বিভাগীয় সমাবেশের পর উজ্জীবিত বিএনপি, আন্দোলনের ইঙ্গিত শীর্ষ নেতাদের

বিভাগীয় সমাবেশের পর উজ্জীবিত বিএনপি, আন্দোলনের ইঙ্গিত শীর্ষ নেতাদের
বিভাগীয় সমাবেশের পর উজ্জীবিত বিএনপি, আন্দোলনের ইঙ্গিত শীর্ষ নেতাদের

মিনহাজ মাহমুদ।
বিভাগীয় মহাসমাবেশের পর চট্টগ্রামে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলো। দলের শীর্ষ নেতারা এই সমাবেশ থেকে দিয়ে গেছেন আন্দোলনে নামার ইঙ্গিত। আইনী প্রক্রিয়ায় নয়, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে-এমন বার্তা পেয়ে তৃণমূলে শুরু হয়ে গেছে আন্দোলনের প্রাথমিক প্রস্তুতি।

চট্টগ্রামের বিএনপি নেতারা বলছেন, মামলা-হামলার পরও তারা দমে যাননি। সংগঠিতই আছেন। যে কোন মুহুর্তে রাজপথে নামার প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। মহাসমাবেশে ব্যাপক উপস্থিতিই তার প্রমাণ। ২০ জুলাই নগরীর কাজীর দেউড়ি নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত ওই সমাবেশের পর নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।  কেন্দ্র থেকে  যে কোনো কর্মসূচি দেয়া হলে তা সফল করতে মাঠে থাকবেন উজ্জীবিত নেতাকর্মীরা।

বিএনপি নেতারা মনে করছেন, অনুমতি দিতে পুলিশ কালক্ষেপণ করলেও সমাবেশটি শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছে। প্রত্যাশা অনুযায়ি জনসমাগম ঘটেছে। মামলা ও নির্যাতনের ভয়ে এতোদিন যেসব নেতাকর্মী দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেননি তারাও খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন। সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। এতে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে যা আন্দোলনে নামতে ভরসা জোগাবে। যারা বলে বেড়াচ্ছেন- বিএনপি নিঃশেষ হয়ে গেছে, দলটির রাজপথে নামার সাংগঠনিক শক্তি নেই, এই সমাবেশের মাধ্যমে তাদের উপযুক্ত জবাব দেয়া  সম্ভব হয়েছে।

গত জাতীয় নির্বাচনের পর চট্টগ্রামে বড় ধরনের কোন শোডাউন করতে পারেনি বিএনপি। ছোটখাট দলীয় কর্মসূচিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা। নির্বাচনের আগে গত ২৭ অক্টোবর নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ৮ মাস পর গত শনিবার একই স্থানে অনুষ্ঠিত হল বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশ যেখানে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির দাবি, ৪ জুন সমাবেশের অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। দেয়া হয়েছে সমাবেশের আগের দিন অর্থাৎ শুক্রবার বিকেলে। তাও ২৭ টি শর্তে। এসব প্রতিবন্ধকতা না থাকলে উপস্থিতি আরও বাড়তো।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ আমরা দীর্ঘদিন ধরে লালদীঘির মাঠে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আসছি। কিন্তু পুলিশ তাতে বাধ সাধছে। আমাদের অনুমতি দেয়া হচ্ছে দলীয় কার্যালয়ের সামনের চত্ত্বরে, যা খুবই ছোট। শনিবারের সমাবেশ এই চত্ত্বর ছাড়িয়ে একদিকে এনায়েত বাজার মোড়, অন্যদিকে ওয়াসা মোড় ও চট্টেশ্বরী মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে পড়ে।’

ডা. শাহাদাত বলেন, ‘সমাবেশে মহাসচি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির ৬ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান, দলীয় চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এবং ১০ সাংগঠনিক জেলার নেতাকর্মীরা। শীর্ষ নেতাদের সবাই একবাক্যে বলেছেন- আইনী প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না। কারণ তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তাকে আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করতে হবে। এজন্য  নামতে হবে রাজপথে। শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে আন্দোলনের মেসেজ পাওয়া গেছে। আমরা প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছি। পরবর্তীতে আন্দোলন কর্মসূচি  দেয়া হলে তাতে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রস্তুত সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।’

বিভাগীয় পর্যায়ের এই সমাবেশের মাধ্যমে বিএনপি জনপ্রিয়তা ও  সাংগঠনিক শক্তি দুটোই দেখাতে পেরেছে বলে মনে করেন দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মাহবুবের রহমান শামীম।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কেউ কেউ বলেন- বিএনপির আন্দোলন করার ক্ষমতা নেই। এই সমাবেশের মাধ্যমে আমরা ক্ষমতা দেখিয়ে দিয়েছি। লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ ঘটেছে। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল এতে। আশা করছি ,খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শিগগিরই কেন্দ্র থেকে বড় ধরনের আন্দোলন কর্মসূচি আসবে। তার আগে এই সমাবেশ নেতাকর্মীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।’