প্রকাশ্যে চলছে জাপান টোব্যাকোর বিজ্ঞাপন!

প্রকাশ্যে চলছে জাপান টোব্যাকোর বিজ্ঞাপন!
প্রকাশ্যে চলছে জাপান টোব্যাকোর বিজ্ঞাপন!

কক্সবাজার প্রতিনিধি ।।

বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে বিজ্ঞাপন চালাচ্ছে জাপান টোব্যাকো ইন্ডাস্ট্রি। বিদ্যমান আইনি বিধি নিষেধ এড়িয়ে আগ্রাসী এ প্রচারে উদ্বেগ জানিয়েছে কক্সবাজারে কর্মরত তামাক বিরোধী বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

একে জাপান টোব্যাকোর মৃত্যু বিপণন কার্যক্রমের অন্যতম কূটকৌশল অভিহিত করে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর তামাকজাত পণ্যের সব ধরনের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ বিজ্ঞাপন ও প্রচার বন্ধ করতে হবে বলেও দাবি জানিয়েছেন তারা।

কক্সবাজারকে তামাকমুক্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইপসা। ইপসার প্রোগ্রাম অফিসার মো. হারুন বলেন, ‘ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনের পাঁচ ধারা অনুযায়ী, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনও তামাকজাত পণ্য বা তামাকের ব্যবহার প্রবর্ধনের উদ্দেশ্যে যে কোনও ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা নিষিদ্ধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ। কোনও ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান আইনের এই বিধান লঙ্ঘন করলে অনূর্ধ্ব তিন মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড বা অনধিক এক লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডনীয় হবে। কিন্তু জাপান টোব্যাকো বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশের পর থেকেই আইন ভঙ্গ করে বিভিন্ন উপায়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন তামাক বিক্রয় কেন্দ্রে তামাকপন্য সরাবরাহ করার ক্ষেত্রে জাপান টোব্যাকোর (জেটিআই) ব্র্যান্ড কালার এবং স্লোগান ‘জাপানিজ কোয়ালিটি’ সংবলিত টিশার্ট ও ভ্যান ব্যবহার করা হচ্ছে। তামাক কোম্পানির ব্র্যান্ড প্রমোশনের জন্য এই ধরনের কালার ও স্লোগান ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।’

সরেজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন স্থানে জাপান টোব্যাকোর (জেটিআই) ব্র্যান্ড কালার সংবলিত ভ্যানগাড়ি ও টিশার্ট করে মার্কেটিং করছেন কোম্পানির লোকজন। আদর্শ গ্রাম, বাহারছড়া গোল চত্বর, লালদিঘীর পাড়, হলিডে মোড়, টার্মিনাল এলাকা, সুগন্ধা ইত্যাদি এলাকায় প্রকাশ্যে চলছে এই ধরনের বিজ্ঞাপন।

এদিকে গত এপ্রিল মাসে কক্সবাজার শহরে বিভিন্ন স্থান থেকে সকল তামাকের বিজ্ঞাপন সরানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন মেয়র মো. মুজিবর রহমান। গত ৩ জুনের মধ্যে এসব অপসারনের নির্দেশ থাকলেও এখনো পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে থামানো যায়নি তামাকের মৃত্যু বিপণন। যদিও কক্সবাজারের অনেক স্থান থেকে বিভিন্ন তামাকের বিজ্ঞাপন অপসারন করেছেন পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ডামি বক্স, পোস্টার ফেস্টুনসহ বিভিন্ন বিজ্ঞাপন এ কার্যক্রমের আওতায় অপসারন করা হয়েছে।

জাপান টোব্যাকোর এই বিজ্ঞাপন প্রসঙ্গে কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম বলেন, বিদ্যমান আইন এড়িয়ে চলার কোনো সুযোগ নেই। আমরা এর যথাযথ ব্যবস্থা চাই।