পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত
পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত । ছবিঃ ইমরান হোসেন ইমু
নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
 
পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত (Patenga Sea Beach) বাংলাদেশের সুন্দর ও জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকতগুলোর মধ্যে অন্যতম। চট্টগ্রাম থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই সমুদ্র সৈকতে সহজেই যাওয়া যায় বলে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছেই। এছাড়া এই সৈকতকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্যে বেশ কিছু পরিকল্পণা বাস্তবায়িত হচ্ছে। ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পতেঙ্গা সৈকতকে আধুনিক ও বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ চলছে। ইতিমধ্যে সম্পন্ন হওয়া দৃষ্টিনন্দন সাজসজ্জা নজর কেড়েছে সবাইকে।
 
কর্ণফুলী নদী ও সাগরের মোহনায় অবস্থিত পতেঙ্গায় সূর্যোদয় কিংবা সূর্যাস্তের দৃশ্য খুবই মনোরম। বিশেষ করে বিকেল, সূর্যাস্ত ও সন্ধ্যার সময়টুকু অবশ্যই ভাল লাগবে। চট্টগ্রাম বন্দরের জন্যে অপেক্ষমান সারি সারি ছোট বড় জাহাজ এইখানের পরিবেশে ভিন্নতা নিয়ে আসে। পতেঙ্গায় রয়েছে স্পীড-বোটে চড়ে সমুদ্রে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ রয়েছে। সমুদ্র তীরে ঘুরে বেড়ানোর জন্যে আছে সী বাইক ও ঘোড়া। কেনাকাটার জন্যে আছে বার্মিজ মার্কেট। খাওয়া দাওয়ার জন্যে আছে হরেক রকক মজাদার স্ট্রিট ফুড।
 
পতেঙ্গা বিচের কাছেই রয়েছে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর ঘাটি, চট্টগ্রাম বন্দরের অনেক জেটি এবং প্রজাপতি পার্ক। এইসব গুলো জায়গা কাছাকাছি হওয়ায় ঘুরে দেখতে পারবেন একসাথেই। বন্ধু বান্ধব কিংবা পরিবার পরিজন নিয়ে সুন্দর সময় কাটানোর জন্যে চট্টগ্রাম জেলার এই পতেঙ্গা সৈকত আসলেই এক সুন্দর স্থান।
 
পতেঙ্গা যাওয়ার উপায়
 
পতেঙ্গা যেতে চাইলে প্রথমে আপনাকে চট্টগ্রাম আসতেই হবে। চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন উপায়ে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে যেতে পারবেন।
 
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম
 
ঢাকা থেকে সড়ক, রেল এবং আকাশপথে চট্টগ্রাম যাওয়া যায়। ঢাকার সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে সৌদিয়া, ইউনিক, টি আর ট্রাভেলস, গ্রিন লাইন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী, সোহাগ, এস. আলম, মডার্ন লাইন ইত্যাদি বিভিন্ন পরিবহনের এসি-নন এসি বাস চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। শ্রেণী ভেদে বাসগুলোর প্রতি সীটের ভাড়া ৫০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
 
ঢাকা থেকে ট্রেনে চট্টগ্রাম ভ্রমণ করতে চাইলে কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলস্টেশান হতে সোনার বাংলা, সুবর্ন এক্সপ্রেস, তূর্ণা-নিশীথা, মহানগর প্রভাতী/গোধূলী, চট্রগ্রাম মেইলে যাত্রা করতে পারেন। এছাড়া বেশকিছু বিমান ঢাকা থেকে সরাসরি চট্টগ্রাম ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে।
 
অন্যান্য জেলা থেকে চট্টগ্রাম
 
দেশের প্রায় সব জেলা থেকেই চট্টগ্রাম আসার ব্যবস্থা রয়েছে। পতেঙ্গা বীচে যাওয়ার জন্যে আপনি আপনার সুবিধামত যানবাহনে চট্টগ্রাম চলে আসুন।
চট্টগ্রাম থেকে পতেঙ্গা
 
চট্টগ্রাম জিরো পয়েন্ট থেকে পতেঙ্গা ১৪ কিলোমিটার দক্ষিনে অবস্থিত। চট্টগ্রাম শহর নিজস্ব গাড়ি, সিএনজি বা লোকাল বাসে করে পতেঙ্গা যেতে পারবেন। চট্টগ্রাম শহর থেকে যেতে সময় লাগবে এক ঘন্টার মত। সিএনজি দিয়ে গেলে ভাড়া নিবে ২৫০-২৮০ টাকার মত। বাসে যেতে চাইলে বেশ কিছু জায়গা থেকে সী বীচ গামী বাস লোকাল পাওয়া যায়, তার মধ্যে নিউমার্কেট, রেল স্টেশন রোড, বহাদ্দারহাট, লালখান বাজার মোড়, জিইসি মোড় এবং চক বাজার মোড় থেকে বাস পাবেন।
 
চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের সামনে থেকে যেতে চাইলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলে ৬ নং বাস পাবেন। তবে জিজ্ঞেস করে নিবেন সী বীচ পর্যন্ত যাবে কিনা। যদি বাস ফ্রিপোর্ট বা কাঠগড় পর্যন্ত যায় তাহলেও যেতে পারেন। সেখানে থেকে নেমে ইজিবাইকে করে বীচে যেতে পারবেন।
 
একদিনে পতেঙ্গা ভ্রমণ
 
ঢাকা থেকে চাইলে একদিনে পতেঙ্গা সহ আরও কোন জায়গা ঘুরে আবার ফিরে যেতে পারবেন। সেইক্ষেত্রে আপনাকে ঢাকা থেকে রাতের ট্রেন বা বাসে রওনা হতে হবে। সকালে চট্টগ্রাম পৌঁছে নাস্তা করে প্রথমেই চলে যান পতেঙ্গায়। সেখানে ঘুরে দুপুরে মধ্যে ফিরে এসে খাওয়া দাওয়া সেরে নিন। তারপর সোনার বাংলা ট্রেনে অথবা বাসে করে চলে আসুন ঢাকায়।
 
খাবেন কোথায়
 
পতেঙ্গা সী বিচেই স্ট্রিট ফুডের দোকান রয়েছে। সেখানে মজাদার বেশ কিছু খাবার পাওয়া যায় যেমন ভাজাপোড়া, পেয়াজু, কাঁকড়া ভাজা সহ সামুদ্রিক মাছ ভাজা খেতে পারেন। এছাড়া ফূড কোর্ট গুলোতে ফাস্ট ফুড আইটেম পাবেন খাওয়ার জন্যে।
 
যদি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবার চেখে দেখতে চান তবে চট্টগ্রাম শহরে এসে চলে যেতে পারেন হোটেল জামান-এ। আর মেজবানি খেতে চাইলে চলে যেতে পারেন চকবাজারে অবস্থিত “মেজবান হাইলে আইয়্যুন” রেস্তোরায়। এছাড়াও চট্টগ্রাম শহরে ছড়িয়ে আছে বেশকিছু ভাল মানের রেস্টুরেন্ট এদের মধ্যে বারকোড ক্যাফে, মিলেঞ্জ রেস্টুরেন্ট, গ্রিডি গাটস, ক্যাফে ৮৮, সেভেন ডেইজ, ধাবা, হান্ডির নাম, গলফ গার্ডেন রেস্টুরেন্ট, কোষ্টাল মারমেইড রেস্টুরেন্ট এন্ড লাউঞ্জ, বোনানজা পোর্ট রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
 
থাকবেন কোথায়
 
পতেঙ্গায় থাকার জন্যে বেশি অপশন নাই। চট্টগ্রাম শহরের কাছে বলে সাধারণত পর্যটকগণ রাতে থাকার জন্যে চট্টগ্রাম শহরেই চলে আসে। সৈকতের কাছে ভালো কোথাও থাকার জন্যে থাকতে পারেন বাটারফ্লাই পার্ক রিসোর্টে। এখানে থাকতে খরচ হবে চার হাজার থেকে সাত হাজার টাকা। এছাড়া কম খরচে পতেঙ্গার কাছে থাকতে হলে আপনাকে CEPZ এলাকায় কোন মাঝারি মানের হোটেলে থাকতে হবে।
 
আর আপনি যদি চট্টগ্রাম চলে আসেন তাহলে এখানে বিভিন্ন মানের অনেক হোটেল পাবেন। আপনার পছন্দমত ও বাজেট অনুযায়ী কোন এক হোটেল একটু যাচাই করে নিশ্চিন্তে রাত্রিযাপন করতে পারবেন। প‌্যারামাউন্ট রুম ভাড়া ৮০০ টাকা থেকে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত। হোটেল অবকাশ রুম ভাড়া ১২০০ থেকে ২০০০ টাকা। হোটেল লর্ডস ইন, সি এন্ড বি জিইসি মোড়, প্রতি রুম ভাড়া ২০০০ থেকে ৭০০০ টাকা পর্যন্ত। হোটেল এশিয়ান এসআর রুম ভাড়া ১৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা। আগ্রাবাদ অবস্থিত হোটেল ল্যান্ডমার্ক এ রাত্রি যাপন করতে গেলে রুম প্রতি নূন্যতম ২৫০০ টাকা খরচ করতে হবে। আর হোটেল রেডিসন ব্লু-তে থাকতে গেলে এক রাতের জন্য গুনতে হবে ১৮০০০ টাকা।
 
নোট: ঘুরতে গিয়ে পরিবেশ নষ্ট করে এমন কোন জিনিস পেলে আসবেন না।