গিরি সৈকত' নামের মাসিক ও পাক্ষিক পত্রিকা প্রকাশ করে সীতাকুণ্ডের তরুণদের সাংবাদিকতায় টেনে আনেন। ডিক্লারেশন বিহীন এ পত্রিকা দুটি প্রকাশিত হয়েছিল প্রায় দু’বছর। এরপর নব্বইর দশকের সূচনায় মাহমুদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত সাপ্তাহিক উপনগর’ এর মাধ্যমেও এখানের অনেক তরুণ সাংবাদিকতায় প্রবেশের সুযােগ পান। মাহমুদুল হক অধ্যয়নের সূত্রে রাঙ্গুনিয়ায় অবস্থান কালে '৭৮ সাল থেকে সাংবাদিকতার সূচনা করেন। শিক্ষাজীবন শেষে নিজ এলাকা সীতাকুণ্ডে এসে শিক্ষকতা পেশায় প্রবেশ করেন '৮৫ সালে। কিন্তু নিজ এলাকায় সাংবাদিকতার নেশা তাকে আরাে তাড়া করে। '৮৯ সাল থেকে তিনি স্থানীয় বহু তরুণকে সাংবাদিকতার হাতেখড়ি দেন এবং জড়িত করান জাতীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়। সেই ৮০'র দশকে সীতাকুণ্ডে তরুণদের সাংবাদিকতার সূচনা এবং অনুপ্রেরণার নায়ক ছিলেন উপরােক্ত দু’জন; এখানে সাংবাদিকতার ইতিহাসে ‘গুরু’ হয়ে থাকবেন তাঁরা। সে সময় সীতাকুণ্ডের মত মফস্বল থানা থেকে যারা অপরিপক্ক হাতে লেখালেখি শুরু করেছিলেন, আজ একবিংশ শতাব্দীর সূচনায় তাদের অনেকেই দক্ষ মসি চালক। তাদের কেউ কেউ এখন ঢাকায় আবার কেউ কেউ চট্টগ্রাম শহরে পুরােদস্তুর সাংবাদিকতা পেশায় জড়িয়ে গেছেন। সীতাকুণ্ড থেকে তখন বিভিন্ন পত্রিকায় যারা লিখছিলেন, তাদেরকে নিয়ে একটি প্রেস ক্লাব প্রতিষ্ঠায় মাহমুদুল হক সহযােগী হিসাবে পান দৈনিক নয়াবাংলার সীতাকুণ্ড সংবাদদাতা স ম ঈসা সিদ্দিকী, দৈনিক গিরি দর্পণের সীতাকুণ্ড সংবাদদাতা হাসান আকবর, আ ফ ম বােরহান, গিরি সৈকতের কাজী ইমতিয়াজ হােসেন, সিরাজুল ইসলাম, আবুল হাসনাত প্রমুখকে।