সীতাকুণ্ডে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে একাধিক স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম

সীতাকুণ্ডে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে একাধিক স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম
সীতাকুণ্ডে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে একাধিক স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম

শিক্ষাঙ্গন ডেস্ক ।।

সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীর হাজ্বী টিএসি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক দুটি পদই বিগত ৬ বছর ধরে শুন্য । বিদ্যালয়ের এক সিনিয়র শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন। তাছাড়া ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কোন নির্বাচন ছাড়াই দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানা যায়। একইভাবে শিক্ষক নিয়োগও সভাপতির মনোনিত শিক্ষক হচ্ছে না বিধায় দীর্ঘ বছর দুটি পদ শুন্য রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে জানতে সভাপতিকে ফোন করলে, উনার ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব যায়নি ।

শুধু ভাটিয়ারীর হাজ্বী টিএসি উচ্চ বিদ্যালয় না সীতাকুণ্ড উপজেলার আটটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে দীর্ঘ বছর ধরে। বছরের পর বছর এভাবে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক না থাকায় স্কুলে শিক্ষা পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে মারাত্বক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে ।

জানা যায়, উপজেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা) রয়েছে সর্বমোট ৪২টি। তার মধ্যে আটটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও চারটি প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মারা যাওয়ায় পদ খালি রয়েছে। এছাড়া আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে ম্যানেজিং কমিটি ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছে না। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমেও মারাত্মক স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে। আর এই সুযোগে একক ক্ষমতার বলে প্রধান শিক্ষক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা চরম স্বেচ্ছাচারী আচরণ করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকেই ।

বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, যেকোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধানের দুটি প্রশাসনিক পদের বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে থাকেন প্রতিষ্ঠানটির চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় উপস্থিত থাকেন জেলা শিক্ষা অফিসের প্রতিনিধি, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও গভর্ণিং বডি অথবা ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা।

উপজেলার খাজা কালু শাহ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদশুন্য রয়েছে বিগত ৬ বছর। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অভাবে শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে না। সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কাসেম রাজা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদশুন্য রয়েছে বিগত ৬ বছর ধরে। এছাড়া সাবেক প্রধান শিক্ষক মারা যাওয়ায় পন্থিছিলা উচ্চ বিদ্যালয়েও পদ শুন্য রয়েছে। অন্যত্র চলে যাওয়ায় মসজিদ্দা উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়, কুমিরা বালক উচ্চ বিদ্যালয়, বাড়বকুন্ড উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটিও খালি রয়েছে। সোনাইছড়ি ইউনিয়নে অবস্থিত কুমিরা আবাসিক বালিকা স্কুল এন্ড কলেজে বিগত ১৭ বছর যাবত সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদশুন্য রয়েছে। অথচ দীর্ঘ সময়ের মধ্যে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য একবারও উদ্যোগ গ্রহণ করেননি স্কুল সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ভূমিকা না রাখার জন্য সংশ্লিষ্টরা দায়ী করেন প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান অধ্যক্ষ মো. নাসির উদ্দিনকে। একক ক্ষমতা ধরে রাখতে তিনি কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বলে অনেকের অভিযোগ করেন। তবে নিজের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে নাসির উদ্দিন বলেন, সীতাকুণ্ডের অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নাই। যে কোন কারণে অকারণে আমাদের প্রতিষ্ঠানে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। আমরা দ্রুত ম্যানেজিং কমিটির সাথে কথা বলে শুন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। সাদেক মস্তান (রহঃ) উচ্চ বিদ্যালয়, বাঁশবাড়িয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা, মুজাদ্দেদীয়া নূরীয়া ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী প্রধান শিক্ষক ও সহকারী সুপারদের পদও খালি রয়েছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সীতাকুন্ড উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা আলম সরকার বলেন, শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার দায়িত্ব স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির। আমরা শুধু প্রতিনিধিত্বকারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকি। তবে এভাবে বছরের পর বছর স্কুলে প্রধান শিক্ষক শুন্য খুবই দুঃখজনক। শুন্য পদ থাকা স্কুলগুলোর প্রধানদের সাথে কথা বলবো এবং যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি ।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;